সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক ও জালিয়াদ্বীপের নাফ ট্যুরিজম পার্ক পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় নির্মাণাধীন সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক এবং নাফ নদীতে গড়ে উঠা জালিয়াদ্বীপের নাফ ট্যুরিজম পার্ক পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস।

সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সরেজমিনে পরিদর্শনের অংশ হিসেবে এই সফর করেন তিনি। এসময় তাঁর সাথে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান (সিনিয়র সচিব) শেখ ইউসুফ হারুন, মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও অর্থ) (যুগ্ম সচিব)  মোহাম্মদ হাসান আরিফ, সাবরাং ট্যুরিজম পার্কের ব্যবস্থাপক (উপ-সচিব) মাহবুরুর রহমান, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মোঃ কামরুল হাসান, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ মামুনুর রশীদ সহ বেজা’র ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

সাবরাং ট্যুরিজম পার্কে এরই মধ্যে প্রশাসনিক ভবন, ডাইক নির্মাণ, ব্রিজ নির্মাণ, ছয় ভেন্ট স্লুইস গেট (রেগুলেটর) নির্মাণ এবং বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ শেষ হয়েছে। চলতি বছরের জুনে সাবরাং ট্যুরিজম পার্কের আইকনিক ফটো কর্নার উদ্বোধন করা হয়। এছাড়া এখানে প্রতিরক্ষা বাঁধ, ভূমি উন্নয়ন কাজসহ পানি সরবরাহ লাইন ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ চলমান আছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে দুটি গেট ও অভ্যন্তরীণ সড়ক নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে।

৯৬৪.৯৫ একর আয়তনের এই পার্ক কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নে অবস্থিত। পার্কটি ঢাকা থেকে প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার ও কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ৮২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। মেরিন ড্রাইভের মাধ্যমে ট্যুরিজম পার্কের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ রয়েছে। তাছাড়া নিকটস্থ জাতীয় মহাসড়ক এন-১-এর মাধ্যমে ট্যুরিজম পার্কের সঙ্গে দেশের অন্যান্য এলাকার সড়ক যোগাযোগ বিদ্যমান। এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সাবরাং ট্যুরিজম পার্কে প্রতিদিন দেশি-বিদেশি ৩৯ হাজার পর্যটক উপভোগ করতে পারবে। এতে করে প্রায় ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে।

ট্যুরিজম পার্ক পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস সাবরাং ট্যুরিজম পার্কের সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সারাদেশে পরিকল্পিত শিল্পায়নের অংশ হিসেবে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে। পাশাপাশি সারা বিশ্বের পর্যটকদের আকৃষ্ট করার জন্য গড়ে তোলা হচ্ছে ট্যুরিজম পার্ক। দেশের পর্যটন খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উনীত করার ক্ষেত্রে এই ট্যুরিজম পার্কগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেও আশাবাদ প্রকাশ করেন তিনি।

বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান (সিনিয়র সচিব) শেখ ইউসুফ হারুন বলেন, সাবরাং ট্যুরিজম পার্কে বেশ কিছু বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে জমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বেজা সাবরাং ট্যুরিজম পার্কে গ্যাস, পানি, বিদ্যুতের মতো ইউটিলিটির ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে বলে জানান তিনি। এসব প্রতিষ্ঠানকে অতি দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করার তাগিদ দেন ইউসুফ হারুন। পাশপাশি এই অঞ্চলের প্রকৃতি ও জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণে রেখে পাঁচ কিলোমিটার সমুদ্র সৈকত পর্যটকদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে বলেও জানান বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান।

বেজা জানিয়েছে, সাবরাং ট্যুরিজম পার্কে গ্রেট আউটডোর অ্যান্ড অ্যাডভেঞ্চার লিমিটেড, গ্রিন অরচার্ড হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস লিমিটেড এবং সানসেট বে লিমিটেড-এই তিন প্রতিষ্ঠান ৫.৫ একর জমিতে ৩২.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে পাঁচ তারকা ও তিন তারকা মানের হোটেলসহ পর্যটন বান্ধব বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। এছাড়াও বিনিয়োগকারীর তালিকায় নেদারল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরের দুটি প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। মোট প্রস্তাবিত বিনিয়োগের পরিমাণ ৩৩৪.৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।