শহীদদের স্মরণে কল্যাণপুরে মনুমেন্ট তৈরি করে দেবো : মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

১৯৭১ সালে ত্রিশ লক্ষ শহীদ ও চার লক্ষ নারীর সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমরা লাভ করেছি মহান স্বাধীনতা। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধর পর, এত অল্প সময়ে একটি দেশে এত মানুষ হত্যা আর কোথাও হয়নি। সারা বাংলাদেশে যে অসংখ্য গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে, ঢাকার কল্যাণপুরও তার একটি নীরব সাক্ষী।

২৮ এপ্রিল ১৯৭১ সাল কল্যাণপুরের জন্য বিভীষিকাময় একটি দিন। সেদিন ভোরবেলায় মিরপুর ও মোহাম্মদপুরের বিহারীরা মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও এ দেশীয় কিছু সংখ্যক দালালের সহযোগিতায় পুরো কল্যাণপুর ঘিরে ফেলে। অগ্নিসংযোগ-লুটপাট ও বাঙালি হত্যায় মেতে ওঠে তারা। নারী, পুরুষ ও শিশু কেউ সেদিন এই হায়েনাদের হাত থেকে রেহাই পায়নি। প্রায় তিনশত নিরপরাধ মানুষকে তারা সেদিন নির্মমভাবে হত্যা করে কল্যাণপুরে।

কল্যাণপুরের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও তাঁদের স্মৃতির স্মরণে গতকাল ২৮ এপ্রিল বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ‘কল্যাণপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ এর ফিরোজ-মাজিরা মিলনায়তনে এক স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম. মোজাম্মেল হক বলেন, ধর্মের নাম নিয়ে এক শ্রেণির মানুষ অত্যাচার করে থাকে যা বিগত মাসেও আমরা দেখেছি তারা কীভাবে তাণ্ডব চালিয়েছিল। তারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের জন্য ধর্মের নাম ব্যবহার করে থাকে। ১৯৭১ সালের ২৮ এপ্রিল কল্যাণপুরে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি এবং ফিরোজ-মাজিরা ফাউন্ডেশনের সভাপতি আরিফ আহমেদ চৌধুরীর অনুরোধে শহীদদের স্মরণে কল্যাণপুরে একটি মনুমেন্ট তৈরি করে দেবো আমার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে ফিরোজ-মাজিরা ফাউন্ডেশনের সভাপতি জনাব আরিফ আহমেদ চৌধুরী বলেন, কল্যাণপুরের শহীদদের সম্মানে একটি মনুমেন্ট তৈরির প্রয়োজন, যেখানে সকল শহীদের নাম অঙ্কিত থাকবে। মন্ত্রী মহোদয়ের প্রতিশ্রুত মনুমেন্টটি অতি শিগগিরই আমরা দেখতে পাবো বলে আশা রাখছি। তিনি কল্যাণপুরের সকলস্তরের মানুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন, সভাটি সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য এবং এই স্মরণ সভাটি প্রতিবছর পালন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।