বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বসবাস অঞ্চল ‘এশিয়া প্যাসিফিক’

ধনীদের বসবাসের জন্য বিশ্বের সর্বোচ্চ ব্যয়বহুল শহরের তালিকায় থাকা হংকংকে পেছনে ফেলে দিয়েছে সাংহাই। বিলাসবহুল জীবনযাপনে সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরগুলোর তালিকায় শীর্ষে রয়েছে সাংহাই, টোকিও, হংকং, মোনাকো, তাইপে, জুরিখ, প্যারিস, লন্ডন, সিঙ্গাপুর ও নিউইয়র্ক।

কভিড-১৯ সংকট একদিকে লাখ লাখ মানুষকে দরিদ্র ও বেকার করেছে, অন্যদিকে ধনী ব্যক্তিরা আরও ধনী হয়েছে। লকডাউনে ঘরবন্দি অবস্থায় মানুষ অনেক বেশি প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে পড়ে এবং অনলাইন কেনাকাটা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। প্রযুক্তি জায়ান্টদের সম্পদও তরতর করে বেড়েছে। এ ধাক্কায় প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর প্রতিষ্ঠাতা ও শেয়ারহোল্ডারদের সম্পদ কয়েক গুণ বেড়ে যায় এবং নতুন করে অনেকে বিলিয়নেয়ারের তালিকায় জায়গা করে নেন।

সম্প্রতি প্রকাশিত বেসরকারি ব্যাংকিং সংস্থা জুলিয়াস বেয়ার গ্রুপ বিলাসবহুল জীবনধারা নিয়ে প্রকাশিত জরিপে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এশিয়া প্যাসিফিকের মার্কেট ও ওয়েলথ ম্যানেজমেন্ট সলিউশনস বিভাগের প্রধান রাজেশ মানওয়ানি বলেন, ‘এশিয়ার শহরগুলো এখন তুলনামূলকভাবে বেশি ব্যয়বহুল। করোনা সব শহরগুলোয় সমানভাবে আঘাত করেনি। এশিয়ার বাইরের শহরগুলো এখনো ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। অন্যদিকে, এশিয়ার শহরগুলো অন্যদের চেয়ে বেশি স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে সক্ষম হয়েছে। ফলে এখানে বসবাসও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।’

গত বছর পর্যটন খাত সংকুচিত হওয়ার ফলে হোটেল ব্যয় ৯ দশমিক ৩ শতাংশ কমে গেছে। আর উড়োজাহাজের বিজনেস ক্লাসের টিকিট ১১ শতাংশ ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। এয়ারলাইনসগুলোর আয় কমে যাওয়ায় বিলাসবহুল বিভাগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে এ ভ্রমণ ব্যয়। আবার নারীদের বিলাসবহুল জুতার দাম ১২ শতাংশ কমে গেছে। এশিয়ায় ধনী ব্যক্তিদের পণ্য ও পরিষেবা ব্যয় ২০১৩ সালের পর সবচেয়ে কম ছিল।

এছাড়াও ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার সূচকনুযায়ী, বিশ্বের সর্বোচ্চ ৫০০ ধনী ব্যক্তি গত বছর সম্মিলিতভাবে ১ লাখ ৮০ হাজার ডলার আয় করেছেন। এক্ষেত্রে টেসলা ইনকের প্রধান ইলোন মাস্ক ও অ্যামাজন ইনকের প্রধান জেফ বেজোস সবচেয়ে বেশি আয় করেছেন।