স্বাস্থ্য খাতে ৪১ হাজার ২৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব

২০২০-২১ অর্থবছরে জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের জন্য ৪১ হাজার ২৭ কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট পেশকালে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এই প্রস্তাব করেন।
২০২০-২০২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের জন্যে সরকারের বরাদ্দ বেড়েছে ৩ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা।
গত অর্থবছরে (২০১৯-২০) এই খাতে বরাদ্দ ছিলো ২৫ হাজার ৭৩২ কোটি টাকা, যা এবার দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা।
এছাড়া, বাজেটে করোনাভাইরাস মহামারী মোকাবেলায় যে কোন জরুরি চাহিদা মেটানোর জন্যে ১০ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদে আজ তিনি এ বাজেট উপস্থাপন করেন।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০২০-২১ অর্থবছরের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা খাত ও পরিবার কল্যাণ বিভাগে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২৯ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা। গত অর্থ বছরে এর পরিমাণ ছিল ২৫ হাজার ৭৩২ কোটি টাকা। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সংক্রান্ত কার্যক্রম ১৩টি মন্ত্রণালয়/ বিভাগ বাস্তবায়ন করছে। আগামী অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে মোট বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ৪১ হাজার ২৭ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১.৩ শতাংশ এবং মোট বাজেটের ৭.২ শতাংশ।
বাজেট বক্তৃতায় স্বাস্থ্য খাত প্রসঙ্গে মুস্তফা কামাল বলেন, কোভিড-১৯ মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে ২টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। একটি হচ্ছে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ১ হাজার ১২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ঈঙঠওউ-১৯ ঊসবৎমবহপু জবংঢ়ড়হংব ধহফ চধহফবসরপ চৎবঢ়ধৎবফহবংং শীর্ষক প্রকল্প এবং অপরটি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সহায়তায় ১ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ঈঙঠওউ-১৯ জবংঢ়ড়হংব ঊসবৎমবহপু অংংরংঃধহপব শীর্ষক প্রকল্প। এ দুটি প্রকল্পের বাস্তবায়ন ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। ফলে কোভিড মোকাবিলায় আমাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, হৃদরোগ, ক্যান্সার ও কিডনি চিকিৎসা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে নতুন অর্থবছরে (২০২০-২১)। বিভাগীয় শহরে সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার চিকিৎসা ইউনিট স্থাপন, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে ১৫০ শয্যাবিশিষ্ট কার্ডিওভাস্কুলার ইউনিট স্থাপন, বিদ্যমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার সম্প্রসারণ ও জোরদার করা এবং সকল জেলা সদর হাসপাতালে নেফ্রোলজি ইউনিট ও কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাস্থ্যশিক্ষা ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তি খাতের গবেষণার উন্নয়নে আমি ১০০ কোটি টাকার একটি ‘সমন্বিত স্বাস্থ্য বিজ্ঞান গবেষণা ও উন্নয়ন তহবিল’ গঠন করার প্রস্তাব করছি। এ গবেষণা তহবিল দক্ষ ও কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য স্বাস্থ্য খাতে অভিজ্ঞ গবেষক, পুষ্টি বিজ্ঞানী, জনস্বাস্থ্য ও সমাজবিজ্ঞানী, অর্থনীতিবিদ, পরিবেশবিদ এবং সুশীল সমাজ ও অন্যান্য উপযুক্ত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করা হবে।’
তিনি বলেন, করোনা মোকাবিলায় রোগীর চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার জন্য জরুরি ভিত্তিতে দুই হাজার ডাক্তার এবং ছয় হাজার নার্স নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে ৩৮৬ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, দুই হাজার ৬৫৪ জন ল্যাব অ্যাটেন্ডেন্টসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া রাজস্ব খাতে ১,২০০ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ১৬৫০ মেডিকেল টেকনিশিয়ান এবং ১৫০ কার্ডিওগ্রাফারসহ সর্বমোট তিন হাজার নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়েছে।
মুস্তফা কামাল বলেন, করোনা সংক্রমণ যাচাইয়ের জন্য একটি স্ক্রিনিং অ্যাপ এবং এ ভাইরাসের কমিউনিটি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন জাতীয় কোভিড-১৯ ডিজিটাল সারভেইল্যান্স সিস্টেম প্রস্তুত করা হয়েছে। সেই সাথে করোনা মোকাবিলায় দুটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের ঋণে এক হাজার ১২৭ কোটি খরচে একটি এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ঋণে এক হাজার ৩৬৬ কোটি খরচে আরেকটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়াও করোনা মোকাবিলায় বেশকিছু পদক্ষেপ তুলে ধরা হয়েছে।