প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন ড. শামসুল আলম শপথ আগামীকাল

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সাবেক সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন। আগামীকাল রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মো আবদুল হামিদ। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, শামসুল আলমকে প্রতিমন্ত্রী নিয়োগের ফাইল গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। আগামী রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে তাঁর শপথ হবে। ওইদিনই দফতর বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে।

এলাকার সবার প্রিয় মোহন ভাই এবার মন্ত্রী হচ্ছেন, সেই খবরে খুশি সবাই। তাই চাঁদপুরের মতলব উত্তরে এখন আনন্দের বন্যা বইছে। কারণ, সব সরকারের আমলেই এখানে মন্ত্রী হয়। ফলে এলাকার উন্নয়নও হয়েছে বেশ। তবে এবার সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন এলাকার কৃতী সন্তান এবং দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, একুশে পদকপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. শামছুল আলম মোহন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এমন তথ্য জানিয়েছে।

সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী রবিবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদের কাছে শপথ নেবেন তিনি।

বর্তমানে সিনিয়র সচিব পদমর্যাদায় পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. শামছুল আলম মোহন। চাঁদপুরের মতলব উত্তরের ইসলামাবাদ গ্রামে ১৯৫১ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বাবার নাম গোলাম মহিউদ্দিন আহমেদ। তিনি ছিলেন এলাকায় দানশীল এবং সমাজসেবী ব্যক্তিত্ব। একুশে পদকপ্রাপ্ত ড. শামছুল আলম মোহনের সহধর্মিণী ছাড়া দুই পুত্রসন্তান রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাঁদপুর মতলব উত্তর থেকে এর আগেও বিগত এরশাদ সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন মেজর জেনারেল শামছুল হক। তারপর ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময় তথ্য প্রতিমন্ত্রী ছিলেন মো. নুরুল হুদা। ১৯৯৬-তে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী হন মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া।

এরপর ২০০১-এ বিএনপি জোট সরকার গঠন করলে তাতে সংস্থাপন প্রতিমন্ত্রী হন মো. নুরুল হুদা। পরে ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় গেলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী হন মায়া।

সর্বশেষ এবার একই এলাকার কৃতী সন্তান ড. শামছুল আলম মোহন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন। যুক্তরাজ্য থেকে অর্থনীতিতে ডক্টরেট ডিগ্রিধারী ড. শামছুল আলম মোহন ৩৫ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। সব শেষে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিগত ২০০৯ সালে সিনিয়র সচিব পদমর্যাদায় পরিকল্পনা কমিশনে যোগ দেন তিনি।

প্রায় এক যুগ ধরে বেশ দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সরকারের এক শ বছরের ডেল্টা প্ল্যান প্রণয়নসহ অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ড. শামছুল আলম মোহন বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। তা ছাড়া বঙ্গবন্ধুর কৃষি ভাবনা এবং বঙ্গবন্ধুর জীবনদর্শনসহ প্রায় ৮০টি গবেষণাধর্মী গন্থের প্রণেতা তিনি।

চাঁদপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ ওয়াদুদ বলেন, আমাদের মোহন ভাই একজন নিরহঙ্কার মানুষ। গ্রামে ফিরলে সবার সঙ্গে মিশে শৈবরের স্মৃতিতে ফিরে যান। তার মতো মেধাবী সরকারের মন্ত্রী হচ্ছেন। এটা আমাদের গর্ব বটে।

এদিকে প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন ড. শামছুল আলম মোহন। এই বিষয় তার প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিগত এক যুগ আমার ওপর আস্থা রেখেছেন। এ জন্য তার প্রতী কৃতজ্ঞ। তারপর আবারও নতুন দায়িত্ব দিচ্ছেন। তা যথাযথভাবে পালন করবেন বলেও জানান তিনি। টেকনোক্র্যাট কোটায় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন ড. শামছুল আলম মোহন।

প্রসংগত বিগত ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পায়, তখন টেকনোক্র্যাট কোটায় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান চাঁদপুরের কচুয়ার সন্তান, সাবেক সচিব ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর। পরে তিনি এবং চাঁদপুর-৫ হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন।

তা ছাড়া বর্তমানে চাঁদপুর-৩ সদর-হাইমচর আসনের সংসদ সদস্য, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। এ ছাড়া চাঁদপুর সদরের সন্তান মিজানুর রহমান চৌধুরী এরশাদ সরকারে প্রধানমন্ত্রী এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে বিতর্কিত ফরিদগঞ্জের মাওলানা এম এ মান্নানও মন্ত্রী ছিলেন।