পরীমণির মামলার এজাহারে যা আছে

ঢালিউডের আলোচিত অভিনেত্রী পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ব্যবসায়ী নাছির ইউ মাহমুদসহ ৬ জনকে আসামি করে সাভার থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (১৪ জুন) সকালে মামলাটি দায়ের করা হয়।

মামলার এজাহার কপিতে তিনি লিখেছেন, আমি নিম্নস্বাক্ষরকারী পরীমণি (২৫), পিতা-মৃত মনিরুল ইসলাম, মাতা-মৃত সালমা সুলতানা, সাং-সিংহখালী, থানা-ভাণ্ডারিয়া, জেলা-পিরোজপুর, বর্তমানে বাড়ি নং-১২ -১৯/এ, থানা-বনানী, ঢাকা। আসামি ১। নাসির উদ্দিন মাহমুদ (৫০), সাবেক সভাপতি উত্তরা ক্লাব, ঢাকা, পিতা- অজ্ঞাত, মাতা-অজ্ঞাত, সাং-অজ্ঞাত, থানা-অজ্ঞাত, জেলা-অজ্ঞাত, ২। অমি (৪১), পিতা-অজ্ঞাত, মাতা-অজ্ঞাত, থানা-অজ্ঞাত, জেলা-অজ্ঞাত, উভয় বর্তমান ঠিকানা-অজ্ঞাতসহ অজ্ঞাতনামা ৪ জনের বিরুদ্ধে এই মর্মে এজাহার দায়ের করছি যে, গত ৮ জুন রাত অনুমানিক সাড়ে ১১টায় আমার বর্তমান ঠিকানার বাসা থেকে আমার কস্টিউম ডিজাইনার জিমি (৩০), অমি (৪০) ও বনিসহ (২০) দুটি গাড়ি যোগে উত্তরার উদ্দেশে রওনা হই।

পথে অমি বলে বেড়িবাঁধস্থ ঢাকা বোট ক্লাব লিমিটেডে তার দুই মিনিটের কাজ আছে। অমির কথামতো আমরা ঢাকা বোট ক্লাবের সামনে ৯ জুন রাত ১২টা ২০ মিনিটে গাড়ি দাঁড় করাই। কিন্তু বোট ক্লাব বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অমি কোনো এক ব্যক্তির সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলে। তখন ঢাকা বোট ক্লাবের সিকিউরিটি গার্ডরা গেট খুলে দেয়। তখন আমি ভেতরে যায়। এ সময় অমি আমাকে অনুরোধ করে এখানের পরিবেশ অনেক সুন্দর তোমরা চাইলে নামতে পার।
এ সময় আমার ছোট বোন বনি প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দেওয়ার জন্য ঢাকা বোট ক্লাবে প্রবেশ করে। আমিও তাদের সঙ্গে প্রবেশ করে বারের কাছে টয়লেট ব্যবহার করি। টয়লেট হতে বের হতেই ১নং বিবাদী  নাসির উদ্দিন মাহমুদ (৫০) আমাদেরকে ডেকে বারের ভেতরে বসার অনুরোধ করেন এবং কফি খাওয়ার প্রস্তাব দেন। আমরা বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চাইলে অমিসহ ১নং আসামি মদ খাওয়ার জন্য জোর করেন। আমি মদ খেতে না চাইলে ১নং আসামি জোর করে আমার মুখের মধ্যে মদের বোতল প্রবেশ করিয়ে মদ খাওয়ানোর চেষ্টা করে ফলে আমার সামনের দাঁতে ও ঠোঁটে আঘাত পাই।
এ সময় ১নং আসামি আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং আমার শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে স্পর্শ করে ও আমাকে জোর করে ধর্ষণের চেষ্টা করে। উক্ত ১নং আসামি উত্তেজিত হয়ে টেবিলে রক্ষিত গ্লাস ও মদের বোতল ভাঙচুর করে আমার গায়ে ছুড়ে মারে। তখন আমার কস্টিউম ডিজাইনার জিমি ১নং আসামিকে বাধা দিতে চাইলে তাকেও মারধর করে নীলাফোলা জখম করে। আমি প্রথমে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ কল দিতে গেলে আমার ব্যবহৃত ফোনটি তারা টান মেরে ফেলে দেয়। পুনরায় ফোনটি উঠিয়ে কল দিতে চাইলে আবারও ফোনটি টেনে ফেলে দেয়।
উল্লেখ্য, ২নং আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ৪ (চার) জন আসামি ১নং আসামিকে এ সময় ঘটনা ঘটাতে সহায়তা করে। আমি অজ্ঞাতনামা আসামিদের দেখলে শনাক্ত করতে পারব।
প্রকাশ থাকে যে, ২নং আসামি অমি পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আমাকে আমার বর্তমান বাসা থেকে ঢাকা বোট ক্লাবে নিয়ে যায় এবং ২নং আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ৪ জন আসামিদের সহায়তায় ১নং আসামি  নাসির উদ্দিন মাহমুদকে (৫০) আমার শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে স্পর্শ করে এবং জোরপূর্বক আমাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। আমার সঙ্গীদের সহায়তায় ধর্ষকের হাত থেকে রক্ষা পাই।
রাত আনুমানিক ৩টায় আমি আমার গাড়িযোগে প্রায় অচেতন অবস্থায় সেখান থেকে আমার সঙ্গীদের নিয়ে ফিরে আসি। উল্লেখ্য যে আসামিরা বিভিন্ন মাধ্যমে আমাকে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে যাচ্ছে। এ বিষয়ে আমি আমার পরিবার, শিল্পী সমিতি ও অন্যদের সঙ্গে আলোচনা করে এজাহার দায়ের করতে দেরি হয়েছে।

অতএব, উল্লিখিত বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে সদয় মর্জি কামনা করছি।