ভারত-বাংলাদেশ সম্প্রীতি সংসদের সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ,মাদক ও দুর্নীতি বিরোধী সাইকেল র‌্যালি অনুষ্ঠিত

আন্তঃরাষ্ট্রীয় সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ভারত-বাংলাদেশ সম্প্রীতি সংসদের উদ্যোগে আজ বৃহস্পতিবার (২৬ নভেম্বর, ২০২০) সকাল ৭টায় সন্ত্রাস বিরোধী এক সাইকেল র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানীর ধানমন্ডির রাসেল স্কয়ার থেকে শুরু হয়ে পান্থপথ, সার্ক ফোয়ারা ও কারওয়ান বাজার হয়ে হাতিরঝিলে গিয়ে র‌্যালিটি শেষ হয়। করোনাভাইরাসের কারণে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে অনুষ্ঠিত এই র‌্যালির নেতৃত্ব দেন সংগঠনটির কার্যনির্বাহী পরিষদের বাংলাদেশ অংশের সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য জনাব হারুন-অর রশিদ। র‌্যালি উদ্বোধনকালে ভারত-বাংলাদেশ সম্প্রীতি সংসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক তৌফিক আহমেদ তফছিরের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহ-সভাপতি জিল্লুর রহিম দুলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস, অর্থ সম্পাদক মুস্তাফিজুর রহমান, শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে জনাব হারুন-অর রশিদ বলেন, বাংলাদেশে মূলত সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদের সূত্রপাত হয় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যা করার মধ্যদিয়ে। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটেছে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে জঙ্গী হামলা, জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ২১-এর গ্রেণেড হামলা, গুলশানের হলি আর্টিজানের ভয়াবহ জঙ্গী হামলাসহ সরাদেশের ৬৪ জেলায় একযোগে বোমা হামলার মতো বর্বরোচিত ঘটনা। তিনি বলেন, জঙ্গী-সন্ত্রাসীরা এসব হামলা চালিয়ে দেশের অসংখ্য মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। আমরা এসব হত্যাকান্ডের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং যথাযথ বিচার দাবি করছি।পাশাপাশি আজকের দিনে আমাদের প্রতিবেশী ভারতের মুম্বাই নগরী যে সন্ত্রাসীরা হামলা করেছিল তার তীব্র ঘৃনা জানাচ্ছি।

র‌্যালিপূর্ব সংক্ষিপ্ত আলোচনায় ভারত-বাংলাদেশ সম্প্রীতি সংসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি জিল্লুর রহিম দুলাল বলেন, অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ সবসময়ই সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্তমান সরকারের কঠোর অবস্থান ও জিরো টলারেন্স নীতির কারণে বর্তমানে দেশে জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাসবাদ অনেকটা নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। তিনি বলেন, সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদের মতো মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধেও বর্তমান সরকারের জিরো টলারেন্স নীতিকে আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে পারলে মাদক ও দুর্নীতির করাল গ্রাস থেকেও দেশে যুব সমাজকে রক্ষা করা সহজ হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তৃতায় র‌্যালিতে অংশগ্রহনকারীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে ভারত-বাংলাদেশ সম্প্রীতি সংসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক তৌফিক আহমেদ তফছির বলেন, আইএস-সহ নানা ভীতিকর নামধারী জঙ্গীগোষ্ঠী বিশ্বব্যাপী নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যেমন সারাবিশ্বকে অস্থিতিশীল করে রেখেছে তেমনি পাকিস্তানের সন্ত্রাসী-জঙ্গীবাদীরা আজকের দিনে বর্বরোচিত মুম্বাই হামলার মতো ঘটনা ঘটিয়ে অসংখ্য নিরীহ-নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করে ভারতসহ পুরো উপমহাদেশকে অস্থিতিশীল করে রেখেছে। তিনি বলেন, আমরা চাই যত দ্রুত সম্ভব যে কোন মূল্যে এসব সন্ত্রাসী-কর্মকান্ডের মূল উৎপাঠন হোক। আমরা চাই উপমহাদেশ তথা সমগ্র বিশ্বের প্রতিটি মানুষ শান্তিতে, সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে জীবন-যাপন করুক।

প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে র‌্যালিতে অংশগ্রহণকারীদের প্রত্যেককে সংগঠনের পক্ষ থেকে মাস্ক সরবরাহ করা হয়।