পর্যটন বিনোদন ছাড়া সবই খুলছে আজ

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে চলমান কঠোর বিধি-নিষেধ শিথিল করেছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার থেকে ২৩ জুলাই শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত শিথিল অবস্থা থাকবে। এই সময়ে সারা দেশে বাস, ট্রেন, লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। বসবে কোরবানির পশুর হাট। ঈদের ছুটির আগ পর্যন্ত সব সরকারি অফিস খোলা থাকবে। তবে কড়াকড়িভাবে মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি। ঈদের ছুটিতে সরকারি কর্মচারীরা কর্মস্থল ছাড়তে পারবেন না। যাঁরা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন, তাঁদের জন্য এমন কোনো বাধা থাকছে না।

গতকাল বুধবার সরকারের নতুন তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়, এই সময়ে পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্র এবং জনসমাবেশ হয়—এমন সামাজিক অনুষ্ঠান পরিহার করতে হবে।

লকডাউনের সময় সরকারি অফিসের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানায়, ঈদে অন্যান্যবারের মতো সরকারি কর্মচারীরা কর্মস্থলে উপস্থিত থাকবেন। ঈদের স্বাভাবিক ছুটি বাড়াতে পারবেন না। এর বাইরে গার্মেন্টসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ তাঁদের মতো ছুটি কাটাতে পারবেন। সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা হবে না। তবে সংক্রমণ কমানোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে চলাচলে সাধ্যমতো নিয়ন্ত্রণে থাকার অনুরোধ করা হচ্ছে। সবাই নিজেদের ও তাঁদের পরিবারের কথা চিন্তা করে সেটি বিবেচনায় নেবেন বলে সরকার আশা করে।

তথ্য অধিদপ্তরের বিবরণীতে জানানো হয়, ঈদ উদযাপনে ১৪ জুলাই মধ্যরাত থেকে ২৩ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত সব বিধি-নিষেধ শিথিল করা হয়েছে। তবে সামাজিক অনুষ্ঠান, যেমন—বিবাহোত্তর অনুষ্ঠান, ওয়ালিমা, জন্মদিন, পিকনিক, পার্টি ইত্যাদি এবং রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পরিহার করতে হবে। এ ছাড়া কভিড-১৯-এর সংক্রমণ বিস্তার রোধে এই সময়ে সর্বাবস্থায় মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।

কোরবানির পশুর হাট প্রসঙ্গে অধিদপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অনলাইনের পাশাপাশি যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি এবং সরকারি অন্যান্য নির্দেশনা মেনে কোরবানির পশুর হাট বসাতে হবে। পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের একমুখী চলাচল থাকতে হবে। বৃদ্ধ ও শিশুদের পশুর হাটে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। হাটে আসা সবাই যাতে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতা সবার তাপ মাপার জন্য যন্ত্র, হাত ধোয়ার জন্য পর্যাপ্ত পানি, বেসিন ও জীবাণুনাশক সাবান রাখতে হবে। অনলাইনে পশু ক্রয়-বিক্রয়ে মানুষকে উৎসাহিত করতে হবে।

এদিকে অনলাইনের মাধ্যমে পশু কেনাবেচার জন্য সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ও ই-ক্যাবের যৌথ উদ্যোগে এবং এটুআইয়ের কারিগরি সহায়তায় এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর আওতায় ডিজিটাল ডটনেট প্ল্যাটফর্মে সারা দেশের ২৪১টি ডিজিটাল হাট যুক্ত করা হয়েছে। যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটায়, এমন স্থানে পশুর হাট বসানো যাবে না।

আবার কোরবানির পশু নিরাপদে হাটে পৌঁছানোর জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসমপদ মন্ত্রণালয়। গতকাল দেওয়া এই চিঠিতে ফেরি পারাপারে পশুবাহী যানকে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া পশু পরিবহন, বিক্রি ও বিক্রি-পরবর্তী সময়ে গবাদি পশুর ব্যবসায়ীরা যাতে ছিনতাই, ডাকাতি বা কোনো ধরনের নিরাপত্তাহীনতায় না পড়েন, সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেও বলা হয়েছে।

অন্যদিকে আজ থেকে সারা দেশে বাস, ট্রেন, লঞ্চসহ সব ধরনের গণপরিবহন চালু করা হচ্ছে। আগামী শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত সব ধরনের গণপরিবহন চালু থাকবে। এসব গণপরিবহনে অর্ধেক আসনে যাত্রী পরিবহন করাসহ সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মানতে বলা হয়েছে। গতকাল সকাল থেকেই ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করেছে রেলওয়ে। এই এক সপ্তাহ সারা দেশে ৩৮ জোড়া আন্ত নগর ও ১৯ জোড়া লোকাল ট্রেন চলাচল করবে। অর্ধেক আসনের শতভাগ টিকিটই অনলাইনে বিক্রি করা হচ্ছে। ট্রেন চলাচলের ব্যবস্থা পরিদর্শনের জন্য আজ সকালে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে যাবেন রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন।

আজ থেকে বেসরকারিভাবে বিভিন্ন রুটে ৭০টি লঞ্চ ও স্টিমার ঢাকা থেকে ছেড়ে যাবে। এ ছাড়া বিআইডাব্লিউটিসির আওতায় চারটি স্টিমার ও ৫৩টি ফেরি চলাচল করবে। গতকাল নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ বলেন, ‘সব নৌযানে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। মাস্ক ছাড়া নৌবন্দর এলাকায় ও লঞ্চে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। বিভিন্ন ঘাটে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।’ আজ শিমুলিয়া ঘাটে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রীর নতুন দুটি ফেরি উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।

গতকাল থেকেই ঈদে ঘরমুখী মানুষ বাসের অগ্রিম টিকিট নেওয়া শুরু করে। গাবতলী বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, দূরপাল্লার পরিবহনের কাউন্টারগুলো খোলা হয়েছে। ফরিদপুরগামী গোল্ডেন পরিবহন কাউন্টারে মজিবর রহমান নামের একজনকে দেখা যায় অগ্রিম টিকিট দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘পরিচিত অনেকে ফোনে টিকিট বুক করছেন, আবার অনেকে এসে টিকিট নিচ্ছেন। সরকারি নির্দেশনা অনুসারে ৬০ শতাংশ ভাড়া অতিরিক্ত নিয়ে দুই আসনে এক যাত্রী হিসেবেই টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে।’ হানিফ পরিবহন কাউন্টারেও দেখা যায়, অনেকে এসে অগ্রিম টিকিট নিচ্ছেন। গাইবান্ধাগামী যাত্রী আব্দুস সবুর বলেন, ‘১৮ তারিখ সকালে বাড়িতে যাব, সে হিসাবে টিকিট নিয়েছি। দুই আসনে এক যাত্রী হিসেবে ভাড়া নিয়েছে।’