রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যা মামলা: গ্রেফতার ৩ জনের ২ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গাদের শীর্ষ নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যা মামলায় গ্রেফতার তিনজনের ২ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাং হেলাল উদ্দিনের আদালত রিমান্ড শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে সোমবার উখিয়া থানা পুলিশ আদালতে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

রিমান্ড মঞ্জুর করা গ্রেফতার তিনজন রোহিঙ্গা হলেন কুতুপালং ক্যাম্প-১ এর ডি-৮ ব্লকের আব্দুল মাবুদের ছেলে মোহাম্মদ রশিদ প্রকাশ মুরশিদ আমিন, একই ক্যাম্পের বি-ব্লকের ফজল হকের ছেলে মোহাম্মদ আনাছ ও নুর ইসলামের ছেলে নুর মোহাম্মদ।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উখিয়া থানার ওসি তদন্ত গাজী সালাউদ্দিন জানান, ২৩ অক্টোবর ভোরে মুহিবুল্লাহ কিলিং স্কোয়াডের সদস্য আজিজুল হক সহ চারজনকে গ্রেফতার করে এপিবিএন সদস্যরা। সেখান থেকে কিলিং স্কোয়াডের শীর্ষ পাঁচজনের একজন আজিজুল হক হত্যার দায় স্বীকার করে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদাতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অপর তিনজনকে সোমবার আদালতে ৫ দিন করে রিমান্ড আবেদন করা হয়। আজ মঙ্গলবার রিমান্ড আবেদন শুনানি শেষে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাং হেলাল উদ্দিনের আদালত ২ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে মুহিবুল্লাহ হত্যার ঘটনায় জড়িত ৫ জনকে আটক করা হয়েছিল। এর মধ্যে ইলিয়াস নামে এক রোহিঙ্গা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে ২ জন। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তারা স্বীকার করেন, মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডে বিভিন্ন পর্যায়ে মোট ১৯ জন রোহিঙ্গা অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে গ্রেফতার আজিজুল হক ও মো: ইলিয়াসসহ ৫ জন আগ্নেয়াস্ত্রধারী ছিল। গ্রেফতার আজিজুল হক ও মো: ইলিয়াসের দেয়া তথ্যমতে গ্রেফতার করা হয় রিমান্ড আবেদন করা গ্রেফতার রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী মোহাম্মদ রশিদ, মোহাম্মদ আনাচ ও নুর মোহাম্মদকে।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্প-১ ইস্ট-ওয়েস্ট ডি-ব্লকে নিজ অফিসে রোহিঙ্গাদের শীর্ষ নেতা মুহিবুল্লাহকে গুলি করে হত্যা করে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা। মুহিবুল্লাহ আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস (এআরএসপিএইচ) এর চেয়ারম্যান ছিলেন।