তালেবান প্রভাবে স্থগিত আফগানিস্তান-পাকিস্তান সিরিজ

তালেবান তান্ডবে আফগানিস্তানে ভয়াবহ পরিস্থিতি ও ক্রিকেটারদের মানসিক অবস্থা, সিরিজ আয়োজনে শ্রীলংকা  ভ্রমন চ্যালেঞ্জিং বিবেচনাং শেষ পর্যন্ত  স্থগিত হলো আফগানিস্তান-পাকিস্তান ওয়ানডে সিরিজ। শ্রীলংকার মাটিতে সিরিজটি হবার কথা ছিলো।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সাথে দীর্ঘ আলোচনা করে সিরিজটি স্থগিত করে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি)। গতরাতে পিসিবি এক টুইটে জানিয়েছে, নতুন সূচিতে ২০২২ সালে সিরিজটি আয়োজন করার চেষ্টা করা হবে।
এসিবির প্রধান নির্বাহি হামিদ সিনওয়ারি বলেন, ‘ক্রিকেটারদের মানসিক অবস্থার কথা মাথায় রেখে সিরিজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দু’পক্ষের সম্মতিতেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’
পাকিস্তান ও শ্রীলংকা ক্রিকেট বোর্ডও (এসএলসি) আফগানিস্তানের এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন সিনওয়ারি। তিনি বলেন, ‘সোমবার সন্ধ্যায় পিসিবির সাথে আলোচনায় আমরা সিরিজ স্থগিত রাখার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। আগামী বছর আমরা এই সিরিজ খেলার কথা জানিয়েছি। পিসিবি সম্মতি জানিয়েছে। তারাও আমাদের সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছে। কিন্তু সার্বিক পরিস্থিতি বিশেষ করে আমাদের খেলোয়াড়দের মানসিক প্রস্তুতি বিবেচনা করে আমরা দেখেছি তারা প্রস্তুত নয়। আমাদের একটি ক্যাম্প করা প্রয়োজন। আবহাওয়া ও কন্ডিশনের সাথে তাদের মানিয়ে নেওয়ার জন্য আমাদের সময় প্রয়োজন।’
টুইটারে এক বার্তায় পিসিবি জানিয়েছে, ‘আফগানিস্তানের ক্রিকেটারদের মানসিক অবস্থার পাশাপাশি শ্রীলংকায় বাড়তে থাকা কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা, কাবুল থেকে শ্রীলংকায় যাওয়ার অসুবিধা ও সম্প্রচারের ক্ষেত্রে সমস্যার কথা এসিবি আমাদের জানিয়েছে। সে কথা বিবেচনা করে আমরা সিরিজ আপাতত স্থগিত রাখছি। ২০২২ সালে সিরিজ আয়োজনে চেষ্টা করবে দু’দেশের ক্রিকেট বোর্ড।’
আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ সুপার লিগের অংশ সিরিজটি প্রথমে হবার কথা ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতে। কিন্তু সেখানে হবে আইপিএলের বাকি অংশ। তাই সিরিজটি শ্রীলংকার হাম্বানটোটায় আয়োজনের  সিদ্বান্ত হয়।
অবশ্য  এক দিন আগেই  সিরিজটি পাকিস্তানের মাটিতে আয়োজনের কথাও জানা গিয়েছিল। কিন্তু  শেষ পর্যন্ত তা স্থগিতই  হয়ে গেল।
তালেবানরাদের ক্ষমতা দখলে কাবুল বিমানবন্দরে  বন্ধ সকল বাণিজ্যিক ফ্লাইট। তাই আফগানিস্তান থেকে সড়কপথে পাকিস্তান গিয়ে দুবাই হয়ে শ্রীলংকা যাবার কথা ছিলো রশিদদের। এছাড়া করোনার প্রভাব বাড়ায়, শ্রীলংকায় দশদিনের লকডাউনও ছিলো। সবকিছু বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত সিরিজটি স্থগিত হলো।