বিতর্কিত মানচিত্রের বিরোধিতা করায় নেপালি মহিলা সাংসদের বাড়িতে হামলা করল কমিউনিস্টরা! মিলল দেশ ছাড়ার হুমকি


ওয়েবডেস্কঃ নেপাল (Nepal) সংসদের প্রতিনিধি সবায় দুদিন আগে নেপালের মানচিত্র (Nepal Map) বদল করার জন্য সংশোধন প্রস্তাব পাশ হয়। আর সেই সময় নেপালের সাংসদ সরিতা গিরী (Sarita Giri) বিরোধিতা করেন। এবার খবর পাওয়া যাচ্ছে যে, সরিতা গিরীর বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ওনাকে দেশ ছাড়ারও হুমকি দেওয়া হয়েছে। ওনার বাড়ির বাইরে কালো পতাকা লাগানো হয়েছে। সরিতা গিরী অভিযোগ জানানর পরেও পুলিশ ওনার সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেনি।

সরিতা গিরী নেপালের সমাজবাদী পার্টির নেত্রী তথা সাংসদ। উনি মানচিত্রে বদল নিয়ে সংবিধান সংশোধন প্রস্তাবের বিরোধিতা করে ছিলেন। সংবিধান সংশোধন প্রস্তাবের বিরুদ্ধে নিজের আলাদা প্রস্তাব এনে গিরী সংশোধন প্রস্তাবকে খারিজ করার দাবি করেছিলেন। উনি পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, চিন নিজেদের ইশারায় নেপালের নকশায় বদল আনতে চাইছে। উনি দাবি করেছিলেন যে, নেপালের মানুষও চায়না যে ভারতের সাথে মানচিত্র নিয়ে কোন বিবাদ সৃষ্টি হোক। উনি জানান যে, এই বিষয়ে ভারত আর চিনের সাথে নেপালের কথা বলা উচিৎ।

সরিতা গিরীর তথাকথিত নেপাল বিরোধী মনভাবের জন্য ওনার বিরুদ্ধে কড়া অ্যাকশন নেওয়া দাবি করা হয়। ন্যশানাল ইউথ অ্যাসোসিয়েশন একটি বয়ান জারি করে বলছে যে, সরিতা গিরীর বিরুদ্ধে দেশের আবেগে আঘাত দেওয়ার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ। শুধু তাই নয়, ওনার সদস্যতাও বাতিল করার দাবি উঠেছে। এমনকি দলও এখন ওনার পাশে নেয়। আর ওনাকে ওনার প্রস্তাব ফিরিয়ে নেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

নেপালের উপপ্রধানমন্ত্রী আর প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ঈশ্বর পোখরেল এর সাথে কথা বলার কয়েক ঘণ্টা পরেই নেপালের সংসদে দেশে নতুন বিতর্কিত রাজনৈতিক মানচিত্রর জন্য সংবিধান সংশোধন প্রস্তাব পাস করানো হয়। ওই নতুন মানচিত্রে লিপুলেখ, কালাপানি আর লিম্পিইয়াধুরাকে নেপালের অংশ বলা হয়েছে।

নেপাল সরকারের নতুন মানচিত্রে লিম্পিইয়াধুরা, কালাপানি আর লিপুলেখকে নিজেদের অংশ দেখানোয় ভারত সরকার কড়া প্রতিক্রিতা জাহির করেছে। বিদেশ মন্ত্রালয় জানিয়েছে যে, দেশের কোন অংশ এরকম দাবিকে ভারত সরকার স্বীকার করবে না। মন্ত্রালয়ের তরফ থেকে একটি বয়ান জারি করে বলা হয়েছে যে, নেপাল যেই মানচিত্র জারি করেছে সেখানে ভারতের অংশ গুলোকে নিজেদের বলে দেখানো হয়েছে, এই একতরফা পদক্ষেপে ঐতিহাসিক তথ্য আর প্রমাণের কোন ভিত্তি নেই।