বাঘা যতীনের ভাস্কর্য ভাঙচুর : যুবলীগ নেতাসহ ৪ জন থানায়

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া মহাবিদ্যালয় চত্বরের বাঘা যতীনের ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় এক যুবলীগ নেতাসহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে।

আটককৃতরা হলেন, কয়া কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি নিজামুল হক চুন্নু, অধ্যক্ষ হারুন অর রশীদ, নৈশপ্রহরী খলিলুর রহমান ও কয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আনিসুর রহমান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত একটার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এসে এটি ভাঁচুর করে দ্রুত চলে যায়। ওই কলেজের নৈশপ্রহরী খলিলুর রহমান বলেন, ‘রাত একটার দিকে আমি একটি শব্দ শুনতে পাই। এরপর কলেজের বাইরে এসে দেখি তিনজন ব্যক্তি দুটি মোটরসাইকেলে করে সড়কের দুই দিক দিয়ে চলে যাচ্ছে। এরপর বিষয়টি আমি কলেজ কতৃপক্ষকে অবহিত করি।’

ঘটনার খবর পেয়ে কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীবুল ইসলাম খান, কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মজিবুর রহমান ও পরে  কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত ঘটনাস্থলে পরিদশন করেন।

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কমকতা মজিবুর রহমান কালের কণ্ঠকে জানান, কলেজের অধ্যক্ষ হারুন অর রশীদ এ ঘটনায় কুমারখালী থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলার দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যে চার জনকে থানায় আনা হয়েছে তাদেরকে এখনো জেরা করা হচ্ছে।
উপজেলা নিবাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান বলেন, কে বা কারা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। বিষয়টি খুবই গুরুত্ব দিয়ে পুলিশ তদন্তের কাজ শুরু করেছে। দোষীদের খুব শিগগিরই আইনের আওতায় আনা হবে।

থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়ার আগে কয়া কলেজের অধ্যক্ষ কালের কণ্ঠকে বলেন, কলেজ এখন বন্ধ। সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা ফোনে আমি ঘটনা শুনে কলেজে আসি। তবে কে বা কারা এই ভাস্কর্য ভাঙচুর করেছে। তা আমি জানতে পারিনি।

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এস এম তানভির আরাফাত বলেন, ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত খুঁজে বের করা হবে। ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষের গাফিলতির বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সিরাজুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। আগামী তিন কার্য দিবসের মধ্যে কমিটিকে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।