মোজাম্মেল হকের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার প্রমাণ চাইলেন ফখরুল

জিয়াউর রহমানের মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ওঠা বিতর্কের মধ্যে এবার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন কি-না, তার প্রমাণ চেয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর সমালোচনা করে তাঁর প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘উনাকে উনার নিজের চ্যালেঞ্জ নিতে বলেন। উনি নিজে মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কি-না সেটা আগে প্রমাণ করুক।’

আজ বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) বিএনপির ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম ও যুদ্ধের মধ্য দিয়ে এ জাতি যে অধিকারগুলো অর্জন করেছিল সে অধিকার তারা হারিয়ে ফেলেছে। আজকে জনগণ ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দেশে নির্বাচন হয় না। নির্বাচন কমিশন একটি আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। পুরো প্রশাসনকে দলীয়করণ করা হয়েছে। বিচার বিভাগকে দলীয়করণ করা হয়েছে। সার্বিক অর্থে ছদ্মবেশী একটা একদলীয় শাসন ব্যবস্থা দেশে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা বিএনপির জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল। বলেন, বিএনপি ৪৩ বছরে সংগ্রাম করেছে, লড়াই করেছে। এ লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়েই বিএনপি আজকে ৪৪ বছরে পা দিয়েছে। আজকে বিএনপির লাখ লাখ নেতাকর্মীর নামে মিথ্যা মামলা ও পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে। হত্যা করা হয়েছে সহস্রাধিক নেতাকে। এতো কিছুর পরও বিএনপি অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে নিজের পায়ের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। আমরা সীমিত পরিসরে আমাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি, দলকে সংগঠিত করছি, সাধারণ মানুষের দাবি-দাওয়া নিয়ে রাস্তায় আন্দোলন করছি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের কবর এবং তার মরদেহ নিয়ে যারা কথা বলে, এসব বিষয়ে কথা বলতে আমাদের রুচিতে বাধে। এটা জাতির দুর্ভাগ্য স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে এসব কথা বলা হয়। আমরা খুব পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জাতির সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত। তার ঘোষণার মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতার আন্দোলন শুরু হয়েছে। সুতরাং তাকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের অস্তিত্ব চিন্তা করা যায় না।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে মাজারে আসতে নেতাকর্মীদের বাধা দেয়া হচ্ছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের লজ্জা হয়, দুঃখ হয়। আজকে স্বাধীনতার ৫০ বছর পর আমরা যখন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে আসি তখন আমাদের বাধা দেওয়া হয়। আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর গুলি চালানো হয়, গ্রেপ্তার করা হয়। আজকে এখানে ৩০ জনের বেশি আশা যাবে না বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। এই এলাকায় না-কি আরও বড় নিরাপত্তা বলয়ে চলে গেছে। তারা সম্পূর্ণভাবে বাধার সৃষ্টি করছে।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, উত্তর বিএনপির সদস্যসচিব আমিনুল হক, দক্ষিণের সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।