‘গোল্ডেন মনিরের’ বিরুদ্ধে র‍্যাবের ৩ মামলা

সোনা চোরাচালান ও হুন্ডি কারবার, জমি দখল ও জালিয়াতি, অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও বিদেশি মুদ্রা রাখার অভিযোগে রাজধানীর মেরুল বাড্ডা থেকে গ্রেপ্তার মনির হোসেন ওরফে ‘গোল্ডেন মনিরের’ বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করেছে র‍্যাব।

রাজধানীর বাড্ডা থানায় মামলা তিনটি দায়ের করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-৩।

বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পারভেজ ইসলাম আজ রবিবার (২২ নভেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ‘গোল্ডেন মনিরের’ বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ও অস্ত্র আইনে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেছে র‌্যাব।

তিন মামলায় আজ গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে মনিরকে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রতিটি মামলায় সাত দিন করে মোট ২১ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে বলেও জানান ওসি পারভেজ।

গত শুক্রবার (২০ নভেম্বর) রাতে মনিরের বাসায় অভিযান চালায় র‍্যাব। ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়ে চালানো র‌্যাবের ওই অভিযানে মনিরের বাসা থেকে বিদেশি পিস্তল, গুলি, মদ, বিদেশি মুদ্রাসহ বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ, অনুমোদনহীন গাড়ি, রাজউক ও ভূমি কর্মকর্তাদের জাল সিল, দলিলসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়। এ ছাড়া তাঁর মালিকানাধীন গাড়ির শোরুমেও অভিযান চালিয়ে অনুমোদনহীন গাড়ি জব্দ করা হয়।

র‌্যাব কর্মকর্তারা বলছেন, ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে প্রভাবশালী মন্ত্রী, গণপূর্ত ও রাজউক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে ভূমি জালিয়াতি শুরু করেন মনির। রাজউকের সরকারি প্লটের নথিপত্র চুরি ও জালিয়াতি করে পূর্বাচল, বাড্ডা, নিকুঞ্জ, উত্তরা ও কেরানীগঞ্জের ৩০টি স্থানে অন্তত ২০০টি প্লট দখলে নিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার রাত ১১টা থেকে মনিরের মেরুল বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্ট এলাকার ১৩ নম্বর রোডের ৪১ নম্বর বাড়িতে অভিযান শুরু করে র‌্যাব-৩।

গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অভিযান শেষে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, অভিযানের মূল কারণ ছিল অবৈধ অস্ত্র ও মাদক। মনিরকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর হেফাজত থেকে চার রাউন্ড গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল, চার লিটার বিদেশি মদ, ৬০০ ভরি সোনা (আট কেজি) জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা বিদেশি মুদ্রার মধ্যে আছে ২০ হাজার ৫০০ সৌদি রিয়াল, ৫০১ ইউএস ডলার, ৫০০ চায়নিজ ইয়েন, ৫২০ রুপি, এক হাজার সিঙ্গাপুরের ডলার, দুই লাখ ৮০ হাজার জাপানি ইয়েন, ৯২ মালয়েশিয়ান রিংগিত, হংকংয়ের ১০ ডলার, ১০ ইউএই দিরহাম, ৬৬০ থাই বাথ। এগুলোর মূল্যমান আট লাখ ২৭ হাজার ৭৬৬ টাকা। এ ছাড়া এক কোটি ৯ লাখ টাকা, অনুমোদনহীন দুটি বিলাসবহুল গাড়ি, রাজউক ও ভূমি কর্মকর্তাদের ৩২টি নকল সিল, জাল দলিলসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়। অটো কার সিলেকশন নামে তাঁর মালিকানাধীন গাড়ির শোরুম থেকেও তিনটি অনুমোদনহীন গাড়ি জব্দ করা হয়েছে।

মনির সম্পর্কে এই র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, মনির মূলত একজন হুন্ডি ব্যবসায়ী, সোনা চোরাকারবারি ও ভূমির দালাল। অটো কার সিলেকশন নামে তাঁর একটি গাড়ির শোরুম আছে। পাশাপাশি রাজধানীর গাউছিয়ায় একটি সোনার দোকানের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা তাঁর বাসা থেকে অনুমোদনবিহীন বিলাসবহুল দুটি বিদেশি গাড়ি জব্দ করেছি, যার প্রতিটির দাম প্রায় তিন কোটি টাকা। এর পাশাপাশি কার সিলেকশন শোরুম থেকেও আমরা তিনটি বিলাসবহুল অনুমোদনবিহীন গাড়ি জব্দ করেছি।’