মার্কিন সৈন্য হত্যার ষড়যন্ত্র ; নিউইয়র্কে এক বাংলাদেশির বিচার শুরু

তালেবান বাহিনীতে যোগ দিয়ে মার্কিন নাগরিক ও সৈন্যদের হত্যার পরিকল্পনাকারী বাংলাদেশি আমেরিকান দেলোয়ার মোহাম্মদ হোসাইন (৩৬) এর বিরুদ্ধে নিউইয়র্ক ফেডারেল কোর্টে মামলার বিচার শুরু হয়েছে। সহকারী ইউএস এটর্নি বেন শ্রিয়ার ২৯ সেপ্টেম্বর বুধবার গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, তালেবান বাহিনীতে যোগদানের উদ্দেশ্যে নিউইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কসে স্ত্রী-সন্তান রেখে ২০১৯ সালের ২৬ জুলাই মাসে জেএফকে এয়ারপোর্টে যান দেলোয়ার। উবার চালিয়ে জীবন-যাপনকারী দেলোয়ার প্রথমে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অবতরণ করতে চেয়েছিলেন। সেখান থেকে ভিন্ন পথে বাংলাদেশে গিয়ে আত্মীয়-স্বজনের সাথে সাক্ষাতের পর পাকিস্তান হয়ে আফগানিস্তানে যাবার পরিকল্পনা ছিল।

কিন্তু পথিমধ্যে অর্থাৎ জেএফকে এয়ারপোর্টের সিকিউরিটি চেক পয়েন্ট অতিক্রমের পর ফ্লাইটের প্রবেশ পথেই তাকে ফেডারেল পুলিশ গ্রেফতার করেছে। কারণ, দেলোয়ার এসব ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে এমন একজনের সাথে যোগাযোগ করেন যিনি ছিলেন এফবিআইয়ের ছদ্মবেশী এজেন্ট।
তালেবানকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার অনেক আগেই আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এমন সময়ে তার বিরুদ্ধে বিচার শুরু হল যখন তালেবান আফগানিস্তানের রাষ্ট্র ক্ষমতায়। দেলোয়ার তালেবান বাহিনীতে যোগদান করে আফগানিস্তানে মার্কিন ঘাঁটিতে মেশিন গান নিয়ে হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন।

ব্যাংকক থেকে সরাসরি পাকিস্তানে যাবার ভিসা না পেলে পায়ে হেঁটে বাংলাদেশে যাবার পর ভারত হয়ে পাকিস্তানে যেতে চেয়েছিলেন। পাকিস্তানীরা তালেবানের বন্ধু বিধায় সেখান থেকে দুর্গম পথে আফগানিস্তানের পর্বতে ঢুকে তালেবানের ক্যাম্পে আশ্রয় নেবেন বলে এফবিআইয়ের ঐ স্পেশাল এজেন্টের সাথে শলাপরামর্শ করেছিলেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, দেলোয়ার এই এফবিআইয়ের এজেন্টকে তার মতোই ‘জিহাদি’ ভেবে টেলিফোনে সবকিছু শেয়ার করেছেন।

গত আগস্টে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সৈন্যরা ফিরে আসার পর তালেবানের উত্থান ঘটেছে। তাই দেলোয়ারের এটর্নি আদালতে যুক্তির অবতারণা করেছেন তাকে ছেড়ে দেয়ার জন্যে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জিহাদের নামে সন্ত্রাসী তৎপরতায় লিপ্ত হবার ষড়যন্ত্র করার যে অভিযোগে বিচার শুরু হয়েছে, সেটি প্রমাণিত হলে তাকে দীর্ঘদিন কারাগারে থাকতে হবে।