‘মানবাধিকার লঙ্ঘন আমাদের সবার ক্ষতি করে’

জাতিসংঘের নির্দেশনায় বিশ্বের সব দেশে প্রতি বছরের ১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালিত হয়। দিবসটি উপলক্ষে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এক বাণীতে বলেছেন, ‘কোভিড-১৯ মহামারীর দরুণ মানবাধিকার সম্পর্কে ২টি মৌলিক সত্য প্রকাশ পেয়েছে। প্রথমত, মানবাধিকার লঙ্ঘন আমাদের সবার ক্ষতি করে। দ্বিতীয় সত্য হলো মানবাধিকার সর্বজনীন এবং আমাদের সকলকে সুরক্ষা দেয়।

তিনি বলেন, কোভিড-১৯ মহামারীটি সম্মুখ সারির কর্মী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, প্রবীণ, নারী ও কিশোরী এবং সংখ্যালঘুসহ দুর্বল গোষ্ঠীগুলিতে অনানুপাতিক হারে প্রভাব ফেলেছে।

অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেন, দারিদ্র্য, অসমতা, বৈষম্য, আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশের ধ্বংস এবং মানবাধিকারের অন্যান্য খাতের ব্যর্থতার ফলে আমাদের সমাজে ব্যাপক নাজুকতা তৈরি হয়েছে।

একই সঙ্গে, এ মহামারীর বিরুদ্ধে ব্যাপক সুরক্ষা প্রতিক্রিয়া গ্রহণ করার ফলে নাগরিকতার ব্যাপ্তী এবং সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতাকে হ্রাস করতে দমনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের অজুহাত দিয়ে মানবাধিকারকে ক্ষুন্ন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, মহামারীর কারণে প্রকাশিত দ্বিতীয় সত্য হলো মানবাধিকার সর্বজনীন এবং আমাদের সকলকে সুরক্ষা দেয়। মহামারীটি মোকাবিলা করার প্রক্রিয়া অবশ্যই সংহতি এবং সহযোগিতার ভিত্তিতে হওয়া উচিত। একটি বৈশ্বিক হুমকির বিরুদ্ধে বিভাজনমূলক দৃষ্টিভঙ্গি, কর্তৃত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদ কোনও ভুমিকা রাখে না।

তিনি বলেন, সাড়াদান ও ঘুরে দাঁড়াতে জনগণ এবং তাদের অধিকার অবশ্যই কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে হবে। এই মহামারীর বিরুদ্ধে জয়ী  হতে  এবং ভবিষ্যতে আমাদের সুরক্ষার জন্য  আমাদের সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবার মতো  সার্বজনীন, অধিকার ভিত্তিক কাঠামো দরকার।

মানবাধিকার রক্ষার্থে আমার আহ্বান হবে এই সংকটকালীন মুহুর্তে মহামারী রোধ , জেন্ডার সাম্যতা, জনসাধারণের অংশগ্রহণ, জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং টেকসই উন্নয়নে মানবাধিকারের কেন্দ্রীয় ভূমিকাটি পালন করা- বলেন তিনি।

বিশ্ব মানবাধিকার দিবসে এবং অন্যান্য দিনেও আমরা সকলে একসাথে মানবাধিকারকে সামনে রেখে কাজ করি, যাতে কোভিড-১৯ মহামারী থেকে ঘুরে দাঁড়ানো যায় এবং সকলের জন্য আরো ভালো ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা যায়- মানবাধিকার দিবসের বাণীতে জানান তিনি।