টিকার কার্যকারিতার চেয়েও ৮ গুণ শক্তিশালী করোনার ডেল্টা প্রজাতি, দাবি গবেষকদের

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমলেও এখনও উদ্বেগ কমছে না এই ভাইরাসকে নিয়ে। কেননা, এই ভাইরাসের নতুন প্রজাতি ‘ডেল্টা’র চোখ রাঙানিতে উদ্বেগ বেড়েই চলেছে। এবার সেই চিন্তা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিল দিল্লির গঙ্গারাম হাসপাতালের একটি গবেষণা।

তাদের দাবি, চীনের উহান থেকে ছড়ানো ভাইরাসের তুলনায় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট অনেক বেশি ভয়ঙ্কর। করোনা টিকার কার্যকারিতার চেয়ে ৮ গুণ শক্তিশালী এটি! হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন। অর্থাৎ টিকার দু’টি ডোজ নেওয়া হয়ে গেলেও নিশ্চিন্ত হওয়া যাবে না।

নতুন এই গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, করোনা ভ্যাকসিন নিলে শরীরে যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, তা কোভিডের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের ওপর ৮ ভাগ কম কাজ করে। ইতিমধ্যেই B.1.617.2 অর্থাৎ ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টকে ‘উদ্বেগের ভ্যারিয়েন্ট’ বলে উল্লেখ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

প্রায় ১০০ দেশে এই চরিত্র বদলানো করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রধান জানিয়েছিলেন, “এটি মহামারীর অত্যন্ত ভয়ঙ্কর সময়।”

পাশাপাশি প্রতিটি দেশকে সমানভাবে টিকাকরণে জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। এরই মধ্যে দিল্লির হাসপাতালের এই গবেষণা রীতিমতো চিন্তার বিষয় কারণ হয়ে দাঁড়ালো।

গবেষকদের দাবি, যারা আগেই করোনা আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়েছেন, তাদের শরীরে তৈরি অ্যান্টিবডিকে সরিয়ে দিয়ে নতুন করে দেহে থাবা বসাচ্ছে এই ভ্যারিয়েন্ট। অর্থাৎ এক্ষেত্রে নতুন করে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে পারে। এখানেই শেষ নয়, ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমিত করার গতিও তুলনামূলক বেশি। এমনকি যারা ইতিমধ্যেই করোনা টিকার দুটি ডোজই নিয়েছেন, তারাও খুব একটা সুরক্ষিত নয় বলেই দাবি গবেষণার। ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের ওপর এর কার্যকারিতা আট গুণ কম। ফলে শুধু সার্বিক সংক্রমণের চিত্র নিম্নমুখী হওয়ায় এখনই স্বস্তির নিশ্বাস ফেলা যাবে না। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, ইন্ডিয়া টিভি নিউজ, ইন্ডিয়া ডটকম, ফার্স্টপোস্ট