টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে প্রধানমন্ত্রী পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসে প্রতি বছরের মত এ বছর করোনা ভাইরাসের কারণে টুঙ্গিপাড়ায় আসতে পারেননি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী পক্ষে তাঁর প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকিব আহমদ চৌধুরী জাতির পিতার সামাধীতে পুস্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল অনার গার্ড প্রদান করে। বেজে ওঠে বিগউলের করুন সুর। পরে বঙ্গবন্ধু ও পরিবারের নিহত সদস্যদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন তিনি।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আওয়ামী রীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য মুহাম্মদ ফারুক খান এমপির নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের পক্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানান নেতার্মীরা।
এসময় প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাসিম, সংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, মির্জা আজম, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক এমপি, আফজাল হোসেন, সদস্য সাহাবুদ্দিন ফরাজী, আনিসুর রহমান, গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চৌধুরী এমদাদুল হক, সাধারন সম্পাদক মাহাবুব আলী খানসহ জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এরপর জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগঠনের পক্ষে শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষকে শ্রদ্ধা জানাতে বঙ্গবন্ধু সমাধি সৌধ কমপ্লেক্স উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মুহাম্মদ ফারুক খান বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে যেসব খুনি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বিদেশে ফাঁসির দন্ড মাথায় নিয়ে পালিয়ে আছে। তাদেরকে দেশে ফিরেয়ে আনার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে সরকার। যে দেশে পালিয়ে আছে সে দেশের সরকারের সাথে আলাপ আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
জাহাঙ্গীর কবীর নানক বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর হত্যার পিছনে জিয়াউর রহমান জড়িত। তাই দেশের মানুষ জিয়াউর রহমানকে ঘৃনাভরে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে।
কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বলেন, আজকে একটি কালো দিন। আজকের দিনে ঘাতকেরা জাতির পিতাসহ তার পরিবারের সদস্যদেরকে হত্যা করেছিল।
বেলা ১১টায় সমাধি সৌধ কমপ্লেক্স মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া মাহফিলে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে টুঙ্গিপাড়ার বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। জেলার বিভিন্ন সড়কে নির্মাণ করা হয়েছে তোরণ।