ঢাকা উত্তরে ১১০০ শয্যার করোনা হাসপাতালের যাত্রা শুরু

২২২ আইসিইউসহ মোট ১ হাজার ১০০ শয্যা নিয়ে রাজধানীর মহাখালীতে যাত্রা শুরু করেছে ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতাল। বেলা ১২টা নাগাদ এই হাসপাতালের উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী জাহিদ মালেক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র  মো. আতিকুল ইসলাম।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন, আমরা আজ ঢাকাবাসীর জন্য একটি মহৎ কাজ করতে পেরেছি। বিশ্বের অনেক দেশই এই মহামারীর কারণে থমকে গেছে। পাশের দেশ ভারতও কঠিন সময় পার করছে। সেখানে এই মহামারীর মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী আমাদের দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। সরকার শুরু থেকেই কোভিড মোকাবিলায় কাজ করে যাচ্ছেন।

মন্ত্রী আরো বলেন, গত বছর যখন আমরা কোভিডের জন্য হাসপাতাল প্রস্তুত করছিলাম তখন এ সম্পর্কে আমাদের কারোরই জ্ঞান ছিলো না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দিকনির্দেশনা মতো আমরা কাজ শুরু করেছিলাম। তখন আমরা বসুন্ধরা এবং ডিএনসিসির এই মার্কেটটিকে আইসোলেশন সেন্টার বানাই। ফলে আমরা অল্প দিনেই কোভিড মোকাবিলা করতে পেরেছি। প্রথম ধাপ পার করার পরে এই মার্কেটটিকে আমরা টেস্টিং সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করি। তবে কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ে আগের চেয়ে প্রায় ১০ গুন লোক সংক্রমিত হয়েছে। ফলে হাসপাতালে রোগীর চাপও ১০ গুন বেড়েছে। একারণেই আমরা আবারও এই মার্কেটিকে কোভিড হাসপাতাল করতে কাজ শুরু করি এবং মাত্র ২০ দিনের মধ্যে সেই অসাধ্য ডিএনসিসি এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্ভব করেছে।

kalerkantho

এ সময় জাহিদ মালেক কোরোনা মোকাবিলায় বিশ্বের অনেক দেশের সমন্বয়হীনতার কথা উল্লেখ করে বলেন, উন্নত অনেক দেশে করোনা রোগীদের তাবুতে রাখতে হয়েছে। আমাদের এখানে সেটা এখনও করতে হয় নি। আমরা কোভিড মোকাবিলা করতে পেরেছি। তবে আমাদেরকে বুঝতে হবে কোভিড চলে যায়নি। যুব সমাজ বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। তারা তাদের পরিবারের বয়ষ্কদের আক্রান্ত করছে। যুবকদের মৃত্যু কম হলেও বয়ষ্করা মারা যাচ্ছেন। ফলে আমি বলবো যে আপনারা অকারণে বাইরে যাবেন না।

এ সময় স্বাস্থ্য সেবা দিতে গিয়ে যারা কোভিডে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন মন্ত্রী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, এই ভবনে আমরা ২৫৮টি দোকান বরাদ্দ দিয়েছিলাম। সেটা বাতিল করে এখানে আমরা করোনার জন্য ডেডিকেটেড হাসপাতাল করেছি। ঢাকা ভাগ হওয়ার সময় উত্তরে কোনো হাসপাতাল ছিলো না। ফলে এখন এটাই ডিএনসিসি এলাকার প্রথম হাসপাতাল। এতে মোট ১৭৫ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এই মার্কেটে যাদেরকে দোকান বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল তারা ১১ জন আমার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তবে আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যদি এই দোকানিরা কেউ অসুস্থ হয় তাহলে তাদের সবার আগে তাদেরকে এই হাসপাতালে জায়গা দিবো। দোকান করার জন্য অনেক জায়গায় পাবো কিন্তু হাসপাতালের জন্য  পাবো না। এসময় এই হাসপাতালটিকে কোভিড মোকাবিলার পরে একটি নার্সিং কলেজ কারার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন মেয়র। পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিরা অসুস্থ হলে তাদেরকে সরকারি হাসপাতালে যওয়ার জন্য তিনি অনুরোধ করেন। এই হাসপাতালে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দেন মেয়র।

এর আগে স্বাস্থ্য মন্ত্রী এবং ডিএনসিসি মেয়র হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন।

উল্লেখ্য গত বছরেও কোভিডের জন্য এই হাসপাতালটি চালু করেছিলো ঢাকা উত্তর।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল‍্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব লোকমান হোসেন মিয়া, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম এবং ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজাসহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ।