মামলার আবেদন কার্টুনিস্ট কিশোরের

গত বছরের ২ মে সন্ধ্যায় বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায় সাদা পোশাকের ১৬-১৭ ব্যক্তি। কাকরাইলের বাসায় ওই ‘অভিযানের’ সময় তাঁকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেখানো হয়নি। হাতকড়া ও মুখোশ পরিয়ে নির্জন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। বন্দি থাকা সে ঘরটি ছিল পুরনো এবং স্যাঁতসেঁতে। সেখানে ২ থেকে ৪ মে পর্যন্ত তাঁকে নির্যাতন করা হয়। কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর আদালতকে এমন কথাই জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, নির্যাতনের এক পর্যায়ে কানে থাপ্পড় মারলে কিছুক্ষণের জন্য বোধশক্তিহীন হয়ে পড়েছিলেন। বুঝতে পারেন, তাঁর কান দিয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। তারপর স্টিলের পাত বসানো লাঠি দিয়ে পায়ে পেটাতে থাকে লোকগুলো। যন্ত্রণায় অজ্ঞান হয়ে পড়েন তিনি। গতকাল বুধবার আদালতে যখন কিশোর তাঁর ওপর এমন নির্মম নির্যাতনের বর্ণনা দিচ্ছিলেন, তখন তাঁকে খুব বিমর্ষ ও ক্লান্ত দেখাচ্ছিল। এ সময় এজলাসে আইনজীবী তাঁকে ধরে রেখেছিলেন।

সম্প্রতি জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ কিশোরের চিকিৎসা চলছিল। গতকাল ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে বিচার চেয়েছেন তিনি। করেছেন মামলার আবেদন। এ সমসয় তিনি আদালতে বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে আদালতের কাছে মামলা নেওয়ার আবেদন করছি।’

রাজধানীর রমনা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলা দায়েরের আগেই আটকের পর নির্যাতন করার অভিযোগে কিশোর ‘নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে’ মামলার আবেদনটি করেছেন। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে মামলার আবেদনে কারো নাম উল্লেখ না করে অজ্ঞাতপরিচয়দের আসামি করা হয়েছে। আদালত কিশোরের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। আদালত পরে এ বিষয়ে আদেশ দেবেন।

আদালতে মামলার অভিযোগে কিশোর বলেছেন, গত বছর ৫ মে রমনা থানার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। কিন্তু এর আগে গত ২ মে সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে ১৬-১৭ জন সাদা পোশাকধারী লোক তাঁর কাকরাইলের বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়। তারা বাসা থেকে মোবাইল, সিপিইউ, পোর্টেবল হার্ডডিস্কও নিয়ে যায়। পরে হাতকড়া ও মুখোশ পরিয়ে নির্জন জায়গায় নিয়ে যায় তাঁকে। তাদের আলাপ-আলোচনায় একজনকে জসিম বলে ডাকতে শোনেন।

এদিকে গত বছরের ৫ মে র‌্যাব-৩ সিপিসি-১-এর ওয়ারেন্ট অফিসার মো. আবু বকর সিদ্দিক বাদী হয়ে কিশোরসহ ১১ জনের নামে রমনা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করেন। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় পাঁচ-ছয়জনকে আসামি করা হয়। পরে কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ১০ মাসের বেশি সময় কারাগারে বন্দি ছিলেন তিনি। সম্প্রতি ওই মামলার আরেক আসামি লেখক মুশতাক আহমেদ কারাগারে থাকা অবস্থায় মারা গেলে কিশোরের বন্দি থাকা এবং শারীরিক অবস্থার বিষয়টি সামনে চলে আসে। গত ৩ মার্চ শুনানি শেষে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ তাঁকে ছয় মাসের জামিন দেন।