জাতিসংঘে প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গা রেজুলেশন সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের আহ্বানে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে একটি প্রস্তাব পাশ করা হয়েছে। এই প্রস্তাবের মাধ্যমে অবর্ণনীয় নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পক্ষে জবাবদিহিতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

সোমবার (১২ জুলাই) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের ৪৭তম অধিবেশনে রোহিঙ্গা সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। জেনেভায় অবস্থিত বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

No description available.

(রাষ্ট্রদূত মো. মোস্তাফিজুর রহমানসহ অন্যরা)

এই প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ ফোরামে বিনা ভোটে রোহিঙ্গাবিষয়ক কোনো রেজুলেশন সবার সম্মতিতে গৃহীত হলো। এমনকি ২০১৭ সালে যখন রোহিঙ্গাদের ওপর চরম নির্যাতন চলছিল তখনও রোহিঙ্গাদের পক্ষে কোনো রেজুলেশন সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়নি।সেই বিবেচনায় এবারের ঘটনাটি বাংলাদেশের জন্য বড় একটি মাইলফলক।

No description available.

বাংলাদেশের উদ্যোগে ইসলামিক সম্মেলন সংস্থা (ওআইসি) এর সব সদস্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ‘রোহিঙ্গা মুসলিম ও মিয়ানমারের অন্যান্য সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার পরিস্থিতি’ শীর্ষক রেজুলেশনটি পেশ করা হয়।

এ বিষয়ে রাষ্ট্রদূত মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘সব পক্ষকে একমত করানোর জন্য প্রথম থেকেই সব স্থরে সব ধরনের চেষ্টা করেছি। অবশেষে কোনও রাষ্ট্রই এই রেজুলেশনের বিরোধিতা করেনি, যেটি বাংলাদেশের কূটনীতির একটি বড় অর্জন।’

No description available.

তিনি বলেন, ‘একদিকে আমরা ওআইসি রাষ্ট্রগুলোকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছি, এই রেজুলেশনে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের বাস্তবতা থাকতে হবে। অন্যদিকে পশ্চিমা দেশগুলোকে মানবাধিকারের বিষয়গুলোর সঙ্গে একমত হওয়ার অনুরোধ করেছি।’

প্রস্তাবটির ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘জাতিসংঘের আলোচ্য সূচিতে রোহিঙ্গা সংকট সমাধান ও রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়টি সক্রিয় আলোচনায় রাখা প্রয়োজন।’ কেবল মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বিশ্ব সম্প্রদায়ের রোহিঙ্গাদের প্রতি মনোযোগ হারানো উচিত হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

No description available.

তিনি রোহিঙ্গাদের পূর্ণ নিরাপত্তা ও সম্মানের সঙ্গে নিজেদের আবাসস্থলে ফেরত পাঠানোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দৃশ্যমান ও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।