সরকার পতনের পর দেশে একটি কাঙ্ক্ষিত নির্বাচন হবে : রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশে একটা স্বচ্ছ নির্বাচন হবে এটাই হচ্ছে জন আকাঙ্ক্ষা। জনগণ যাকে ইচ্ছা ভোট দেবে। কারণ জনগণ হচ্ছে দেশের মালিক। কিন্তু এটা তো সরকার ভুলে গেছে। তারা তো আবারও কে এম নূরুল হুদার মতো কাউকে নির্বাচন কমিশনার বানাবে। তা ছাড়া কাউকে নির্বাচন কমিশন বানাবে না। আজকে ডাকাতির নির্বাচন চান প্রধানমন্ত্রী। সেই নির্বাচন বৈধতা দান করেন তার মন্ত্রী এমপি আর সাঙ্গপাঙ্গরা। সুতরাং নিরপেক্ষ নির্বাচন কেমনে হবে?

আজ বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তৃতীয় তলার মাওলানা আকরাম খাঁ হলে ‘গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন এবং জন আকাঙ্ক্ষা’ শীর্ষক এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে হলে গ্রহণযোগ্য সরকার থাকতে হবে। সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে যে নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় নির্বাচন কমিশন হবে সেই কমিশনের অধীনে দেশের মানুষের কাঙ্ক্ষিত নির্বাচন হবে।

এ সময় তিনি বলেন, দেশের পত্রিকা ও টিভিতে শুধু একজনেরই খবর। তিনি আজ প্রধানমন্ত্রী নন। তিনি এখন সম্রাজ্ঞী, রাণী। এভাবে কোনো গণতান্ত্রিক দেশে প্রধানমন্ত্রী বা কারো এমন প্রচারণা হয় বলে জানা নেই! আজকে তিনি সুলতানা রাজিয়া সেজেছেন। বাস্তবে তিনি মহারাণী। সেভাবেই তার জন্মদিন পালন করলেন। এমনকি সুশীল বলে পরিচিত কিছু পত্রিকার কাভার পৃষ্ঠা জুড়ে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ছেপেছে।

রিজভী বলেন, বাংলাদেশ থেকে ১১ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়ে গেলো সেটা নিয়ে তো কথা বলেনা। সেই টাকা দিয়ে মালয়েশিয়া, কানাডার বেগম পল্লী কেনা হচ্ছে। দুবাইয়ে, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্রে ও যুক্তরাজ্যে বিলাসবহুল বাংলো কেনা হচ্ছে। কারণ এ দেশে যদি কোনো কিছু ঘটে তাহলে তারা আরব্য রজনীর আলিফ লায়লার মতো সুখে শান্তিতে বিদেশে বসবাস করতে পারবেন। এটাই হচ্ছে তাদের লক্ষ্য।

তিনি আরো বলেন, ওবায়দুল কাদের বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নাকি ব্র্যান্ড? তো প্রধানমন্ত্রী কিসের ব্র্যান্ড? তিনি তো টাকা পাচার করার ব্র্যান্ড, সাহেদ-সাবরিনার উত্থান আর গুম খুনের ব্র্যান্ড। তিনি তো গণতন্ত্র হত্যাকারী ব্র্যান্ড। দিনের ভোট নিশিরাতে করার ব্র্যান্ড। এটাতো ওবায়দুল কাদেরের বলা উচিত ছিলো। তারা সেটা বলেননি। প্রধানমন্ত্রী তো দেশকে দু:স্বপ্নের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আরো থাকলে দেশের মানুষের স্বপ্ন দু:স্বপ্নের দিকে ধাবিত হবে। আর তারা বলছেন স্বপ্নের ঠিকানায় নিয়ে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী।

সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, খোন্দকার আবদুল হামিদ ডাবলু, ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী রাহেলা আক্তার রঞ্জু প্রমুখ।