প্রণোদনার এসএমই ঋণের তথ্য ড্যাশবোর্ডে এন্ট্রি করার নির্দেশ

কুটির, ছোট, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা (সিএমএসএমই) খাতে ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নে ব্যাংকগুলো থেকে তাৎক্ষণিক ঋণ বিতরণের তথ্য পেতে এবার ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড প্রস্তুত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন থেকে এ প্যাকেজের আওতায় ঋণ বিতরণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই ড্যাশবোর্ডে ব্যাংকগুলোকে তথ্য এন্ট্রি করতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ বিষয়ে মঙ্গলবার একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

এর আগে গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর এক সার্কুলারে প্রণোদনার সিএমএসএমই ঋণ বিতরণ সংক্রান্ত সামারি রিপোর্ট প্রতিসপ্তাহের পরবর্তী তিন কার্যদিবসের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তার কাঠে প্রেরণ করতে বলা হয়েছিল।

নতুন সার্কুলারে বিষয়টি উল্লেখ করে বলা হয়, কভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় সিএমএসএমই খাতের জন্য বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বাস্তবায়ন নিশ্চিতকরণ, বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিবিড়ভাগে তদারকিকরণ, এসংক্রান্ত তথ্যাদি দ্রুততার সঙ্গে প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণ এবং সময়োচিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বার্থে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে একটি ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড প্রস্তুত করা হয়েছে। এখন হতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রণোদনার সিএমএসএমই ঋণ বিতরণসংক্রান্ত তথ্যাদি ওই ড্যাশবোর্ডে রিয়েল টাইমে এন্ট্রি দিতে হবে। এ উপলক্ষে ইউজার আইডি তৈরির জন্য একটি ফরম পূরণ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের ইনফরমেশন সিস্টেমস ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট বিভাগে ১৪ মার্চের মধ্যে দাখিল করার কথা বলা হয়েছে।

সার্কুলারে আরো বলা হয়েছে, সার্বিকভাবে সিএমএসই প্রণোদনা প্যাকেজ সম্পর্কে সঠিক ধারণা লাভের জন্য এ সার্কুলার ইস্যুর আগে বিতরণ হওয়া সকল ঋণের তথ্যাদি ১ সপ্তাহের মধ্যে ওই ড্যাশবোর্ডে এন্ট্রি দিতে হবে। এ ছাড়া এ সার্কুলার ইস্যুর তারিখ হতে ড্যাশবোর্ডে ঋণ বিতরণের তথ্য এন্ট্রি দেওয়ার পাশাপাশি পরবর্তী ১ মাস পর্যন্ত সামারি রিপোর্ট ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তার ই-মেইলে পূর্ববর্তী নিয়মানুযায়ী প্রেরণ অব্যাহত রাখতে হবে।

গত ১৩ এপ্রিল সিএমএসএমই খাতের ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল বরাদ্দের নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রথমে প্রণোদনার ২০ হাজার কোটি টাকাই ব্যাংকের মাধ্যমে বিতরণ করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকটের কথা ভেবে পরবর্তী সময় তহবিলের ১০ হাজার কোটি টাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে পুনঃঅর্থায়ন করার ঘোষণা দেওয়া হয়। এ তহবিলের ঋণ বিতরণের সময়সীমা প্রথমে অক্টোবর পর্যন্ত বেধে দেওয়া হয়েছিল। এরপর দ্বিতীয় দফায় ৩০ নভেম্বর, তৃতীয় দফায় ৩১ ডিসেম্বর এবং সর্বশেষ ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময় বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, গত ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত এ প্যাকেজের আওতায় বিতরণ হয় ১১ হাজার ৫৬৪ কোটি টাকা। ৭৭ হাজার ৮৯৪ জন উদ্যোক্তা এই ঋণ পেয়েছেন।