শেখ হাসিনা বাঙালির আশা-আকাঙ্খার প্রতীক : হানিফ

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুধু বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রনায়ক নয় বরং আজ বিশ্ব পরিমণ্ডলে একজন অনন্য যোগ্যতা সম্পন্ন বিচক্ষণ রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হয়েছেন। বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তোলার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। শেখ হাসিনা আজ বাঙালির আশা-আকাঙ্খার প্রতীক। তিনি তার মেধা ও কর্ম দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের মুকুট মণিতে পরিণত হয়েছেন।

সোমবার সকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে ‘নব উত্থানের নব সোপানে বাংলাদেশ’ শীর্ষক বিশেষ আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হানিফ বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজ বাংলাদেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি সারাবিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেলে বিবেচিত হচ্ছে। তার মহানুভবতা সারাবিশ্বে প্রশংসিত। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে, করোনা মহামারিতে তাদের টিকার ব্যবস্থা করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। শেখ হাসিনা মমতাময়ী মায়ের মতো। তিনি দলকে নেতৃত্ব দেয়ার মতো যেমন সাহসী, ঠিক তেমনি তার মানবিক গুণাবলীও মায়ের মতো। এদেশের গরিব-দুঃখী মানুষ তার কাছে বেঁচে থাকার আশ্রয় পেয়েছে। এদেশের সাধারণ মানুষের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছেন। মহানুভবতার জন্য বিশ্বপরিমণ্ডলে বারবার পুরস্কৃত হয়েছেন।

কাজ না করেও বাংলাদেশে এখন ভাতা পাওয়া যায় উল্লেখ করে হানিফ বলেন, তিনি বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতার ব্যবস্থা করেছেন। ১৪০টি ক্যাটাগরিতে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে শেখ হাসিনা দলের হাল ধরেন। আজ ২০২১ সাল। এই দীর্ঘ ৪০ বছরের পথচলা কিন্তু সহজ ছিল না। অত্যন্ত ঝড়, ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সময় পাড়ি দিতে হয়েছে। বারবার তাকে আঘাত করা হয়েছে, কারাবরণ করতে হয়েছে। নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও তিনি কখনো ভীত হননি। পিতার মতো জননেত্রী শেখ হাসিনা ছিলেন অকুতোভয় লড়াকু সৈনিক। স্বৈরশাসনের পতনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

হানিফ বলেন, শেখ হাসিনা বাঙালিকে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশ গড়ে তোলার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর প্রথম বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার শুরু করে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে দেশকে বের করে এনেছেন। রাজাকার, আল বদরসহ গণহত্যায় যারা নেতৃত্ব দিয়েছিল তাদের বিচারের দাবি ছিল এদেশের জনগণের। সেই বিচারও শুরু করেছেন তিনি। ইতোমধ্যে যুদ্ধাপরাধী অনেকের রায় কার্যকর করার মধ্য দিয়ে ৩০ লাখ শহীদের আত্মাকে অভিশাপ থেকে মুক্ত করার পথ সুগম করেছেন।

আওয়ামী লীগের এ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, শেখ হাসিনা শুধু একজন লড়াকু যোদ্ধাই নয়, সাহসী নেত্রী। একজন অত্যন্ত বিচক্ষণ, প্রজ্ঞাবান নেতা। একজন দূরদর্শী সম্পন্ন নেত্রী। তিনি তার শাসনামলে বাংলাদেশেকে চরম দারিদ্রশীল দেশ থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে পরিণত করেছেন। বিশেষ করে ২০০৮ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই ১২ বছরে দেশকে এক অভূতপূর্ব উন্নয়নের শিখরে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ছিল চরম দারিদ্রশীল দেশ। মাত্র ৬০০ ডলার মাথাপিছু আয় নিয়ে যাত্রা শুরু করে এই ১২ বছরে সেই আয় এখন প্রায় ২৩০০ ডলারে পৌঁছেছে। দেশের রিজার্ভ এখন ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। যেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করেছিলাম। আজকে তাদের চেয়ে আমাদের দ্বিগুণের বেশি রিজার্ভ আছে। আমাদের রফতানি আয় বেড়েছে। ২০০৯ সালে আমাদের রফতানি আয় ছিল ৮ বিলিয়নের নিচে, আজ সেই রফতানি আয় বেড়ে ৪২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ৫ বিলিয়নের রেমিটেন্স নিয়ে যাত্রা শুরু করে এখন ৩৪ বিলিয়নে ডলারে পৌঁছেছে। এই সবকিছু সম্ভব হয়েছে বিচক্ষণ নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের কারণে।

তিনি আরো বলেন, গেল ১২ বছরের পথ চলা সহজ ছিল না। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হওয়ার পর ২০১২ সাল থেকে বিএনপি-জামায়াত যৌথভাবে আন্দোলন শুরু করে। ২০১৩ সালে সারা দেশে জ্বালাও-পোড়াও সহিংসতা করে দেশকে অস্থিতিশীল করে অচল করার চেষ্টা করেছে। ২০১৪ সালে নির্বাচনে সুষ্ঠু করার ঘোষণা দিয়ে মাঠে নেমে তারা ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ চালিয়েছে। ২০১৫ সালে তারা পেট্রোল বোমার সন্ত্রাস চালিয়েছিল। ৯২ দিন শত শত মানুষকে পেট্রোল বোমা দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। এই সমস্ত পৈশাচিক কর্মকাণ্ড দেশের ক্ষয়ক্ষতিকে মোকাবেলা করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। আর দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কারণে বিশ্ব আজ আমাদেরকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

হানিফ বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা বিরোধী চক্র রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছে। স্বাধীনতােবিরোধী চক্রের মূল হোতা জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে একে একে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পথ বন্ধ করে দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি শুরু করেছে। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে যারা স্বাধীনতার বিরোধীতা করেছে মুক্তিকামী রাজাকার, আল বদর আশ শামস তাদেরকে দালাল আইন বাতিল করে দেশে সুযোগ দিয়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত দল জামায়াতে ইসলামী কুখ্যাত রাজাকার গোলাম আযমকে দেশে ফিরিয়ে রাজনীতি করার সুয়োগ দিয়েছে। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য হাজার হাজার নয় লাখ লাখ নেতা-কর্মীদেরকে মিথ্যা মামলা, জেল জুলম শুধু নয় গুম করে দলকে বিপর্যস্ত করেছে।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের লক্ষ্য ছিল একটাই স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে নিঃশ্বেষ করা। সরকার গঠন করেছিলেন স্বাধীনতা বিরোধী, রাজাকার, আল বদরদের দিয়ে। স্বাধীন রাষ্ট্রকে আস্তে আস্তে পাকিস্তানী ভাবধারায় মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান, বাঙালির স্লোগান জয় বাংলা নির্বাসনে পাঠিয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে যখন হত্যা করা হয় সৌভাগ্যক্রমে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বেঁচে যান। সেসময় প্রাণে বেচে গিয়েছিলেন বলেই আজ বাংলাদেশের মানুষ নতুন করে স্বপ্ন দেখছে। স্বাধীন দেশে উন্নয়ন, অগ্রগতিতে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। স্বাধীনতা বিরোধী চক্র এখনো দেশে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছে। এসব ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া বিশেষ আলোচনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বিবি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান বাহাদুর বেপারী।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু বলেন, বাংলাদেশ দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। করোনায় সারাবিশ্ব যখন থমকে গেছে আওয়ামী পরিবারে প্রতিটি কর্মী হৃদয় দিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে তার কারণ শেখ হাসিনা। তিনি মহান শিক্ষক। প্রত্যেক দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের উত্থানে পুরো পৃথিবী অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকে। তিনি দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক তা প্রমাণ করেছেন। আজ দেশে গড় আয়ু, মাথাপিছু আয় বেড়েছে। শিশু মৃত্যু, মাতৃমৃত্যু, দারিদ্রতার হার কমেছে। সবাই সূচকে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু হচ্ছে, মেট্রো রেল, পাতাল রেল হচ্ছে, গণমানুষের নেত্রীর কারণে হচ্ছে। বেঁচে থাকলে আমরা উন্নত দেশ হিসেবে পৃথিবীর বুকে দাঁড়াতে পারব।

আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহ-সভাপতি সালেহ মোহাম্মদ টুটুল, শেখ মজলিস ফুয়াদ, সাবেক ছাত্রনেতা এডভোকেট তারিক হাসান পলাশ ও বিবি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান তপন প্রমুখ।