রাজবন্দি শেখ হাসিনা ও হত্যাচেষ্টার দিনগুলো


ড. মিল্টন বিশ্বাস

২০০৭ সালের ১৬ জুলাই থেকে ২০০৮ সালের ১১ জুন পর্যন্ত প্রায় ১১ মাস রাজবন্দি হিসেবে কারাগারে ছিলেন বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ  হাসিনা।সেসময় ফখরুদ্দিন-মইনউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার তাঁকে ধানমন্ডির নিজ বাসভবন সুধাসদন থেকে চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে সেসব মিথ্যা মামলা সর্বোচ্চ আদালত থেকে প্রত্যাহার করা হয়।তবে বন্দি শেখ হাসিনাকে কেবল একাধিক মামলা দিয়ে রাজনীতিতে অপাঙক্তেয় করার চেষ্টা করা হয়নি; তাঁকে গোপনে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে জানা যায়। ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই গ্রেফতার করে তাঁকে রাখা হয় জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় স্থাপিত বিশেষ সাব-জেলে।সেখানে শেখ হাসিনার খাবারে ক্রমাগত পয়জন দিয়ে তাঁকে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। স্লো পয়জনিংয়ের কারণে রাজবন্দি থাকাকালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।বন্দিদশা থেকে ২০০৮ সালের ১১ জুন মুক্তি পেয়ে তিনি নিজে সেই অসুস্থ পরিস্থিতির কথা জানিয়েছিলেন।আসলে কেবল ২০০৭ সালে নয় জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে ২১ বার।

দুই.

মুজিবর্ষের শুরুতে জানুয়ারি(২০২০) মাসে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনায় জাতীয় সংসদে বলা হয় বিএনপি ২১ বার শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করেছে।এখানে বিএনপি বলতে বিএনপি সমর্থিত জামায়াত ও জঙ্গিবাদী সংগঠনগুলোর কথাও বুঝতে হবে।

অর্থাৎ ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময় মোট ২১ বার চেষ্টা চালানো হয়।কয়েকটি হামলার রায় ঘোষণার সময় বিচারকদের পর্যবেক্ষণ থেকে আমরা জেনেছি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ঘটনা আর তাঁর কন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়’। বঙ্গবন্ধু বিরোধী একই আসামিদের, একই ষড়যন্ত্রকারীদের পৃষ্ঠপোষকতায় শেখ হাসিনাকেও হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল।নিজে একাধিক অনুষ্ঠানে বলেছেন যে ১৯ বার(২১ বার) মুত্যু থেকে বেঁচেছেন তিনি।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট যখন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবার হত্যা করা হয়, তখন সৌভাগ্যক্রমে দেশে ছিলেন না শেখ হাসিনা।তাঁর সঙ্গে বঙ্গবন্ধু পরিবারের আরেক কন্যা শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় ওই হত্যাকাণ্ড থেকে বেঁচে যান তাঁরা দু’বোন।১৯৮১ সালে ১৭ ই মে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরে আসার পর শেখ হাসিনা এক ডজন বন্দুক, বোমা ও গ্রেনেড হামলা থেকে বেঁচে গেছেন।স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর দলের সভাপতি হিসেবে তিনি বিশৃঙ্খল ও দিশেহারা আওয়ামী লীগের হাল ধরেন এবং ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী হন। এখন তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে টানা তৃতীয় মেয়াদ মিলে চারবার প্রধানমন্ত্রী।

১৯৮১ সালের ১৭ মে থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত শেখ হাসিনাকে ১৯ বার হত্যার চেষ্টা করা হয়। এরপর তাঁকে বহনকারী বিমানে দু’বার নাশকতার চেষ্টা হয়।অর্থাৎ সব মিলে মোট ২১ বার মৃত্যুর হাত থেকে ফেরত এসেছেন তিনি। শেখ হাসিনাকে ২১ বার হত্যাচেষ্টা মামলার সবগুলোর বিচার শেষ হয়নি। তবে ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা এবং চট্টগ্রামে লালদীঘি ময়দানের গণহত্যার মামলা, গ্রিন রোডে হামলার মামলা,  ঈশ্বরদীর ঘটনাসহ সাজা পেয়েছে গোপালগঞ্জে বোমা হামলার পরিকল্পনাকারীরা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছেলেমেয়েসহ ৩১ জনকে হত্যার একটি ই-মেইল ফাঁস হয় ১২ জুলাই ১৯৯৯ সালে সংবাদপত্রে। ই-মেইলটির প্রেরক ইন্টার এশিয়া টিভির মালিক শোয়েব চৌধুরী।শেখ হাসিনাকে হত্যা, গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত এবং বিদ্বেষ সৃষ্টির লক্ষ্যে ই-মেইল পাঠানোর অভিযোগে শোয়েব চৌধুরীর বিরুদ্ধে ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলা দায়ের হয়। এভাবে দেশ-বিদেশ পর্যায়ে তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র হয়েছে আরও অন্তত পাঁচ দফা।তাঁর ওপর এসব হামলার ঘটনায় অন্তত ৬৬ জন দলীয় নেতা-কর্মী নিহত হওয়ার হিসাব আছে।আহত হয়েছেন কয়েক হাজার।এসব ঘটনায় যাদের প্রাণহানি ঘটেছে সেই পরিবারগুলো এখনো বিচার পাননি।

আওয়ামী লীগের দলীয় প্রকাশনা ও ওয়েবসাইট সূত্রে, এইচ এম এরশাদ রাষ্ট্রপতি থাকাকালে দুটি, ১৯৯১ থেকে ’৯৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি সরকারের আমলে চারটি, ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে চারটি, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত সরকার আমলে চারটি, সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে একটি ও আওয়ামী লীগের গত আমলে(২০১৭ পর্যন্ত) চারটির অধিক হত্যাচেষ্টার কথা জানা যায়।আগেই লিখেছি, সরাসরি শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করেই হামলা চালানোর ১৪টি ঘটনায় মামলা হলেও এ পর্যন্ত সবগুলো মামলার বিচারকার্য সম্পন্ন হয়নি।বেশকিছু মামলা এখনো বিচারাধীন রয়েছে।

শুধু ঢাকাতেই শেখ হাসিনার ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয় ৭ বার। এর মধ্যে ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর সচিবালয়ের সামনে তার গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। তখন মারা যান যুবলীগ কর্মী নূর হোসেন। ’৮৯ সালের ১১ আগস্ট ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু ভবনে হামলা করে ফ্রিডম পার্টি। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলাটির বিচারকার্য সম্পন্ন হয়েছে।তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে ’৯১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর উপনির্বাচন চলাকালে রাজধানীর গ্রিন রোড ও ’৯৫ সালের ৭ ডিসেম্বর ধানমন্ডির রাসেল স্কোয়ারে জনসমাবেশে গুলিবর্ষণ করা হয়। এরপর ’৯৬ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে বক্তৃতা দেওয়ার সময় মাইক্রোবাস থেকে সভামঞ্চ লক্ষ্য করে গুলি ও বোমা নিক্ষেপ করা হয়। ২০১৫ সালের ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভায় যাওয়ার পথে কারওয়ান বাজারে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় জেএমবি। আর সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা চালানো হয় ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে। সেখানে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেলেও মারা যান আওয়ামী লীগের ২৪ জন নেতা-কর্মী।আলোচিত এ মামলাটির বিচারকার্য সম্পন্ন শেষে রায় হয়েছে ১৪ বছর পর।এ ছাড়া ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামে ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি, ঈশ্বরদীতে ’৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ও গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় হামলা হয় ২০০০ সালের ২০ জুলাই। কোটালীপাড়ার মামলাটির ইতোমধ্যেই বিচারকার্য সম্পন্ন হয়েছে। খুলনায় ২০০১ সালের ২৯ মে, একই বছর ২৫ সেপ্টেম্বর সিলেটে, ২০০২ সালের ৪ মার্চ নওগাঁয়, ৩০ আগস্ট সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ও ২০০৪ সালের ২ এপ্রিল বরিশালে তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে সশস্ত্র হামলা করে হুজি, জেএমবি, জামায়াত ও বিএনপি।সবশেষ ২০১৬ সালের ২৭ নভেম্বর হাঙ্গেরি যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানে ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখা দেয়। এ মামলাটিরও তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।একই বছর বিমানবন্দরের রানওয়েতে লোহা জাতীয় পদার্থ থাকায় তাঁর বিমান বিলম্বে অবতরণ করে।

২০০৫ সালে মুফতি হান্নান ও ২০০৬ সালে তার ‘গুরু’ জঙ্গিনেতা মাওলানা আবু সাইদ ওরফে আবু জাফরকে গ্রেফতারের পর জবানবন্দি থেকে শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার কথা স্বীকার করায় আমরা হুজি- জেএমবি প্রভৃতি জঙ্গিগোষ্ঠীর পরিকল্পনাগুলো জানতে পারি।হরকাতুল জিহাদের (হুজি) বড় আক্রমণটি ছিল শেখ হাসিনার নিজের নির্বাচনি এলাকা গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ায়।২০০০ থেকে ২০০৪ পর্যন্ত তারা একটানা চেষ্টা চালায় তাঁকে হত্যা করার।তবে গোপালগঞ্জ, খুলনা, সিলেট ও ঢাকা মিশন সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয়।অন্যদিকে উইকিলিকস থেকে প্রাপ্ত তথ্য থেকেও শেখ হাসিনা সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে জানা যায়।নিচে ২১টি হামলা, ষড়যন্ত্র ও আক্রমণের বিবরণ দেয়া হলো।

১) ১৯৮৭ : শেখ হাসিনার উপর প্রথম হত্যাচেষ্টা করা হয়েছিল ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর, যখন তিনি সচিবালয়ের সামনে জেনারেল এইচ এম এরশাদের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন।গুলি তাঁর গাড়িতে এসে পড়েছিল।সেদিন স্বৈরাচার-বিরোধী আন্দোলনে বিক্ষোভরত যুবলীগ কর্মী নুর হোসেন শহীদ হন।

২) ১৯৮৮ : এরশাদ সরকারের আমলে ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে আটদলীয় জোটের জনসভা ছিল। চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে মিছিল করে জনসভাস্থলে যাওয়ার পথে শেখ হাসিনার ট্রাকমিছিলে সশস্ত্র হামলা হয়।জনসভা বানচাল করতে চট্টগ্রাম আদালত ভবনের পাশে পুলিশের নির্বিচার গুলিতে নিহত হন ৩০ জন।এটি পরে ‘চট্টগ্রাম গণহত্যা’ নামে পরিচিতি পায়।ঘটনার ৪ বছর পর ১৯৯২ সালের ৫ মার্চ আইনজীবী শহীদুল হুদা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে চট্টগ্রামের সাবেক পুলিশ কমিশনার রকিবুল হুদাসহ ৪৬ জনকে আসামি করে মামলা করেন।ওই ঘটনায় শেখ হাসিনাকে মানববর্ম তৈরি করে রক্ষা করতে গিয়ে নয়জন নেতা-কর্মী নিহত হন।১৯৯২ সালে মামলা হলেও ওই হত্যাকাণ্ডের তিন দশক পেরিয়ে যায় বিচারকাজ শেষ হতে।২০২০ সালের জানুয়ারিতে ওই হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। রায়ে পাঁচজন পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।

৩) ১৯৮৯ : ১৯৮৯ সালের ১০ আগস্ট মধ্যরাতে ফ্রিডম পার্টির অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী কাজল ও কবিরের নেতৃত্বে শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাসভবনে গুলি ও গ্রেনেড ছোড়া হয়। হামলাকারীরা প্রায় ১০ মিনিট ধরে বঙ্গবন্ধু ভবন লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং একটি গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।গ্রেনেডটি বিস্ফোরিত না হওয়ায় বেঁচে যান শেখ হাসিনা।শেখ হাসিনা তখন ওই বাসাতেই থাকতেন।ওই ঘটনায় বাড়ির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কনস্টেবল জহিরুল ইসলাম একটি মামলা করেন।এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে।উল্লেখ্য, সামরিক শাসক এইচ এম এরশাদের শাসনামলে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমান ও কর্নেল বজলুর রশীদের নেতৃত্বে ফ্রিডম পার্টি গঠিত হয়েছিল।২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে বঙ্গবন্ধুর খুনি খন্দকার আবদুর রশীদসহ ফ্রিডম পার্টির ১১ নেতাকর্মীকে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।এর মধ্যে হত্যাচেষ্টার মামলায় ১১ আসামির প্রত্যেককে বিশ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।আর বিস্ফোরক আইনের মামলায় তাদের সবার যাবজ্জীবন সাজার রায় এসেছে।

৪) ১৯৯১ : ১৯৯১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকার ধানমন্ডি স্কুলে চতুর্থ জাতীয় সংসদের উপনির্বাচনের ভোট দিয়ে গ্রিন রোডে পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে ভোট দেখতে যান শেখ হাসিনা। সেখানে তিনি গাড়ি থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে তার ওপর গুলি ও বোমা বিস্ফোরণ করা হয়। পরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির তৎকালীন নেতা ওয়াহিদের নেতৃত্বে দলটির কর্মীরা ২০-২৫ রাউন্ড গুলি ও বোমাবর্ষণ করে।অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান তিনি। এ ঘটনায় করা মামলার মীমাংসা হয়নি গত ৩০ বছরেও।

৫) ১৯৯৪ :  ১৯৯৪ সালের সেপ্টেম্বরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে দেশের পশ্চিমাঞ্চলে সফরে যান তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা। যশোর, দর্শনা, কুষ্টিয়া, ঈশ্বরদী, নাটোর ও সান্তাহারে জনসভা করেন তিনি। ২৩ সেপ্টেম্বর ঈশ্বরদী স্টেশনে প্রবেশের মুখে তাঁর দিকে গুলি ও বোমা নিক্ষেপ করা হয়। অসংখ্য গুলি লাগে তার বগিতে; গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে অক্ষত থাকেন শেখ হাসিনা।পরে নাটোর রেলস্টেশনে তাঁর ট্রেনকে লক্ষ্য করে গুলি, বোমা এবং সমাবেশস্থলেও গুলি-বোমা ছোড়া হয়।ওই ঘটনায় ঈশ্বরদী থানায় ১৩৫ জনকে আসামি করে মামলা হয়। রায় হয়েছে ২০১৯ সালের জুলাই মাসে।নয়জনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।একই মামলায় ২৫ জনকে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। এছাড়া ১৩ জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড হয়েছে।

৬) ১৯৯৫ : ১৯৯৫ সালের ৭ ডিসেম্বর ধানমন্ডির রাসেল স্কোয়ারে জনসমাবেশে গুলিবর্ষণ করা হয়। শেখ হাসিনা তখন সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছিলেন; ষষ্ঠবারের মতো রক্ষা পান।

৭) ১৯৯৬ : ১৯৯৬ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে বক্তৃতা দেওয়ার সময় বা বক্তব্য শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একটি মাইক্রোবাস থেকে সভামঞ্চ লক্ষ্য করে গুলি ও বোমা নিক্ষেপ করা হয়।আরেকটি তথ্য মতে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল থেকে একটি মিটিং শেষে ফেরার পথে তিনি আক্রান্ত হন। তিনি অক্ষত থাকলেও সেই ঘটনায় ২০ জন আহত হন।

৮) ২০০০: ২০০০ সালের ২২ জুলাই গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার শেখ লুৎফর রহমান সরকারি আদর্শ কলেজ মাঠে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশ করার কথা ছিল।ওই সমাবেশের প্যান্ডেল তৈরির সময় সন্ত্রাসীরা তাঁকে হত্যা করার জন্য দুটি শক্তিশালী বোমা পুঁতে রাখে।সেনাবাহিনীর বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞরা ২০০০ সালের ২০ জুলাই ওই কলেজের পাশ থেকে ৭৬ কেজি ও একই সালের ২৩ জুলাই হেলিপ্যাডের কাছ থেকে ৪০ কেজি ওজনের দুটি শক্তিশালী বোমা উদ্ধার করে।২০১৭ সালের ২০ আগস্ট আদালত ওই ঘটনায় করা দুটি মামলার রায় ঘোষণা করেন।তাতে ১০ জনের ফাঁসি এবং আরও ১৩ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন। ২০১৭ সালের ১২ এপ্রিল জঙ্গিবাদের নেতা মুফতি হান্নানের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

৯) ২০০১ : ২০০১ সালের ৩০ মে খুলনার রূপসা সেতুর কাজ উদ্বোধন করতে যাওয়ার কথা ছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।সেখানে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল হুজি-বি।অনুষ্ঠানের তিন দিন আগে ২৭ মে সেতুর কাছাকাছি রূপসা নদীতে দুটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ১৫ জঙ্গি ধরা পড়ে যাওয়ায় সেটিও আর সফল হয়নি।ওই ১৫ জনের একজন মাসুম বিল্লাহ ওরফে মুফতি মইন ঢাকায় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় অংশ নিয়েছিল। নৌকা থেকে গ্রেফতার হওয়া ১৫ জন মুফতি হান্নানের নেতৃত্বাধীন হুজির সদস্য ছিল।

১০) ২০০১ : ২০০১ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সিলেটে নির্বাচনী জনসভায় বোমা পুঁতে রেখে শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল হুজি-বি। তখন ক্ষমতায় ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার।নির্বাচনি প্রচারে নেত্রী সিলেট গিয়েছিলেন। সেদিন রাত ৮টার দিকে সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা ময়দানের জনসভাস্থল থেকে ৫০০ গজ দূরে একটি বাড়িতে বোমা বিস্ফোরিত হলে ঘটনাস্থলেই দু’জনের মৃত্যু হয়। সন্ধ্যায় সেখানে আওয়ামী লীগের নির্বাচনি জনসভা ছিল।কিন্তু প্রচার অভিযানে থাকার কারণে পৌঁছাতে দেরি হয় শেখ হাসিনার।তার আগেই বোমা বিস্ফোরিত হওয়ায় ব্যর্থ হয়ে যায় হত্যার চেষ্টা। পরে হরকাতুল জিহাদ এই বোমা হামলার দায় স্বীকার করে।আলোচিত এই মামলার বিচার দীর্ঘ ২০ বছরেও শেষ হয়নি।এ মামলা সিলেটের জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। বর্তমানে মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে।

১১) ২০০২ : ২০০২ সালের ৪ মার্চ নওগাঁয় বিএমসি সরকারি মহিলা কলেজের সামনে তৎকালীন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে যুবদল ক্যাডার খালিদ বিন হেদায়েত হামলা চালায়; তবে হত্যাচেষ্টা সফল হয়নি।

১২) ২০০২ : ২০০২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর(মতান্তরে ৩০ আগস্ট) সাতক্ষীরার কলারোয়ার চন্দনপুর ইউনিয়নের হিজলি গ্রামের এক মুক্তিযোদ্ধার ধর্ষিতা স্ত্রীকে দেখতে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে গিয়েছিলেন শেখ হাসিনা।সেখান থেকে যশোর ফেরার পথে কলারোয়া উপজেলা বিএনপি অফিসের সামনের রাস্তায় জেলা বিএনপির সভাপতি ও তৎকালীন এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব ও বিএনপি নেতা রঞ্জুর নির্দেশে দলটির নেতাকর্মীরা দলীয় অফিসের সামনে একটি যাত্রীবাহী বাস (সাতক্ষীরা-জ-০৪-০০২৯) রেখে সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলা চালায়।ওই হামলায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রকৌশলী শেখ মুজিবুর রহমান, সাংবাদিকসহ কমপক্ষে ১২ জন দলীয় নেতাকর্মী আহত হন।এ-সংক্রান্ত তিনটি মামলায় ৫০ জনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

১৩) ২০০৪ : বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলে ২০০৪ সালের(মতান্তরে ২০০২) ২ এপ্রিল বরিশালের গৌরনদীতে শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর গাড়িবহরে জামায়াত-বিএনপি ঘাতক চক্রের সশস্ত্র বন্দুকধারীরা গুলি করে।গৌরনদী বাসস্ট্যান্ডে ওই হামলা, গাড়ি ভাঙচুর, লুটতরাজের ঘটনায় প্রকৃত হামলাকারীদের পরিবর্তে উল্টো আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের আসামি করে মামলা করে পুলিশ।পরে ওই মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হলে প্রকৃত হামলাকারীরা পার পেয়ে যায়।

১৪) ২০০৪ : ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে আওয়ামী লীগ অফিসের সামনের সড়ক বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের মদদপুষ্ঠ জঙ্গিগোষ্ঠী বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা বক্তৃতা দেয়া শেষ করার সঙ্গে সঙ্গে সমাবেশস্থল লক্ষ করে ১৩টি গ্রেনেড ও অজস্র গুলিবর্ষণ করে হত্যাযজ্ঞ চালায়, এতে তিন শতাধিক আহত ও নিহত হন ২৪ জন।নেত্রীকে বাঁচাতে তাঁকে ঘিরে মানবপ্রাচীর সৃষ্টি করেছিলেন সিনিয়র নেতারা।জোট সরকার জজ মিয়া নাটক সাজালেও শেষ পর্যন্ত ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসে মামলাটির নতুন করে তদন্ত শুরু করে।২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর পুলিশ নতুন করে তদন্ত করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয়।এই মামলার রায় ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে ঘোষিত হয়।মামলায় মোট ৪৯ জন আসামি ছিল। যাদের মধ্যে ১৯ জনকে যাবজ্জীবন এবং ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। খালেদা জিয়ার পুত্র বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং প্রাক্তন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও সাবেক শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তাসহ সকল আসামি দোষী বলে প্রমাণিত হওয়ায় হত্যার অভিযোগে শাস্তি লাভ করে।

১৫) ২০০৭ : এক-এগারোর সরকার শেখ হাসিনাকে ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই গ্রেফতার করে। তাঁকে রাখা হয় জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় স্থাপিত বিশেষ সাব-জেলে।সেখানে শেখ হাসিনার খাবারে ক্রমাগত পয়জন দিয়ে তাঁকে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়। স্লো পয়জনিংয়ের কারণে রাজবন্দি থাকাকালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।বন্দিদশা থেকে ২০০৮ সালের ১১ জুন তিনি মুক্তি পান।

১৬)২০১১ : ২০১১ সালের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত ও হত্যা করার লক্ষ্যে একটি সামরিক অভ্যুত্থান চেষ্টার পরিকল্পনা করা হয়েছিল, যা পরে ব্যর্থ হয়ে যায়।বিশ্বজুড়ে তথ্য ফাঁসে আলোচিত প্রতিষ্ঠান উইকিলিকস প্রকাশিত সৌদি আরবের এক গোপন বার্তায় দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শরিফুল হক ডালিম এ অভ্যুত্থান পরিকল্পনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল। তিন দেশে বসে এ অভ্যুত্থান চেষ্টার পরিকল্পনা চলে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৬ জন অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত সদস্য এতে জড়িত ছিল। প্রকাশিত নথি অনুসারে, বাংলাদেশে অবস্থিত সৌদি রাষ্ট্রদূতের পক্ষ থেকে ২০১২ সালের  ফেব্রুয়ারি মাসে দেশটির পররাষ্ট্র দফতরে আরবি ভাষায় পাঠানো ‘অত্যন্ত গোপনীয়’ ওই নথিতে বলা হয়েছে, ২০১১ সালে ব্যর্থ করে দেওয়া এক সামরিক অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা হয়েছিল হংকং, থাইল্যান্ড এবং মালয়েশিয়ায় বসে। এ পরিকল্পনায় খালেদা জিয়া, তারেক জিয়া ও জামায়াতে ইসলামীর সংশ্লিষ্টতা ছিল বলে উল্লেখ করা হয়।এ অভ্যুত্থান পরিকল্পনায় হংকংয়ে বসবাসরত নিষিদ্ধ ঘোষিত হিযবুত তাহরিরের সঙ্গে যুক্ত একজন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ইশরাক আহমেদ অর্থায়ন করে বলে উল্লেখ করা হয়। ২০১২ সালের ১৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে ২০১১ সালের ডিসেম্বরে ব্যর্থ করে দেওয়া ওই অভ্যুত্থান চেষ্টার কথা প্রকাশ করেন। ঘটনাটি ফাঁস হওয়ার সাথে সাথে কিছু ষড়যন্ত্রকারীকে আটক করে দমন করা হয়।

১৭) ২০১১ : ২০১১ সালে শ্রীলঙ্কার একটি সন্ত্রাসবাদী গ্রুপের সঙ্গে একটি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী চক্র সুইসাইড স্কোয়াড গঠন করে শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য চুক্তি করে।সেজন্য অগ্রিম অর্থও দেওয়া হয় শ্রীলঙ্কার সেই সন্ত্রাসবাদী গ্রুপের আততায়ীদের।কিন্তু কলকাতা বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে এক সড়ক দুর্ঘটনায় আত্মঘাতী দলটির সদস্য নিহত হওয়ায়  সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

১৮) ২০১৪ : ২০১৪ সালে একদল মহিলা আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীর মাধ্যমে শেখ হাসিনার জীবননাশের আরও একটি চেষ্টা করা হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে বিস্ফোরণের ঘটনায় গ্রেফতার জঙ্গি শাহানুর আলম ওরফে ডাক্তার জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন জানায়, ২০১৪ সালে প্রশিক্ষিত নারী জঙ্গি দিয়ে মানববোমায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা হয়েছিল। টাইমস অব ইন্ডিয়া, জি-নিউজসহ বেশ কিছু ভারতীয় গণমাধ্যমে এ তথ্য প্রকাশিত হয়। শাহানুরের স্ত্রী সুজেনা জানিয়েছিল, রাজীব গান্ধী হত্যাকাণ্ডের মতো নারী ‘মানববোমা’ ব্যবহার করে শেখ হাসিনাকে হত্যা করার পরিকল্পনা ছিল তাদের। তবে ভারতীয় প্রশাসনের কড়া নজরদারি থাকায় পরিকল্পনা সফল হয়নি।

১৯)২০১৫ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৫ সালের ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের জনসভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে কারওয়ান বাজারে তাঁর গাড়িবহরে বোমা হামলা চালানোর চেষ্টা চালায় জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) জঙ্গিগোষ্ঠী।তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে পরপর কয়েকটি বোমার বিস্ফোরণ হয়।

২০) ২০১৬ : ২০১৬ সালের ২৭ নভেম্বর হাঙ্গেরি যাওয়ার পথে জ্বালানি তেল ফুরিয়ে যাওয়ায় তুর্কেমেনিস্তানের রাজধানী আশখাবাদে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমান। পরে তদন্ত কমিটি রিপোর্ট দেয় এটি মনুষ্য সৃষ্ট ত্রুটি।তখন বিভিন্ন মহল থেকে বলা হয়েছিল, জ্বালানি ট্যাংকের নাট এমনভাবে ঢিলা করে দেওয়া হয়েছিল যে, বিমানটি যখন কৃষ্ণসাগরের ওপর দিয়ে উড়ে যাবে তখন জ্বালানি ফুরিয়ে যাবে। জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার পর ৪০ মিনিট পর্যন্ত বিমান উড়তে পারে, কিন্তু ওই সাগরের চার ঘণ্টার দূরত্বের কমে কোথাও বিমানবন্দর না থাকায় বিমানটিতে আগুন ধরে যেতো।বিমান বিধ্বস্ত  হয়ে মারা যেতে পারতেন বিমানে থাকা সব যাত্রী।কিন্তু কৃষ্ণসাগরে যাওয়ার আগেই জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ায় এর কাছাকাছি বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেন পাইলট, যা আধাঘণ্টা দূরত্বে ছিল।

২১) ২০১৬: ২০১৬ সালের জুন মাসে আরো একটি ঘটনা ঘটে। প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী একটি বিমান ঢাকার হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে নামতে গিয়ে আবার ওপরে উঠে যায়। প্রায় ৩৫ মিনিট ঢাকার আকাশে চক্কর দিয়ে পরে রানওয়েতে নামে বিমানটি।রানওয়েতে ধাতব পদার্থের উপস্থিতি থাকায় বিমানটি নামেনি।পরে রানওয়ে পরিষ্কার করা হলে বিমানটি অবতরণ করে।

তিন.

আজ ১১ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারা-মুক্তি দিবসে তাঁকে হত্যাচেষ্টার ঘটনাগুলো স্মরণ করলাম। কারণ তাঁর রাজনৈতিক জীবন যেমন চ্যালেঞ্জের তেমনি প্রতিটি মুহূর্ত সংকটে পরিকীর্ণ। ক্ষমতার বাইরে কিংবা ক্ষমতায় আসীন থেকেও তিনি ষড়যন্ত্রকারীদের বুলেটের টার্গেটে অবিচল।এজন্য তিনি একদিকে জননেত্রী অন্যদিকে বিশ্বনেত্রী।বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস কবলিত মহামারিতে মানুষ যখন দিশেহারা তখন তাদের উদ্ধারের জন্য মানবতার নেত্রী শেখ হাসিনাকে বড় বেশি দরকার।মৃত্যুভীতিকে উপেক্ষা করে এ ব্যাধিময় জগতে সততা ও সাহসের সঙ্গে তিনিই দাঁড়াতে পেড়েছেন অসহায় মানুষের পাশে। যদি সেই ২০০৮ সালের ১১ জুন তাঁকে মুক্তি দেয়া না হতো তাহলে আজকের এই বাংলাদেশ যোগ্য রাষ্ট্রনায়ক পাওয়া থেকে বঞ্চিত হতো। সেদিন তিনি মুক্তি না পেলে জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে ২০০৯ থেকে এই ২০২০ পর্যন্ত বিশ্ব আসরে এদেশকে সমৃদ্ধির সোপানে তুলে আনা ছিল অসম্ভব। তাছাড়া ডেল্টা প্ল্যান থেকে শুরু করে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের তকমা অর্জন করার জন্য স্বপ্ন দেখার সামর্থও আমরা হারিয়ে ফেলতাম।দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের ভোটের অধিকার সুনিশ্চিত করতে সুদীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে বন্ধুর ও বিপদসঙ্কুল পথ অতিক্রম করতে হয়েছে শেখ হাসিনাকে।এর মধ্যে তাঁর ২১ বার প্রাণনাশের চেষ্টাও হয়েছে। এসব সত্ত্বেও বাংলার মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তিনি যখন বিরোধী দলীয় নেত্রী তখনও ছিলেন দৃঢ় ও অবিচল। আর ২০০৮ সালের ১১ জুন রাজবন্দি শেখ হাসিনা মুক্তি পাওয়ার কারণে আমাদের দেশের ইতিহাসে এটি আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন।

 (লেখক : ড. মিল্টন বিশ্বাস,  বিশিষ্ট লেখক, কবি, কলামিস্ট, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরাম এবং অধ্যাপক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, email-[email protected]gmail.com)