গাজীপুর থেকে ঢাকায় ট্রেন চালুতে খুশি যাত্রীরা, বগি বাড়ানোর দাবি

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর সিটি করপোরেশনের চান্দনা চৌরাস্তা থেকে টঙ্গী পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার মহাসড়কে নিত্য যানজট ও দুর্ভোগ এড়াতে রবিবার সকাল থেকে গাজীপুর-ঢাকা রুটে তিনটি বিশেষ ট্রেন সার্ভিস চালু করেছে রেলওয়ে। এদিন সকালে তুরাগ এক্সপ্রেস উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এই বিশেষ ট্রেন চালু হয়। সকাল-বিকালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের যানজট এড়াতে অর্ধেক সিট খালি রেখে ট্রেনগুলো চলবে।

শুরুর দিন কিছুটা বিলম্বে ঢাকার উদ্দেশে প্রথম ছেড়ে গেলেও ট্রেন চালু করায় খুশি যাত্রীরা। তবে টিকিট ও বগির সংখ্যা বাড়ানোর দাবি তাদের।

তুরাগ, টাঙ্গাইল কমিউটার ও ডেমু ট্রেন চালুর উদ্বোধন উপলক্ষে সকালে জয়দেবপুর রেলওয়ে জংশনে গাজীপুর প্যাসেঞ্জারর্স কমিউিনিটির উদ্যোগে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এসময় গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কাজী আলিমউদ্দিন বুদ্দিন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. আনিছুর রহমান আরিফ, গাজীপুর মেট্রোপলিটন কলেজের অধ্যক্ষ মো. শরিফুল ইসলাম, গাজীপুর প্যাসেঞ্জারর্স কমিউিনিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শামসুল হকসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। এসময় বক্তারা তুরাগ ট্রেনের মাসিক টিকিট চালু, ট্রেনের বগির সংখ্যা বাড়ানো, গাজীপুরে বরাদ্দ টিকিকের সংখ্যা বাড়ানো, সব ট্রেন গাজীপুরে থামার, রেলওয়ে জংশনের পরিবেশ উন্নত করার দাবি জানান।

গাজীপুর প্যাসেঞ্জার কমিউনিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শামসুল হক জানান, যানজটে নাকাল গাজীপুরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এ ট্রেন সার্ভিস চালু হওয়ায় গাজীপুরবাসী রেলমন্ত্রী, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তিনি বলেন, তুরাগ ট্রেনটি গাজীপুর থেকে ঢাকায় গিয়ে সারা দিন বসে থাকে। এ ট্রেনটিকে সেখানে বসিয়ে না রেখে আরও কয়েকটি ট্রিপ দেওয়া গেলে অধিকসংখ্যক যাত্রী ঢাকায় স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারতো।

ট্রেন চালু প্রসঙ্গে গাজীপুরের জয়দেবপুর জংশন স্টেশনের মাস্টার মো. রেজাউল ইসলাম জানান, করোনা পরিস্থিতি ও লকডাউনের কারণে বন্ধ থাকা ট্রেনগুলোর মধ্যে রবিবার থেকে তুরাগ, কালিয়াকৈর ডেমু ও টাঙ্গাইল কমিউটার ট্রেন তিনটি চলাচল করবে। আজ (রবিবার) সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে তুরাগ ট্রেন ছেড়ে যায় ঢাকার উদ্দেশে। আর ঢাকা থেকে তুরাগ ছাড়বে বিকাল ৫টা ২০ মিনিটে। টাঙ্গাইল কমিউটার ট্রেনটি সকাল ৮টা ২০ মিনিটে গাজীপুর থেকে ছেড়ে যায়। এটি আবার ঢাকা থেকে ছেড়ে আসবে সন্ধ্যা ছয়টায়। আর কালিয়াকৈর ডেমু ট্রেন গাজীপুর ছেড়ে যাবে বিকাল ৫টা ৩০ মিনিটে। পরদিন ঢাকা থেকে ছাড়বে দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে।

রাজধানী ঢাকার পাশে গাজীপুর এবং উত্তরাঞ্চলসহ ৩৭টি জেলার যাত্রীদের ঢাকা প্রবেশের সময় চান্দনা চৌরাস্তা থেকে টঙ্গী ব্রিজ পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার সড়কে তীব্র যানজটে পড়তে হয়। এ অংশে বিআরটি প্রকল্পের উন্নয়নকাজ চলমান থাকায় আধা ঘণ্টার পথ অনেক সময় ৫-৬ ঘণ্টা লেগে যায়। অব্যাহত যানজটের কারণে মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনা করে এ তিনটি ট্রেন সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়।  গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলের প্রচেষ্টায় এ ট্রেন সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।