মুক্তিযুদ্ধ আর বঙ্গবন্ধুর প্রশ্নে জাতির কোনা দ্বিমত নেই: জিএম কাদের

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি বলেছেন, জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান কোন একটি দলের নয়, তিনি বাঙালি জাতির সম্পদ। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে দলীয় সম্পদ করতে চেয়ে আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুকে ছোট করছে। তিনি সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালী। কারন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে একটি জাতির সকল ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায়ের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। একই সময়ে দেশের মানুষকে উজ্জীবিত করেছিলেন তিনি। ইতিহাসে বঙ্গবন্ধুর মতো নেতৃত্ব বিরল। তাই, বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধ আর বঙ্গবন্ধুর প্রশ্নে জাতির কোনা দ্বিমত নেই।

তিনি বলেন, পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ মহান জাতীয় সংসদে বক্তৃতায় বলেছিলেন, জাতীয় পার্টি বঙ্গবন্ধুকে জাতির জনকের স্বীকৃতি দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কিছু বাঁধার কারনে তা করতে পারেননি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ অত্যান্ত শ্রদ্ধা করতেন। বঙ্গবন্ধুও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে খুব স্নেহ করতেন। ১৯৭৫ সালের পর পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আগ পর্যন্ত ৫ জন রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন। কিন্তু পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদই দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বঙ্গবন্ধুর মাজার জিয়ারত করেছিলেন।

আজ দুপুরে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এর বনানী কার্যালয় মিলনায়তনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে এক অলোচনা সভায় সভাপতির বক্তৃতায় গোলাম মোহাম্মদ কাদের আরো বলেন, জীবনের একটি বিশাল অংশ কারাবরণ করেছেন বঙ্গবন্ধু, ফাঁসির মুখেও গিয়েছেন একাধিকবার কিন্তু দেশ ও মানুষের অধিকারের প্রশ্নে কখনোই আপোষ করেননি বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধু ছিলেন বাঙালী জাতির এক অবিসংবাদিত নেতা। স্বাধীনতার পূর্বে তিনি রাষ্ট্রের কোন পদে ছিলেন না, কিন্তু তিনি ছিলেন গণমানুষের হৃদয়ের নেতা। তাই বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ সরকারি কর্মচারীরাও পালন করতেন। কোন দল নয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম সংগঠিত হয়েছে। সত্তর-এর নির্বাচনে অনেকেই প্রার্থীর নাম জানতেন না, তারা শেখ মুজিবের নৌকায় ভোট দিয়েছেন।

শোক দিবসের আলোচনা সভায় জাতীয় পার্টি মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যায় রাজনৈতিক নেতাদের জড়িত থাকার বিষয়টি উদ্ঘাটন করতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। তিনি বলেন, ইতিহাস বিকৃত করা যায় না, ইতিহাস তার আপন গতিতে চলবে। তিনি বলেন, জেলখানায় হত্যার শিকার চার জাতীয় নেতা ছাড়া আর সবাই খুনীদের সাথে ছিলেন। বাকশালের নেতারাই খন্দকার মোশতাক আহমেদ এর সরকারে ছিলেন। তারাই ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেছিলেন। পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ সংসদে পাশ করেন। ৭৫ সালে আওয়ামী লীগের কোন নেতাই বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করেননি। খন্দকার মোশতাকের মন্ত্রী সভার সদস্যরা পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের টিকেটে এমপি হয়েছেন, এর চেয়ে লজ্জার বিষয় আর হতে পারে না। সেদিন কোন এমপি, জেলা গভর্নর ও আওয়ামী লীগের নেতারা রাজপথে নেমে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করেননি। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু আজীবন মানুষের বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন। আজ যারা মানুষের বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতা হরণ করেছেন তারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়েছেন। যারা দেশে দুর্নীতি ও দুঃশাসন চালায় তারা কখনোই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করে না। পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অনেক ভালোবাসতেন। তাই ১৯৭৪ সালে উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য পল্লীবন্ধুকে ভারতে পাঠান বঙ্গবন্ধু।

এসময় জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রশ্নে কারো দ্বিমত থাকতে পারে না। যারা বাংলাদেশকে অনুভব করে, তারা অবশ্যই জাতির জনককে শ্রদ্ধাবনত চিত্তে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সবসময় জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানকে পিতার মত শ্রদ্ধা করতেন। পল্লীবন্ধু দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কখনোই জাতির জনকের সমালোচনা করে কথা বলেননি। পল্লীবন্ধু সব সময় মুক্তিযোদ্ধাদের অত্যান্ত শ্রদ্ধার চোখে দেখতেন। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট পল্লীবন্ধু দেশে থাকলে হয়তো খুনীরা এমন নির্মম, নৃশংস ও নারকীয় ঘটনা ঘটাতে পারতো না।

শোক সভায় জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট ভয়াবহ রাতে কেউই নিজ দায়িত্ব পালন করেননি। বঙ্গবন্ধুকে রক্ষায় কোন বাহিনী প্রতিরোধ গড়তে এগিয়ে আসেনি। তিনি বলেন, যখন বাকশাল গঠন করা হয়, তখন ঘরে ঘরে আওয়ামী লীগ। কিন্তু, ১৫ আগষ্টের দিন আওয়ামী লীগের কোন নেতা, বুদ্ধিজীবি বা বাকশাল খুঁজে পাওয়া যায়নি। কেউ একটি বিবৃতি দেয়নি বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে। যারা ১৫ আগষ্ট রাতে দায়িত্ব পালনে ব্যার্থ হয়েছেন, তাদের আওয়ামী লীগ অনেক সময় পুরস্কৃত করেছিলেন, এরচেয়ে দুঃখজনক ঘটনা আর হতে পারেনা।

এসময় বক্তব্য রাখেন প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহিদুর রহমান টেপা, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এমপি, আব্দুস সাত্তার মিয়া। উপস্থিত ছিলেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভরায়, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, নাজমা আক্তার এমপি, সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য আতিকুর রহমান আতিক, উপদেষ্টা ড. নুরুল আজহার শামীম, গোলাম মোস্তফা, এডভোকেট লাকী আক্তার, হেনা খান পন্নি, আমানত হোসেন আমানত, ভাইস চেয়ারম্যান মোস্তফা আল মাহমুদ, আহসান আদেলুর রহমান এমপি, ইয়াহ ইয়া চৌধুরী, এইচ.এম. শাহরিয়ার আসিফ, যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু, মোঃ জসীম উদ্দিন ভূঁইয়া, ইকবাল হোসেন তাপস, মোঃ বেলাল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ হেলাল উদ্দিন, সৈয়দ মঞ্জুর হোসেন মঞ্জু, এনাম জয়নাল আবেদীন, মোঃ হুমায়ুন খান, সম্পাদকমন্ডীর সদস্য সুলতান মাহমুদ, এমএ রাজ্জাক খান, জহিরুল ইসলাম মিন্টু, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসহাক ভূঁইয়া, গোলাম মোস্তফা, আহাদ ইউ চৌধুরী শাহীন, মিজানুর রহমান মিরু, এডভোকেট ফায়েকুজ্জামান ফিরোজ প্রমুখ।