পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় টানেল নির্মাণের পক্ষে মত দিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ করার কথা ভাবছে সরকার। তবে সেখানে টানেল নির্মাণ করার পক্ষে নিজের মতামত ব্যক্ত করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৮ প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করেন। একনেক সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এসব কথা বলেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আমার মতে টানেল ব্যয় সাশ্রয়ী। দ্বিতীয় পদ্মাসেতু পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় টানেল নির্মাণ করা ভালো হবে। দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের বদলে টানেল নির্মাণ করা ভালো হবে। সেতুর বদলে টানেল নির্মাণ করলে ব্যয় কম হবে ও সময় কম লাগবে। সেতুর বদলে এসব স্থানে টানেল নির্মাণ করা যায় কিনা চিন্তা করা দরকার।

ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর ৩২০ মিটার স্টিল আর্চ ব্রিজ সুপারস্ট্রাকচার ব্রিজ নির্মাণে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ২৬৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। ময়মনসিংহে কেওয়াটখালি সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এটাকে দেশের প্রথম মডেল ব্রিজ হিসেবে নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পে চীনের নেতৃত্বাধীন এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (এআইআইবি) ঋণ সহায়তা ১ হাজার ৯৩০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।

ছোট সেতুতে বিশাল ব্যয় ধরা হয়েছে, অথচ একই ব্যয় দিয়ে টানেল নির্মাণ করা সম্ভব হতো- এই বিষয়ে প্রশ্ন করলে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, আমিও টানেল নির্মাণের পক্ষে। টানেল ব্যয় ও সময় সাপেক্ষ।

প্রকল্পের আওতায় ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর ১টি ব্রিজ, ওভারপাস ও ৬.২ কিলোমিটার সড়ক পৃথক এসএমভিটি লেনসহ ৪ লেনে নির্মাণের মাধ্যমে ময়মনসিংহ বিভাগের আওতাধীন উত্তরাঞ্চলের জেলাসহ এ অঞ্চলের স্থলবন্দর, ইপিজেড এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার নিরাপদ, উন্নত ও ব্যয় সাশ্রয়ী যোগাযোগ স্থাপন করা।

প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে ২ হাজার ৯৩ মিটার ব্রিজ ফাউন্ডেশন এবং সাবস্ট্রাকচার, ১ হাজার ৭৭৩ মিটার কংক্রিট ব্রিজ, কালভার্ট নির্মাণ;  সড়ক বাঁধে ১৪ লাখ ৬৫ হাজার ঘনমিটার মাটির কাজ করা হবে।