স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফোন ধরেন না, চিঠিরও উত্তর দেন না : জিএম কাদের

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের সমালোচনা করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদের বলেছেন, আমি তাকে ৬-৭ বার টেলিফোন করেছি। উনি টেলিফোন ধরেন না। শুধু ফোনই নয়, চিঠি দিলেও তার উত্তর দেন না।

আজ শনিবার সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের সমাপনী দিনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এসব অভিযোগ করেন তিনি।

জি এম কাদের বলেন, টেলিফোন করলে তারা ধরেন না। আমি মন্ত্রীকে ৬-৭ বার টেলিফোন করেছি। উনি টেলিফোন ধরেন না। ওনার বাবা আমাদের দল করতেন। ওনার বাবার সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক ছিল। কিন্তু ওনার কাছ থেকে এরকম ব্যবহার পেয়েছি। পত্র দিলে কোন উত্তর বা সমাধান মেলে না। সংসদ সদস্যরা অনেকেই তখন বাধ্য হয়ে সমাধানের লক্ষ্যে বিষয়গুলো সংসদে তুলে ধরেন। যদিও এরপর সমাধান তেমন একটা পাওয়া যায় না।

তিনি বলেন, রংপুর হাসপাতালে ডায়ালাইসিস মেশিনের পানি বিশুদ্ধকরণ অংশটি নষ্ট ছিল প্রায় আট মাস। ফলে ২৫টি ডায়ালাইসিস মেশিন অকেজো হয়ে পড়েছিল। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ৬ লাখ টাকা দান উঠিয়ে এটা মেরামত করা হয়েছে। বর্তমানে ২৫টির মধ্যে ১০টি কাজ করছে না। বারবার মন্ত্রণালয়ে জানিয়েও কোনো ফল হয়নি। আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রায় দুই তিন মাস আগে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সচিবকে মেরামতের অনুরোধ জানিয়েছিলাম। কোনো কাজ হয়নি। বর্তমানে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে সাধারণ রোগীর পাশাপাশি করোনা রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। সকল ধরনের রোগীকে জরুরি চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিছু যন্ত্রপাতি ও ওষুধের চাহিদা দিয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে চাহিদা পত্র দিয়েছে। লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চাহিদাকৃত যন্ত্রপাতি ও ওষুধ জরুরি ভিত্তিতে সরবরাহের কোনো ব্যবস্থা এখনও নেওয়া হয়নি।

মাদক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে মাদকের বিস্তার কোনোভাবেই কমছে না। শহর থেকে গ্রাম সর্বত্রই এখন হাতের নাগালে মাদক। এতে যেমন মাদকসেবীদের আর্থিক ও শারীরিক ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি মানসিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে পরিবার। মাদকে অভ্যস্থ হচ্ছে ছিন্নমূল শিশু থেকে শুরু করে সমাজের উচ্চবিত্তরাও। করোনা মহামারিতে এর বিস্তার আরও বেড়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। সম্প্রতি এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ এলএসডি বা লাইসার্জিক এসিড ডায়েথিলামাইড, ক্রিস্টাল মেথ বা আইস, খাট বা মিরা নামক নতুন নতুন মাদকের সন্ধান পান। সেজন্য মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি বিশেষায়িত বিভাগ খোলা জরুরি।

জিএম কাদের বলেন, সামনে ঈদুল আযহা বা কোরবানির ঈদ আসছে। বিগত কয়েক বছরের মতো এবারও হয়তো চামড়ার প্রকৃত দাম নিয়ে সংকট সৃষ্টি হতে পারে। চামড়ার প্রকৃত বাজার দর নিশ্চিত করতে এর সিন্ডিকেট ভাঙতে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।