চোখে জল এনে দেবে আইপিএল তারকা চেতন সাকারিয়ার জীবনকাহিনী

আইপিএলের মঞ্চে গতকাল সোমবারের রাজস্থান-পাঞ্জাব ম্যাচে রানবন্যা বয়ে গিয়েছিল। আগে ব্যাট করে পাঞ্জাব ২২১ রান তোলে। মুস্তাফিজ-বেন স্টোকসরা যখন বেদম পিটুনি খাচ্ছিলেন, সবার বিপরীতে দাঁড়িয়ে তরুণ একজন পেসার তুলে নেন ৩১ রানে ৩ উইকেট। তার নাম চেতন সাকারিয়া। এটা নিশ্চিতভাবেই বলে দেওয়া যায়, গতকালই বেশিরভাগ ক্রিকেপ্রেমী এই পেসারের নাম প্রথম শুনেছে। এই বাঁহাতি পেসারকে নিয়ে ম্যাচ শেষে ধন্যি ধন্যি পড়ে গেছে। ২৩ বছরের চেতনের প্রশংসায় পঞ্চমুখ সবাই।

চেতনের এ পর্যন্ত উঠে আসা কিন্তু এতটা সহজ ছিল না। গতকালের ম্যাচের পর চেতন জীবনকাহিনী টুইটারে শেয়ার করেছেন বীরেন্দ্র শেবাগ। এক সাক্ষাতকারে ছেলের গল্প শুনিয়েছিলেন চেতনের মা। রাজকোট শহর থেকে ১৮০ কিলোমিটার দূরে ভারতেজ নামের এক অঞ্চলে জন্ম চেতনের। ছোট থেকেই আগ্রহ ক্রিকেটে। ব্যাটিং পছন্দ করতেন। তবে স্কুলের দলে ব্যাটসম্যানকে কেউ দাম দিত না। তখন তিনি সিদ্ধান্ত বদলে হয়ে যান পেসার। ১৬ বছর বয়স হওয়ার আগপর্যন্ত নিজে নিজেই বল করতেন।

কোনো পথ প্রদর্শক না থাকায় সাকারিয়া দ্রুতই ইনজুরিতে পড়েন। রীতিমতো এক বছরের জন্য বাইরে চলে যান। সুস্থ হয়ে ভাবেন, আর নয়। এবার সঠিক নিয়মে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি সোজা চলে যান এমআরএফ পেস ফাউন্ডেশনে। সেখানে তিনি সান্নিধ্য পান অজি পেস কিংবদন্তি গ্লেন ম্যাকগ্রার। একসময় রাজ্য দলে সুযোগ পান। এরপরই তাদের জীবনে নেমে আসে ঘোর দূর্যোগ। চেতন তখন সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফি খেলছিল। এমন সময় তার এক বছরের ছোট ভাই আত্মহত্যা করে!

মাঠের খেলা থেকে ছেলের মনযোগ যাতে ঘুরে না যায়; সেজন্য বুকে পাথর চেপে চেতনের মা ১০ দিন গোপন রাখেন ভাইয়ের মৃত্যুর খবর। কিন্তু কতদিন আর গোপন রাখা যায়? একদিন কাঁদতে কাঁদতে মা বলেই দেন ভয়ানক দুঃসংবাদটি। অভিমানে সাত দিন বাড়তিতে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন চেতন। এ কয়দিন তিনি কিছুই খাননি। ঘটনার এখানেই শেষ নয়। মড়ার ওপর খাড়ার ঘা- এর মতো আবারও দুর্যোগ নেমে আসে চেতনের পরিবারে। দুর্ঘটনায় পড়েন তার বাবা!

চেতনের বাবা একজন ট্রাক ড্রাইভার। তিন-তিনটি সড়ক দুর্ঘটনায় তার শরীরে তিনবার অস্ত্রোপচার হয়েছে। এখন তিনি আর বিছানা ছেড়ে উঠতে পারেন না। উপার্জনও করতে পারেন না। যদিও ছোট ছেলের মৃত্যুর পর বাবাই ছিলেন সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। উনি এখনো ছেলের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি। তাই কারও সঙ্গে কথা বলেন না। খেতেও চান না। কিন্তু দুঃসময় তো আর চিরকাল থাকে না। তাই এই ভয়ানক সময়ের মাঝেই এক মাস পর চেতন আইপিএলে দল পেয়ে যান।

১ কোটি ২০ লাখ রুপির সেই চুক্তিতে চেতন যেন আকাশের চাঁদ হাতে পান। তার পরিবার এখন নতুন দিনের স্বপ্ন দেখছে। ছোটবেলায় মামার স্টেশনারি দোকানে কাজ করত চেতন। পাঁচ বছর আগেও তাদের বাসায় টিভি ছিল না। বাবা অসুস্থ হওয়ার পর ক্রিকেট খেলার পাশাপাশি সংসারের সব ব্যায় একাই বহন করতেন চেতন। আইপিএল চুক্তিটা তাই তার পরিবারের কাছে বিশাল কিছু। চেতনের বুটজোড়াও ছিল কলকাতা নাইট রাইডার্সের সাবেক উইকেটকিপার শেলডন জ্যাকসনের দেওয়া। এখন তাদের ঘরে আনন্দ।