দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মানুষের গড় আয়ুতে করোনার থাবা

একের পর এক রেকর্ড ভাঙছে করোনাভাইরাস। এবার মানুষের গড় আয়ুতেও থাবা বসাল প্রাণঘাতী করোনা। এই ভাইরাস বেশিরভাগ দেশের মানুষের প্রত্যাশিত গড় আয়ু কমিয়ে দিয়েছে। সম্প্রতি অক্সফোর্ডের এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে এই প্রথম গড় আয়ুর ক্ষেত্রে এমন ধাক্কা এল। ওই সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ভাইরাস বনাম মানুষের যুদ্ধে বিশ্বজুড়ে এক ধাক্কায় কমে গেছে মানুষের গড় আয়ু।

সোমবার অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে ‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব এপিডিমিয়োলজি’তে।

এতে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর করোনার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের প্রত্যাশিত গড় আয়ু সবচেয়ে কমেছে। মৃত্যুহার কমিয়ে আনতে কয়েক বছরে যে অগ্রগতি হয়েছিল তা মুছে দিয়েছে করোনা মহামারি।

ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র, চিলিসহ ২৯টি দেশের মৃত্যুহারের তথ্য একত্রিত করেছেন গবেষকরা। সেখানে নজিরবিহীন পরিবর্তন চোখে পড়েছে। ওই গবেষণায় দেখা গেছে, ২৯টি দেশের মধ্যে ২৭টি দেশেই মানুষের প্রত্যাশিত গড় আয়ু কমেছে।

এই প্রেক্ষিতে বিশেষজ্ঞেরা জানিয়েছেন, বহু বছর ধরে একটু-একটু করে মানুষের জীবনকালের যে উন্নতি ঘটেছিল, তা এই মহামারিতে এক ধাক্কায় ধুয়ে সাফ হয়ে গেল।

২২টি দেশে প্রত্যাশিত গড় আয়ু ৬ মাসের বেশি কমেছে। গবেষকরা বলছেন, আট দেশের নারী এবং ১১ দেশের পুরুষের গড় আয়ু এক বছরের বেশি কমেছে।

গবেষক দলের অন্যতম প্রধান ড. জোস ম্যানুয়েল আবুর্তো বলেন, স্পেন, ইংল্যান্ড, ওয়েলস, ইতালি, বেলজিয়াম ও অন্যান্য ইউরোপীয় দেশে মানুষের এই রকম ব্যাপক আয়ু হ্রাস শেষ দেখা গিয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে।

তিনি আরও জানান, ১০-১৫টি দেশের কথা আলাদা করে উল্লেখ করা হলেও প্রায় সব দেশেই এই অভিঘাত টের পাওয়া গেছে।

গবেষকেরা জানিয়েছেন, আগের গবেষণায় দেখা গেছে, কোনো দেশের বাসিন্দাদের গড় আয়ু এক বছর বাড়তে সাড়ে পাঁচ বছর সময় লাগে। মহামারির জেরে আয়ুবৃদ্ধির সেই চরিত্রটাই ভেঙে গেল। ব্যর্থ হয়ে গেল মেডিকেল সায়েন্সের বহুদিন লালিত সাধনা ও শ্রমের।

 সূত্র: রয়টার্স।