শর্ত মেনে নেওয়ায় হিলি স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি স্বাভাবিক

ভারতের ব্যবসায়ীদের শর্ত মেনে নেওয়ায় স্বাভাবিক রয়েছে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পণ্য আমদানি। বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রপ্তানি বন্ধ রাখলেও ভারতীয় ব্যবসায়ীরা বৈঠক শেষে দুই দেশের মাঝে বাণিজ্য কার্যক্রম শুরু করে।

বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় ভারত থেকে পণ্য বোঝাই একটি ট্রাক বন্দরে প্রবেশের মধ্যে দিয়ে এই কার্যক্রম চালু হয়।

পিয়াজসহ আমদানিকারকদের কিছু কাঁচা পণ্য আটকে থাকায় ভারতীয় ব্যবসায়ীদের দেওয়া শর্ত মেনে নেয় দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ীরা।

হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ বলেন, মঙ্গলবার রাতে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের দেওয়া এক চিঠির ভিত্তিতে আমরা বন্দরের আমদানি-রফতানিকারক সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা জরুরি বৈঠকে বসে। বৈঠকে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের দেওয়া চিঠি, আমাদের চিঠি, করোনা পরিস্থিতিসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে প্রচুর পরিমাণে পিয়াজসহ অন্যান্য কাঁচা পণ্য দেশে প্রবেশ অপেক্ষায় আটকে আছে। এসব পিয়াজ যদি সময়মতো ঢুকতে না পারে তাহলে পণ্য পচে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।

হারুন উর রশীদ বলেন, সেই বিষয়টি বিবেচনা করে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের যে দাবি ছিল নির্ধারিত সময় পর্যন্ত সব পণ্য নিতে হবে, সেটি আমরা আপাতত মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ বিষয়ে ইতোমধ্যেই তাদের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয়েছে। এরপরও আমাদের পক্ষ থেকে তাদেরকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানানো হয়। এতে করে বুধবার থেকে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা রফতানি বন্ধের কথা বলেছিল সেটি হয়নি।

তিনি আরও বলেন, বুধবার বন্দর দিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নির্ধারিত সময় বিকেল ৪টা পর্যন্ত যে কয়টি ট্রাক প্রবেশ করতে পারে ও আমদানি-রফতানি বাণিজ্য স্বাভাবিক থাকবে। একইভাবে বৃহস্পতিবারও বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি চলবে। তবে এ বিষয়ে আগামী শুক্রবার সীমান্তের শূন্যরেখায় দু’দেশের ব্যবসায়ীদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেই বৈঠকে পরবর্তী বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

উল্লেখ, ভারতীয় ব্যবসায়ীরা স্বাস্থ্যবিধি মানতে অনীহা প্রকাশ করে ৬ জুন বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের চিঠির মাধ্যমে ৯ জুন বুধবার থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেয় তারা। তবে চিঠিতে তাদের দেওয়া ৪টি শর্ত বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা মেনে নেওয়ায় কয়েক ঘণ্টা আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর আবারও সকল কার্যক্রম চালু হয়।