যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের মধ্যে ফ্লাইট চলাচলের নিষেধাজ্ঞা শিথিল হচ্ছে

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হার কমায় এয়ারলাইন্সগুলোর ওপর ১৩ মাস আগে জারি করা নিষেধাজ্ঞা শিথিলের কথা ভাবছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্র। এরইমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লাইটসমূহে যাত্রীর সংখ্যা আশাব্যঞ্জকভাবে বেড়েছে।

সর্বশেষ রবিবারের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ লাখ ৭৬ হাজার আমেরিকান ফ্লাইটে চড়েছেন, যে সংখ্যা করোনার আগের সময়ের কাছাকাছি।

ট্র্যান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি এডমিনিস্ট্রেশন (টিএসএ) জানায়, করোনার টিকা প্রদানের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় জনজীবনে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরছে। তবে ভারতের নাজুক পরিস্থিতি সকলকে নতুন ভাবনায় ফেলেছে।

সর্বশেষ সংবাদ অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নে যুক্তরাষ্ট্রসহ ২৭ দেশের ফ্লাইটের ওপর নিষেধাজ্ঞা/নানাবিধ শর্তারোপ করা হয় গত বছর মার্চে। এসব শর্ত শীঘ্রই প্রত্যাহার/শিথিল করা হচ্ছে বলে শোনা গেছে।

ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন দার লিয়েন সোমবার গণমাধ্যমকে জানান, টিকা গ্রহণ করেছেন এমন ব্যক্তি এবং যে সব দেশে করোনা সংক্রমণ নেই বললেই চলে, সে সব দেশের নাগরিকদের আবারো স্বাগত জানানোর পথে রয়েছি।

জানা গেছে, গ্রিসে সোমবার থেকেই রেস্টুরেন্ট এবং ক্যাফে পুনরায় খুলে দেয়া হয়েছে। ৬ মাস আগে এগুলো বন্ধ করা হয়েছিল করোনা সংক্রমণের আশঙ্কায়। ফ্রান্সে হাই স্কুল সমূহ খুলেছে। অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলের ওপর আর কোন বিধি-নিষেধ নেই।

নিউ ইয়র্ক, নিউ জার্সি, কানেকটিকাট স্টেটে ১৯ মে থেকেই প্রায় সবকিছু খুলে দেয়া হবে বলে সোমবার এসব স্টেটের গভর্নররা পৃথক পৃথকভাবে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। এসব স্টেটে করোনার টিকা গ্রহণকারির সংখ্যা আশাব্যাঞ্জক হারে বেড়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম সমাজ পবিত্র ঈদুল ফিতরের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকলেই মসজিদের ভেতরে ঈদ জামাতের আয়োজন করবে। এজন্যে একেকটি মসজিদে অর্ধ ডজনের বেশি ঈদ জামাতের প্রস্তুতি চলছে। তবে ঈদ উপলক্ষে কেনাকাটায় তেমন আগ্রহ দেখা যায়নি। করোনার কারণে সকলের মধ্যেই একধরনের বিষন্নতা বিরাজ করছে। বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারতের করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় রোজাদারদের প্রায় সকলেই উদ্বেগের সাথে দিনাতিপাত করছেন।