সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়ালেন পুলিশ প্রধান ড. বেনজির আহমেদ

অত্যন্ত সংক্রামক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারানো তিন সাংবাদিকের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন পুলিশের আইজিপি ড. বেনজির আহমেদ। তাদের পরিবারকে দুই লাখ টাকা করে আর্থিক অনুদান ও ঈদ উপহার দিয়েছেন তিনি।

দৈনিক সময়ের আলো পত্রিকার সিটি এডিটর হুমায়ুন কবীর খোকন, একই পত্রিকার সিনিয়র সাব-এডিটর মাহমুদুল হাকিম অপু এবং দৈনিক ভোরের কাগজের অপরাধ বিষয়ক প্রতিবেদক আসলাম রহমানের পরিবারকে সম্প্রতি এই অনুদান দেন। এছাড়া ঢাকা শহরে বসবাসরত কয়েকশ সাংবাদিক পরিবারকে রোজায় উপহারসামগ্রী দিয়েও সহযোগিতা করেছেন আইজিপি।

বৈশ্বিক মহামারি প্রাণঘাতী কোভিড-১৯ প্রার্দুভাবের শুরু থেকে পুলিশ প্রধান ড. বেনজির আহমেদ পেশাগত দায়িত্বের পাশপাশি এক মানবিক মানুষ হিসেবে কাজ করছেন। যা তাকে এক অনন্য উচ্চতায় অধিষ্ঠিত করেছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণে রাজনৈতিক সামাজিক ব‍্যক্তিবর্গের মতো মানবিকতার ধারা অব্যাহত রেখেছেন পুলিশ প্রধান।

এ ব‍্যাপারে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিউজে) সাবেক যুগ্ম সম্পাদক গাজী জহিরুল ইসলাম বলেন, এই ক্রান্তিলগ্নে প্রায় পাঁচশত সাংবাদিক পরিবারকে পুলিশের আইজিপি সাহেব সহযোগিতা করেছেন বলে জানতে পেরেছি। এ কারণে তাকে অভিনন্দন জানাই। পাশাপাশি তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তিনি আরো বলেন, এর আগে দেশে অনেক দুর্যোগ এসেছে এবং তখনও আইজিপি ছিলেন। কাউকে বর্তমান আইজিপির মতো সাংবাদিক পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর কথা শোনা যায়নি।।

সময়ের দানবীর পুলিশ প্রধান বেনজির আহমেদ সামাজিকভাবে, অনানুষ্ঠানিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, শুভানুধ‍্যায়ী সাংবাদিক পরিবারের প্রতি তার উদারতা উৎস্বর্গ করে দিচ্ছেন গোপনে। করোনা প্রার্দুভাবে রাজনৈতিক সামাজিক ব‍্যক্তিবর্গের মতো মানবিকতার ধারা অব্যাহত রেখেছেন পুলিশ প্রধান।

পুলিশ প্রধান ড. বেনজির আহমেদ ঈদ উপহারের নামে গোপনে সাংবাদিক পরিবারকে যে সহায়তা করছেন, এতে সাংবাদিক পরিবারগুলো তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। সংবাদ কর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে অভিহিত করছেন ‘মানবিকতার আইকন’ হিসেবে। তাঁর প্রতি জানানো হচ্ছে অশেষ কৃতজ্ঞতা।

বেকার, অস্বচ্ছল, কমবেতন ভোগী শত শত সাংবাদিক পরিবারকে গোপনে সহয়তা করলেও শেষ পর্যন্ত গোপন থাকেনি সেটি। অনেক উকারভোগী সাংবাদিক মনে করেন এটি গোপন রাখা সম্ভবও না যারা উপহার পাচ্ছে তারা নিজেই প্রকাশ করা শুরু করেছে। কারণ পুলিশ প্রধান ড. বেনজির আহমেদ দীর্ঘদিন র‍্যাবের ডিজি ছিলেন। তখন তার হুংকারে দেশের মাদক বিক্রেতা, সন্ত্রাসী ও অপরাধীরা ভীত থাকতো। এর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের এক ধরনের ধারণা তৈরি হয়েছিল তাকে নিয়ে, মানুষ মনে করতো পুলিশ কখনও কি মানবিক হতে পারে! তার এই মানবিকতা পুলিশের প্রতি মানুষের ধারণা পরিবর্তন হতে চলছে। তার এ ধরনের কর্মকাণ্ড পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি তথা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলেও মনে করেন সচেতন মানুষ।

ইতিমধ্যে পুলিশ প্রধানের এমন কার্যক্রমের কারণে বেনজির আহমেদকে অনেকেই দানবীর হাজী মুহাম্মদ মহীসনের সঙ্গে তুলনা করছেন।

সিনিয়র সাংবাদিক শহীদ হাসান বলেন, পুলিশের কাজের বাইরে এ ধরনের সামাজিক কাজ পুলিশ বাহিনীকে অনন‍্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

এদিকে একাধিক সংবাদ কর্মীরা জানিয়েছেন, আমরা প্রত্যেক পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ড. বেনজির আহমেদের মতো মানবিকতা ও মহানুভবতা সব পুলিশ সদস্যের ভেতরেও আমরা এরকম দেখতে চাই। তাহলেই পুলিশকে মানুষ শত্রু হিসেবে নয় বন্ধু হিসেবেই সব সময় মনে করবে।