পর্দা নামল বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমসের

সন্ধ্যা ৭টা ৪৮ মিনিটে নিভে গেল মশাল। বাংলাদেশ আনসারের শ্রেষ্ঠত্বের মধ্য দিয়ে পর্দা নামল দীর্ঘ ১০ দিন ধরে চলা বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমসের।
৩১ ডিসিপ্লিনে অংশ নেয়া প্রায় আট হাজার ক্রীড়াবিদের মহামিলন ভাঙ্গল। আজ শনিবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমসের আনুষ্ঠানিক সমাপনী ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপি।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এমপি। বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমসের সমাপনী অনুষ্ঠানের ভার্চুয়ালি সভাপতিত্ব করেন বিওএ সভাপতি ও সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, এসবিপি, বিএসপি, বিজিবিএম, পিবিজিএম, বিজিবিএমএস, পিএসসি, জি। উপস্থিত ছিলেন বিওএ মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা ও বিওএ সহ-সভাপতি ও স্টিয়ারিং কমিটির চেয়ারম্যান শেখ বশির আহমেদ মামুনসহ অন্য কর্মকর্তারা।
চলমান করোনা মহামারির জন্য সমাপনী অনুষ্ঠান সংক্ষিপ্ত আকারে আয়োজন করে (বিওএ)। মাঠে দর্শক প্রবেশ নিষেধ ছিল। কোন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন ছিল না। মাঠে স্থাপিত দুটি বড় জায়ান্ট স্ত্রিনে দেখানো হয় অতিথিদের বক্তব্যের ভিজ্যুয়াল।
বিকেল সাড়ে পাঁচটায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের গেট উন্মুক্ত করা হয়। সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে পবিত্র কোরআন তিলওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সমাপনী অনুষ্ঠান। এরপর জাতীয় সংগীত বেজে উঠে। মাঠে স্থাপিত দু’টি জায়ান্ট স্ক্রিনে ভেসে উঠে লাল সবুজের পতাকা। জাতীয় সংগীতের পরপরই শুরু হয় অতিথিদের সংক্ষিপ্ত বক্তব্য। ৬টা ৫৫ মিনিটে গেমস আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখেন বিওএর সভাপতি ও সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ।
সন্ধ্যা ৭টা ০৩ মিনিটে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এমপি। সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপি।
৭টা ১৩ মিনিট থেকে ৭টা ৩৪ মিনিট পর্যন্ত জায়ান্ট স্ক্রিনে দেখানো হয় ৩১ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া থেকে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম পর্যন্ত মশাল যাত্রার চিত্র, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমসের উদ্বোধনী বক্তব্য এবং গত ৯ দিনে ৩১টি ডিসিপ্লিনে গেমসে অংশ নেয়া ক্রীড়াবিদদের ক্রীড়াশৈলীর বিভিন্ন খন্ডচিত্র। ৭টা ৩৪ মিনিটে শুরু হয় লেজার শো।
সন্ধ্যা ৭টা ৩৯ মিনিটে পায়রোর মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয় ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের চিত্রপট, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণ, স্বাধীনতা যুদ্ধ, বঙ্গবন্ধুর পরিবার ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি।
সন্ধ্যা ৭টা ৪৭ মিনিটে বিউগলে করুণ সুর বেজে বেজে উঠে। নিভে যায় মশাল। আতশবাজির আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে আকাশ। সমাপ্তি ঘটে বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমসের। ১ এপ্রিল সন্ধ্যা সাতটা ৪১ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ গেমসের উদ্বোধন করেছিলেন।

বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমস: অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সমাপনী বক্তব্য:
বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন আয়োজিত বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমসটি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পবিত্র স্মৃতির প্রতি উৎসর্গ করা। বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমস ২০২০ নামকরণ করায় আয়োজক কমিটির সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।
গেমসটি এই বছর জাতির ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণে উদযাপিত হচ্ছে। এক দিকে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী। অন্য দিকে একই সময় জাতি উদযাপন করছে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী। পাশাপাশি আরও উদযাপিত হচ্ছে আমাদের এলডিসি থেকে গ্রাজুয়েশন। আমরা এখন উন্নয়নশীল দেশ। আজকে এই দিনে আমি বিনম্র চিত্তে স্বরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, সোনার বাংলার স্বপ্নচারী, বাঙালির বরপুত্র মৃত্যুঞ্জয়ী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।
আমি স্বরণ করছি ৩০ লাখ শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের এবং সম্ভ্রম হারানো দুই লাখ মা ও বোনকে।
বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমস ২০২০ বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন অনুমোদিত ৩১টি ক্রীড়া ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে ৫ হাজারের অধিক ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণে এই গেমসটি অবশ্যই আমরা বলতে পারি সাফল্যমন্ডিত হয়েছে।
বর্তমান প্রজন্মের কিংবদন্তী ও আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার প্রধানমন্ত্রী নিজেও সবধরণের খেলাধুলা অন্ত:প্রান। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ ৯ম বাংলাদেশ গেমস এর আয়োজনকে সফলভাবে সম্পন্ন করার পেছনে তিনি ছিলেন সকল প্রকার অনুপ্রেরণার উৎস। তার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
গেমসটি সফল ও স্বার্থক করে তুলতে যারা নিরলস পরিশ্রম করেছেন, সে সকল সরকারি ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের সকল সংস্থা ও অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ।
পরিশেষে বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমস ২০২০ সকল খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাগণ, জেলা ও বিভাগের ক্রীড়া সংস্থা,সকল সার্ভিসেস দল, ক্রীড়া নিয়ন্ত্রণ বোর্ডসহ সম্পৃক্ত সকলকে অশেষ ধন্যবাদ জানিয়ে আমি এই গেমসের সমাপ্তি ঘোষণা করছি।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এমপির বক্তব্য:
আজকের সমাপনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিশ্বের অন্যতম সেরা অর্থমন্ত্রী হিসেবে যুক্তরাজ্যের দ্য ব্যাংকার পত্রিকা কর্তৃক ‘গ্লোবাল ফিন্যান্স মিনিস্টার অব দ্য ওয়ার্ল্ডে’ ভূষিত; ক্রীড়ার প্রতি যার রয়েছে বিশেষ অনুরাগ, অপরিসীম উৎসাহ সেই ক্রীড়াবান্ধব ব্যক্তিত্ব, অর্থ মন্ত্রী ও ‘বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমস ২০২০’-এর সাংগঠনিক কমিটির চেয়ারম্যান জনাব আ হ ম মুস্তফা কামাল, এফসিএ, এমপি, সেনা বাহিনী প্রধান ও বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের সুযোগ্য সভাপতি জেনারেল আজিজ আহমেদ, বিওএ মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা, সাংগঠনিক কমিটির সদস্যবৃন্দ, পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাবৃন্দ, বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের কর্মকর্তাবৃন্দ, গেমসে অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাগণ, ক্রীড়া সংগঠকবৃন্দ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের এ অনন্য সন্ধিক্ষণে আমি প্রথমেই গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি আমাদের অস্তিত্ব সত্তার অমলিন দিকপাল স্বাধীনতার অমর কাব্যর কবি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। স্মরণ করছি বঙ্গবন্ধুর প্রেরণার উৎস তাঁর সুযোগ্য সহধর্মিণী মহীয়সী নারী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, জাতীয় চার নেতাসহ মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী সকল বীর শহীদদের, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের, ৭৫-এর ১৫ আগস্ট নির্মমভাবে নিহত বঙ্গবন্ধু পরিবারের সকল শহীদদের। আমি তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।
বাংলাদেশ সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় ও বাংলাদেশ অলিম্পিক এসেসিয়েশনের তত্ত্বাবধানে জাতীয় পর্যায়ে সর্ববৃহৎ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আসর ‘বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমস’ অত্যন্ত জাঁকজমক পূর্ণভাবে আয়োজিত হয়েছে। গেমস উদ্বোধনের পরপরই করোনার সংক্রমণ রোধকল্পে সরকার কর্তৃক লকডাউন জারি করা হয়। অনেক প্রতিকুল পরিস্থিতির মধ্যে সকল প্রকার স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে সকল কার্যক্রম সফল ভাবে পরিচালনা পূর্বক আজকের এই সমাপনী অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য আমি প্রথমেই প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা, এমপি, সাংগঠনিক কমিটি, সকল উপ-কমিটি, সরকারি-বেসরকারী সকল সংস্থা, অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়-কর্মকর্তা এবং সর্বোপরি বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের সকল কর্মকর্তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমি বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ গেমসে পদকজয়ী সকল খেলোয়াড় ও অংশগ্রহণকারী সকলকে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্রীড়ার মান বিকাশের লক্ষ্যে নতুন প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরীর পাশাপাশি ক্রীড়াবিদদের মধ্যে প্রকৃত খেলোয়াড় সুলভ প্রতিযোগী মনোভাবের উন্নয়ন তথা গেমসটির সাথে সম্পৃক্ত কর্মকর্তা, স্বেচ্ছাসেবী, সংগঠকদের মধ্যেও বঙ্গবন্ধু মননে সদা বহমান সুগভীর দেশ প্রেমের অনুপম আদর্শের অনুরণন সৃষ্টি করাই ছিল এ গেমসের অন্যতম লক্ষ্য ও প্রতিপাদ্য। মহৎ এ লক্ষ্যকে উপজীব্য করে এ আসরে অলিম্পিক, নন-অলিম্পিকসহ বিওএ অনুমোদিত ৩১টি জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশন/এসোসিয়েশনের ৫০০০-এর অধিক ক্রীড়াবিদ অংশগ্রহণ করে গেমসে। করোনা মহামারীর মধ্যে আয়োজিত এ গেমসটিতে বেশ কয়েকটি খেলায় নতুন জাতীয় রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে, যা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। আমদের খেলোয়াড়েরা সকল প্রতিকুলতার মাঝেও তাদের প্রশিক্ষন কার্যক্রম অব্যাহত রেখে গেমসে তাঁদের সর্বোচ্চ নৈপুন্য প্রদর্শন করতে সক্ষম হয়েছে। তাদের এই অর্জনের সাথে সংশ্লিষ্ট ফেডারেশন, সংস্থা এবং প্রশিক্ষকদের আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আপনাদের এই অনন্য প্রচেষ্টা ভবিষ্যতে আমাদের আরও বড় অর্জনের সম্ভাবনার আশা উন্মোচন করেছে। সেই দিন বেশি দূরে নেই যেদিন আমরা অলিম্পিকের মত বড় ক্রীড়া আসরেও পদক অর্জন করতে সক্ষম হব।
বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত এ জাতীয় ক্রীড়ানুষ্ঠানের সাংগঠনিক কমিটির কো-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়ে আমি গর্বিত। প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশ ক্রীড়াঙ্গন সামনের দিকে এগিয়ে চলছে। ’বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমস’ সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও সহযোগিতা প্রদান করেছেন। অর্থমন্ত্রী শুধু অর্থই বরাদ্দই করেননি, সময়, শ্রম ও সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন। এ জন্য তাদের জানাই আমাদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ। বর্তমান সরকার খেলাধুলার মানোন্নয়নে ও উৎকর্ষ সাধনে খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করেছে। খেলাধুলার জন্য মাঠ, স্টেডিয়াম নির্মানের সঙ্গে অন্যান্য অবকাঠামোও গড়ে তোলা হয়েছে সরকারী উদ্যোগে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস ‘বঙ্গবন্ধু নবম বাংলাদেশ গেমস-২০২০’-এর সফল আয়োজন বিভিন্ন খেলায় প্রতিভাবান খেলোয়াড় নির্বাচন করতে সমর্থ হয়েছে যা অদূর ভবিষ্যতে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ভাল ফলাফল অর্জন করে দেশের সুনাম বৃদ্ধি করতে সক্ষম হবে। বর্তমান সরকার ক্রীড়া উন্নয়ন ও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে লুকায়িত ও সুপ্ত ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ ও সঠিক পরিচর্যার প্রতি যতœশীল। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় খেলাধুলা চর্চার অবকাঠামোগত সুবিধা ও খেলোয়াড়দের নিবিড় প্রশিক্ষণ সুবিধা নিশ্চিত করতে যথাযথ কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে।

আমি ‘বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমস্-২০২০’-এর সকল খেলোয়াড়, কর্মকর্তা, সর্বস্তরের সংগঠক, স্বেচ্ছাসেবী, ক্রীড়ামোদী দর্শক ও পৃষ্ঠপোষক সংস্থাসমূহকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে ভবিষ্যতে আরো বড় পরিসরে বাংলাদেশ গেমস আয়োজিত হবে সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করে আমার বক্তব্য শেষ করছি।
বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমস: বিওএ সভাপতির সমাপনী বক্তব্য:
আজকের সমাপনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় অর্থ মন্ত্রী ও ‘বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমস-২০২০’ সাংগঠনিক কমিটির চেয়ারম্যান জনাব আ হ ম মুস্তফা কামাল, এফসিএ, এমপি, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জনাব মো. জাহিদ আহসান রাসেল,এমপি, বিওএ মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা, আমার সহকর্মীবৃন্দ, গেমসে অংশগ্রহণকারী সকল খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাবৃন্দ, ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ।
আমি সর্ব প্রথমেই মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমসের সফল সমাপ্তি টানার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আপনারা অবগত আছেন যে, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায় আয়োজন করে ‘বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমস’।
প্রকৃতির এক বিরূপ পরিস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমসের সফল সমাপ্তি ঘটেছে আজ। এটি একটি অত্যন্ত দূরহ কর্ম, যা আগামী দিনের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।
বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমস সরকার কর্তৃক ঘোষিত লক ডাউন-এর আওতা বহির্ভূত থাকায়, সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আমরা গেমসের সমাপ্তি টানতে সক্ষম হয়েছি। বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও গেমসের প্রধান পৃষ্ঠপোষক শেখ হাসিনা, এমপির প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ব্যতীত এ কাজে আমরা কখনই সফল হতে সক্ষম হতাম না। তাঁর এ সহযোগিতার জন্য বিওএ, গেমসে অংশগ্রহণকারী সকল ফেডারেশন ও এসোসিয়েশনের পক্ষ হতে আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
এবারের বাংলাদেশ গেমস জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি উৎসর্গকৃত, তাই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ইতোমধ্যে বিওএ এর মহাসচিবের বক্তব্য হতে আপনারা অবগত হয়েছেন যে ‘বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমস্-২০২০’ এ ৬০টি নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন ডিসিপি¬নে অনেক প্রতিভাবান নতুন মুখের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে, যাদের নিয়ে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন উজ্জল ভবিষ্যত দেখবে।
এ গেমসকে সাফল্যমন্ডিত করার জন্য আমি আবারও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, এমপি, মাননীয় অর্থ মন্ত্রী ও সাংগঠনিক কমিটির চেয়াম্যান জনাব আ হ ম মুস্তফা কামাল, এফসিএ, এমপি, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং সাংগঠনিক কমিটির কো-চেয়ারম্যান জনাব মো. জাহিদ আহসান রাসেল,এমপি, বিভিন্ন স্পন্সর প্রতিষ্ঠানসহ সরকারের যে সকল সংস্থা গেমসটি সম্পন্ন করতে কাজ করেছেন তাদেরকে বিওএ-র পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। যারা পর্দার পেছনে থেকে এ গেমসে সক্রিয় অবদান রেখেছেন সে সকল পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমি আশা করি ভবিষ্যতেও তাঁরা এই সহযোগিতা অব্যাহত রাখবেন।
গেমসে অংশগ্রহণকারী সকল ক্রীড়াবিদ, ক্রীড়া সংগঠক, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ, আমার সহকর্মীবৃন্দ, ক্রীড়ামোদী দর্শক ও স্বেচ্ছাসেবীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আপনাদের সকলের সুস্থ্যতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করে আমার বক্তব্য শেষ করছি। সবাইকে ধন্যবাদ।

মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সহায় হউন।
বাংলাদেশ চিরজীবি হোক।

বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমস: বিওএ মহাসচিবের সমাপনী বক্তব্য
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম ।
আজকের সমাপনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় অর্থমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমসের সাংগঠনিক চেয়ারম্যান জনাব আ হ ম মুস্তফা কামাল, এফসিএ, এমপি।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি গণপ্রজান্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ও গেমসের কো-চেয়ারম্যান মো: জাহিদ আহসান রাসেল, এমপি।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান ও বিওএ’র সভাপতি এবং গেমসের নির্বাহী চেয়ারম্যান জেনারেল আজিজ আহমেদ।
বিভিন্ন ফেডারেশনের সম্মানিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ, বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমসের সাংগঠনিক কমিটির সদস্যবৃন্দ ও বিওএ’র আমার সহকর্মীবৃন্দ, প্রিয় খেলোয়াড়গন, কর্মকর্তা ও গেমস পরিচালনাকারী বিভিন্ন ডিসিপি¬নের বিচারকবৃন্দ ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া’র সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা।
উপস্থিত সুধী মন্ডলী,
দীর্ঘ প্রতিক্ষিত ৯ম বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ গেমসের সফল সমাপ্তি দিনে আমি করুনাময় আল্লাহ তায়লার কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। গেমসের সাথে সম্পৃক্ত সকলকে জানাচ্ছি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা । আপনারা অবগত আছেন যে গত ১লা এপ্রিল ২০২১ সালে বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমসের শুভ উদ্বোধন ঘোষনা করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, এমপি।
কোভিড-১৯ মহামারীর সর্বোচ্চ সতর্কতা ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহন করে আমরা গেমসের সমাপ্তি টানতে সক্ষম হয়েছি। এই গেমসের সর্বাঙ্গীন সাফল্য নিয়ে আসতে আমাদের গেমসের বিভিন্ন কমিটির সকল কর্মকর্তাগণকে জানাই আমার আন্তরিক কতৃজ্ঞতা। বিশেষ করে মেডিকেল কমিটির জন্য আরেকটু বেশি যেহেতু তারা করোনা মহামারীর মধ্যেদিয়ে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন।
গত ৫ এপ্রিল হতে সরকার কর্তৃক ঘোষিত দেশব্যাপী লকডাউনের কারনে গেমসটি অনিয়শ্চতার মধ্যে পড়ে যায়। আমাদের ক্রীড়া বান্ধব মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা ব্যতীত আমরা কখনই লক ডাউন এর মধ্যে এ কঠিন কাজটি করতে সমর্থ হতাম না। আমাদের এ গেমস্ কে চলমান রাখার বিষয়ে সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, এমপি কে জানাই আমাদের অশেষ কৃতজ্ঞতা।
আপনারা জেনে অত্যন্ত আনন্দিত হবেন, যে উদ্দেশ্য নিয়ে অর্থাৎ আগামী দিনের তারকা অন্বেষনের যে প্রচেষ্টা আমাদের ছিল আমরা তাতে সফলতা পেয়েছি। এই গেমস আয়োজনের মধ্যে দিয়ে আমরা অনেক তরুণ ও প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদের সন্ধান পেয়েছি এবং এবারের বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমসে বেশ কিছু নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে যা গেমসের অনন্য সাফল্য। এই ক্রীড়াবিদগণ বাংলাদেশের আগামী দিনে ক্রীড়াঙ্গনকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।
যে সকল নতুন মুখের সন্ধান আমরা পেয়েছি, সরকারের সহযোগিতায় বিওএ’র তত্ত্ববধানে তাদের প্রশিক্ষনের পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। এ বিষয়ে ফেডারেশনগুলো আমাদের সঙ্গে কাজ করবেন বলে আমি আশা করি।
বাংলাদেশ সরকারের অর্থমন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ গেমস কে স্বার্থক করার জন্য যে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন আমি তাদেরকে বিওএ’র পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী, সকল ফেডারেশনের কর্মকর্তাগন, সরকারের বিভিন্ন সংস্থা, সামরিক চিকিৎসা সার্ভিস মহাপরিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস, বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সকলকে এ গেমসে সক্রিয়ভাবে বিওএকে সহযোগিতা করার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমস ঢাকা মহানগরীসহ সকল বিভাগীয় শহরগুলোতে সফল ভাবে শেষ করার জন্য আমি সকল জেলা প্রশাসক ও সকল স্থানীয় প্রশাসনকে বিওএ’র পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
গেমসের সাংগঠনিক চেয়ারম্যান জনাব আ হ ম মুস্তফা কামাল, এফসিএ, এমপি, কো-চেয়ারম্যান জনাব জাহিদ আহসান রাসেল, এমপি, বিওএ’র সভাপতি ও নির্বাহী চেয়ারম্যান জেনারেল আজিজ আহমেদ যে নেতৃত্ব ও নির্দেশনা প্রদান করে গেমসকে সাফল্য মন্ডিত করেছেন তাঁদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
মিডিয়া বিশেষ করে বিটিভি, মাছরাঙ্গা সহ অন্যান্য টিভি চ্যানেল, ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া এ গেমসে অক্লান্ত পরিশ্রম করে সকলের কাছে গেমসের সকল খবর পৌঁছে দেয়ার জন্য তাদেরকেও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
আজকের এ সমাপনী অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত জাঁকজমক পূর্ণভাবে আয়োজনের পরিকল্পনা গ্রহণ করলেও কোভিড মহামারী ও লক ডাউনের কারনে সংক্ষিপ্ত করে উপস্থাপন করা হয়েছে।
এই গেমসে সহায়তাকারী সকল পৃষ্ঠপোষক ও সংস্থাসমূহকেও আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
পরিশেষে, খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও আমার সহকর্মীদের সক্রিয় অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়ে আমরা বক্তব্য শেষ করছি।
খোদা হাফেজ
বাংলাদেশ চিরজীবি হউক।