জিয়া হত্যার বিচার বিএনপি করেও নি চায়ও নি; তদন্তই হয়নি হত্যা মামলার; কোর্ট মার্শালে বিচারের নামে ফাঁসি দেয়া হয়েছে ১৩ মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তাকে

১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিহত হন। জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার ৪০ বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত এ হত্যার মূল রহস্য যেমন উদঘাটিত হয়নি, তেমনি জিয়া হত্যার বিচারও হয়নি। সামরিক আদালতে যে বিচার হয়েছিলো তা ছিলো সেনা অভ্যুত্থান তথা মিউটিনির। সেই বিচার নিয়েও রয়েছে বিতর্ক। কিন্তু বেসামরিক আদালতে হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ায় জিয়া হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কে বা কারা ছিলো তা রহস্যঘেরাই রয়ে গেলো।
জিয়া হত্যার মূল রহস্য কী ছিল, সেই হত্যার বিচার নিয়ে কেনো কোনো উদ্যোগই নেয়নি বিএনপি? অথচ দলটি ক্ষমতায় ছিলো কয়েকবার। বিএনপির এই অনীহা কেন? এ নিয়ে রয়েছে নানা রহস্য।


(ছবি-সংগৃহীত)

১৯৮১ সালে ৩০ মে জিয়াউর রহমানকে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের সময় সেনাপ্রধান ছিলেন হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ। জেনারেল এরশাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা জেনারেল মঞ্জুরের নেতৃত্বে জিয়াউর রহমানকে হত্যা করেছে। এরশাদের নির্দেশে জিয়াউর রহমানের হত্যার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সেনাবিদ্রোহ বা মিউটিনির অভিযোগ এনে বিচারের নির্দেশনা দেন। ওই নির্দেশনায় ত্বরিৎ গতিতে সামরিক আদালত গঠন করে মুক্তিযোদ্ধা ১৩ সেনা কর্মকর্তাকে নির্মমভাবে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়। এর আগেই তৎকালীন চট্টগ্রামের জিওসি মেজর জেনারেল মঞ্জুরকে আটক করে সেনাহেফাজতে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
জিয়াউর রহমানের হত্যার পর তাঁর স্ত্রী খালেদা জিয়া বলেছিলেন,জিয়াউর রহমানের হত্যার সুষ্টু তদন্ত করতে হবে এবং বেসামরিক আদালতে হত্যার বিচার করতে হবে। কিন্তু সেটা হয়ে ওঠেনি ৪০ বছরেও। এমন কি বেগম খালেদা জিয়া তিন তিনবার ক্ষমতায় থেকেও তাঁর স্বামী হত্যার বিচার করেন নি। বরং খালেদা জিয়ার শাসনামলেই হত্যা মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জিয়াউর রহমান যখন নিহত হন তখন তিনি দেশের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। সামরিক কর্মকর্তা ছিলেন না। তার সঙ্গে বেসামরিক লোকও নিহত হন। দেশের প্রেসিডেন্টসহ বেসামরিক লোকদের হত্যার জন্য অবশ্যই প্রচলিত ফৌজদারি আইনে বিচার হওয়া দরকার ছিলো। কিন্তু বিএনপি কয়েকবার ক্ষমতায় থেকেও কেনো তা করলো না তা রহস্যঘেরাই থাকলো।

(ছবি-জিয়া হত্যার ঘটনায় সামরিক আদালতে ফাঁসিতে মৃত্যুবরণকারী ১৩ মুক্তিযোদ্ধা সেনাকর্মকর্তা)
জিয়াউর রহমান যখন চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে নিহত হন, সেসময় সার্কিট হাউজে বিএনপির হেভিওয়েট নেতারাও উপস্থিত ছিলেন, তাদের গায়ে আঁচড়টি পর্যন্ত লাগেনি কেন? তা হলে এই হত্যাকাণ্ডটি কি শুধুই কিছু সংক্ষুব্ধ সামরিক কর্মকর্তার হঠকারিতা ছিল? নাকি এর পেছনে সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ছিল?
বিশ্লেষকরা মনে করেন, জিয়া হত্যার পর বিএনপির যে রাজনৈতিক ধারা, সেই রাজনৈতিক ধারায় হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে যারা যুক্ত তারা বিভিন্নভাবে সুবিধা পেয়েছেন। আর এ কারণেই এই হত্যাকাণ্ডে কার কি ভূমিকা ছিল তা জানা দরকার। কিন্তু রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি এই হত্যাকাণ্ডে কেবল ফায়দা লুটতে চেয়েছে তারা হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে চায়নি। এমন কি জিয়ার পরিবারও এ হত্যাকাণ্ডের বিচায় চায় নি।
বিএনপির আমলেই শেষ হত্যা মামলা:
সামরিক আদালতে বিদ্রোহের বিতর্কিত বিচার হলেও বিএনপি নেতাদের অবহেলায় আলোর মুখ দেখেনি জিয়াউর রহমান হত্যাকান্ডের ঘটনায় ফৌজদারি আইনে থানায় দায়ের হওয়া মামলাটি। বিএনপি কয়েকদফায় ক্ষমতায় এলেও নিজ দলের প্রতিষ্ঠাতার হত্যা মামলাটির কোন কুলকিনারা করেনি তারা।
বছরের পর বছর ধরে তদন্তের নামে সময়ক্ষেপণের পর ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের আমলেই মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করে সেটিকে পুরোপুরি ধামাচাপা দিয়ে দেয়া হয়।

ফলে জিয়াউর রহমান হত্যাকান্ডের নেপথ্যের ইন্ধনদাতা, পরিকল্পনাকারী ও ষড়যন্ত্রকারীর মুখোশ উন্মোচিত হয়নি।
প্রকৃত ঘটনা জানার জন্য হত্যাকান্ডের নেপথ্যের সব রহস্য উন্মোচনে তদন্ত কমিশন গঠনের কথা বিএনপির বিভিন্নস্তরের নেতাকর্মীরা দাবি করলেও দলের নীতিনির্ধারকরা তা আমলে নেননি।
বিশ্লেষকরা বলছেন জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের সময় দেশে সামরিক আইন ছিলোনা। তিনি ছিলেন সিভিল রাষ্ট্রপতি। আর হত্যাকাণ্ডটিও হয়েছে সিভিলিয়ান এরিয়া বা বেসামরিক এলাকা সার্কিট হাউজে। বেসামরিক এলাকায় দেশের রাষ্ট্রপতিকে হত্যা করা হলে সেই হত্যার বিচার বেসামরিক আদালতে না হয়ে কেনো সামরিক আইনে ও আদালতে হবে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন সেনা আইনের এ বিচার ছিলো সম্পূর্ণ অবৈধ। এ ছাড়া জিয়াউর রহমানের সঙ্গে কয়েকজন বেসামরিক লোকও নিহত হন। তাদের মধ্যে ছিলেন দু’জন দু’জন পুলিশ সদস্য ও গাড়ী চালক। তাদের হত্যার বিচার হলো না কেনো?
অনুসন্ধানে দেখা যায়, জিয়া হত্যার ঘটনায় তৎকালীন চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার মোকাররম হোসেন বাদি হয়ে ১৯৮১ সালের ১ জুন নগরীর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। (কোতোয়ালি থানার মামলা নং-২(৬)৮১,ধারা- ১২০ বি/১৩১/১৩২/১৪৮/১৪৯/১২১এ/১২৪/(এ)/৩০২/৩৩৩/৩০৭/২০১/১০৯/৩৪ দ:বি: )।
মামলায় চট্টগ্রামের তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল এম এ মঞ্জুরসহ ১০ জনকে আসামী করা হয়। বাকি আসামিরা হলেন, কর্ণেল দেলোয়ার হোসেন, লে.কর্ণেল ফজলে হোসেন, মেজর মনির, মেজর দোস্ত মোহাম্মদ, মেজর মোজাফফর, মেজর রেজাউল করিম, ক্যাপ্টেন রফিক, ক্যাপ্টেন ইলিয়াছ এবং ক্যাপ্টেন জামিউল হক।
মামলা দায়েরের পর সেটি তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছিলেন নগর পুলিশের কোতোয়ালি জোনের তৎকালীন সহকারী কমিশনার আব্দুল হাকিম খান। এরপর কয়েকবার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন হলেও তদন্তে দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি ছিলোনা। অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৮৩ সালের ১০ এপ্রিল মামলাটি বিচারিক নথিতে অন্তর্ভুক্ত হয়। ওই দিন থেকে ১৯৯৭ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য ১৪৩ বার তারিখ নির্ধারণ করেন আদালত। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তার কাছ থেকে কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতার আসার পর মামলাটি সচল করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এসময় পুলিশ সদর দপ্তর থেকে তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চেয়ে চিঠি দেয়া হয়েছিলো চট্টগ্রাম পুলিশ কমিশনারকে। কিন্তু প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা আব্দুল হাকিম খান কোনো নথিপত্র রেখে যাননি উল্লেখ করে ১৯৯৭ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনারের পক্ষ থেকে পুলিশ সদর দপ্তরে জবাব পাঠানো হয়।
১৯৯৭ সালের ৩১ মার্চ পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক চিঠিতে মামলাটি স্থগিত রাখার জন্য আদালতে আবেদন জানানো হয়। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, সেনা কর্তৃপক্ষ যেহেতু মামলাটির তদন্ত করেছে, তাই পুলিশের আর তদন্তের দরকার নেই।
কিন্তু আদালত ওই আবেদন প্রত্যাখ্যান করে পুলিশ মহাপরিদর্শককে শোকজ করেন। এতে বলা হয়,জিয়া হত্যার ঘটনার সময় সেনা সদস্য ছাড়া পুলিশ ও বেসামরিক ব্যক্তি নিহত, আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ঘটনার সময় বেসামরিক লোক উপস্থিত ছিল। তাই সামরিক কর্তৃপক্ষ এককভাবে তদন্ত ও বিচার করা আইনবহির্ভূত বিধায় পুলিশ দিয়ে কেনো মামলার তদন্ত পরিচালনা করা যাবে না তা জানতে চাওয়া হয়।
আদালতের এ আদেশের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ১৮/০২/ ১৯৯৯ তারিখে সিআইডির মাধ্যমে মামলাটি তদন্তের উদ্যোগ নেয়। সিআইডির তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল কাদের খান তদন্তের দায়িত্ব নেন। তিনি কয়েক দফা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে যারা জিয়ার সফরসঙ্গী ছিলেন এবং সেই রাতে একসঙ্গে সার্কিট হাউজে ছিলেন, তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চিঠি ইস্যু করেন। কিন্তু বিএনপির কোনো নেতা এবং দলের পক্ষে কেউ এতে সাড়া দেননি। এক পর্যায়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা ঢাকায় গিয়েও বিএনপি নেতাদের সাক্ষাৎ করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন বলে জানা গেছে।
এ অবস্থায় আব্দুল কাদের খান ২০০১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর আদালতে এ মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এ সময় দেশে ছিলো বিচারপতি লতিফুর রহমানের নেতৃত্বাধীন তত্বাধায়ক সরকার।
২০০১ সালের ১ অক্টোবর বিএনপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর ওই বছরের ২৪ অক্টোবর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি গৃহীত হয়। চট্টগ্রাম মূখ্য মহানগর হাকিম মো:আব্দুল মালেক চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেন। এর মধ্য দিয়ে ইতিহাসের পাতা থেকে হারিয়ে যায় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের মত চাঞ্চল্যকর ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাটি।
বিশ্লেষকরা বলছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা কখনোই চাননি জিয়া হত্যার রহস্য উন্মোচিত হোক কিংবা এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে সামরিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বেসামরিক লোকদের মধ্যে কারা জড়িত ছিল, তাদের নাম তদন্তে বেরিয়ে আসুক। বিএনপি যদি জিয়া হত্যা মামলার বিচার করতে আন্তরিক হতো তাহলে চূড়ান্ত প্রতিবেদনের উপর নারাজি দিলো না কেনো এমন প্রশ্ন রাখছেন অনেকেই।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন,যদিও ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০৩ ধারা অনুযায়ী একই ঘটনার দু’বার বিচার হতে পারেনা। কিন্তু এ মামলাটি বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর আগেই বন্ধ হয়ে গেছে। তদন্তই হয় নি। আর সামরিক আইনে যে বিচার হয়েছে সেটি ছিলো ভিন্ন। সেখানে হত্যা মামলার বিচার হয়নি, হয়েছে সেনা অভ্যুত্থানের জন্য মিউটিনির অপরাধে। যা ফৌজদারি আইনে গণ্য হবেনা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুলিশ চাইলে জিয়া হত্যার মামলাটি আবারও পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব।
জেনারেল ইব্রাহীম যা বললেন:
জিয়া হত্যাকাণ্ডের পর সামরিক আদালতে সেনা অফিসাররা ন্যায় বিচার পাননি এমন কথা বলেছিলেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মুহাম্মদ ইব্রাহীম। যিনি জিয়া হত্যার পর গঠিত সামরিক আদালতে অভিযুক্তদের পক্ষে আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। জেনারেল ইব্রাহীম ২০১৮ সালের ৩০ মে বিবিসি বাংলায় এক সাক্ষাতকার দিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছিলেন। বিবিসিকে সেদিন কি বলেছিলেন জেনারেল ইব্রাহীম?
তিনি বলেছিলেন, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর যে সামরিক আদালত গঠন করা হয়েছিল, সেখানে শুধু অভ্যুত্থানের বিচার হয়েছিল।
সেই অভ্যুত্থানের পর গঠিত সামরিক আদালতে ১৩ জন সেনা অফিসারকে ফাঁসি দেয়া হয়েছিল।
বিবিসি বাংলাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে মি: ইব্রাহীম দাবি করেছেন যে, তৎকালীন কর্তৃপক্ষ ওই সেনা আদালতকে যথাযথভাবে কাজ করতে দেয়নি, ফলে অভিযুক্তরা ন্যায় বিচার পাননি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আইনের ৩১ ধারায় সে বিচার হয়েছিল। সেখানে বিদ্রোহের বিচার হয়েছিল। কিন্তু রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার হয়নি।
সে বিচারে যেসব সেনা কর্মকর্তাদের ফাঁসি হয়েছিল তাদের পরিবারের অনেক সদস্য অভিযোগ করেন যে সেখানে ন্যায় বিচার হয়নি।
বিবিসির প্রশ্নের জবাবে জেনারেল ইব্রাহিম বলেন, “আমি সাক্ষী দিচ্ছি যে তাঁরা ন্যায় বিচার পায় নাই। ন্যায় বিচার পাওয়ার স্বার্থে যতদিন কোর্ট মার্শাল চলা উচিত ছিল, সেটা চলতে দেয়া হয় নাই।যেসব সাক্ষী-প্রমাণ হাজির করার জন্য আমরা চেয়েছি, সেগুলো হাজির করতে আমাদের দেওয়া হয় নাই।”
যদি সব সাক্ষী-প্রমাণ হাজির করা সম্ভব হতো তাহলে আরো অনেক ব্যক্তি খালাস পেতো বলে মনে করেন সাবেক এ সেনা কর্মকর্তা।
সেনা বিদ্রোহের মূল চালিকাশক্তি এবং নেপথ্যের নায়ককে চিহ্নিত না করে কিছু লোককে বাধ্যতামূলক ফাঁসি দেয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সে সামরিক আদালত স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেনি বলে মনে করেন মি: ইব্রাহীম।
যারা সেসময় ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তাদের পরিবার চাইলে এখন কোন প্রতিকার আশা করতে পারেন ?
এমন প্রশ্নে মি: ইব্রাহীম বলেন, বাংলাদেশে এমন কোন আইন নেই যার মাধ্যমে কোর্ট মার্শালের রায় রিভিউ বা পুনরায় পর্যালোচনা করা যায়।
মি: ইব্রাহীম বলেন, জিয়া হত্যাকাণ্ডের বিচারের জন্য ১৯৮১ সালের রাজনৈতিক সরকার কোনো চেষ্টা করেনি।