পদ্মা সেতু সম্পূর্ণ নিজের টাকায় : প্রধানমন্ত্রী

স্বপ্নের পদ্মা সেতুর শেষ স্প্যানটি বসানোর পর এই সেতু নির্মাণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘সম্পূর্ণ নিজের সামর্থ্যে পদ্মা সেতু নির্মাণ করছে বাংলাদেশ। এই সেতু নির্মাণের ফলে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে যে যোগাযোগ সৃষ্টি হবে, সেটি আমাদের সরাসরি জিডিপিতে অবদান রাখবে।’

বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ডের নতুন রাষ্ট্রদূত নাথালি শিউআখ গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতু প্রসঙ্গে এসব কথা বলেন।

এরই মধ্যে পদ্মা সেতুর প্রভাব দক্ষিণাঞ্চলের গ্রামগুলোতে পড়া শুরু করেছে উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘গ্রামে এর প্রভাব পড়া শুরু করেছে; যেমন—সোলার প্যানেল বসানো, অবকাঠামোসহ গ্রামে উন্নয়ন শুরু হয়েছে।’

এদিকে ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী গতকাল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধানমন্ত্রী সহযোগিতার মাধ্যমে আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রত্যাশা করেন। আঞ্চলিক উন্নয়ন ও সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়’ নীতি অনুসরণ করে। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেসসচিব হাসান জাহিদ তুষার সাংবাদিকদের এ বিষয়ে অবহিত করেন।

প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধের পরে দেশ গঠনে ভারতের অবদানের কথা স্মরণ করেন। সাক্ষাৎকালে ভারতীয় হাইকমিশনার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আঞ্চলিক কার্যালয় (এসইএআরও) বিষয়ে বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি ভারত সরকারের সমর্থনের কথা জানান।

ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে বেক্সিমকোর কাছে কভিড-১৯ টিকার তিন কোটি ডোজ সরবরাহের চলমান প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে দোরাইস্বামী জানান যে টিকার কার্যকর সরবরাহের জন্য বাংলাদেশের স্বাস্থ্যকর্মীদের সক্ষমতা বাড়াতে তাঁরা আগ্রহী। তিনি বাংলাদেশের খাদ্য ও কৃষি খাতে আরো ভারতীয় বিনিয়োগ আনার প্রস্তাব দেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় ভারত অংশীদার হতে আগ্রহী বলে উল্লেখ করেন দোরাইস্বামী। আগামী ১৭ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে হতে যাওয়া ভার্চুয়াল সম্মেলনে চিলাহাটি-হলদিবাড়ী রেলপথসহ আরো কিছু প্রকল্প উদ্বোধন করা হবে।

মহামারিতে বাংলাদেশিদের ভিসা পাওয়া নিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার জানান, বর্তমানে ভিসার ৯০ শতাংশ ক্যাটাগরি চালু রয়েছে এবং বাকিগুলোও মহামারি পরিস্থিতি বিবেচনা করে খুলে দেওয়া হবে।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিববর্ষ’ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও বাংলাদেশ-ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর উপলক্ষে আসন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। তিনি আরো জানান যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ সব ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সব বাংলাদেশির জন্য শুভ কামনা পোষণ করেন।

দোরাইস্বামী সাক্ষাৎ দেওয়ার জন্য শেখ হাসিনার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁকে ধন্যবাদ দেন এবং ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস ও সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকিব আহমদ চৌধুরী এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে রাষ্ট্রদূত শিউআখ জানান, সুইজারল্যান্ড ও বাংলাদেশ প্রায় পাঁচ দশক ধরে গভীর ও ভবিষ্যত্মুখী সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। উভয় দেশ বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও টেকসই উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত অনুসন্ধান করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। তিনি বলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো জোরদার ও প্রসারিত করতে কাজ করে যাবেন তিনি। বহুপক্ষীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রে সুইস অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে রাষ্ট্রদূত শিউআখ জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের অস্থায়ী আসনের জন্য ২০২৩-২৪ মেয়াদে সুইজারল্যান্ডের প্রার্থিতা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

এদিকে সুইস রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রাষ্ট্রদূত শিউআখ বলেন, সংহতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অংশীদারির ভিত্তিতে সুইজারল্যান্ড ও বাংলাদেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী সুসম্পর্ক গড়ে উঠেছে। মানবিক সহায়তা ও উন্নয়ন সহযোগিতা প্রথম দিকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সূচনা করে, যা আজও প্রাধান্য পেয়ে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অর্থনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি বহুপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপরও দুই দেশ মনোনিবেশ করছে।