খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিতে চিকিৎসকদের লিখিত পরামর্শ

আগে নানাভাবে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে বললেও খালেদা জিয়ার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ড এই প্রথম লিখিতভাবে সরাসরি বলেছে, তাঁকে বিদেশে নিয়ে যাওয়া দরকার। গত ১৯ জুন হাসপাতাল থেকে দেওয়া ছাড়পত্রে ‘abroad’ শব্দটি যুক্ত করে তাঁর চিকিৎসকরা বিদেশে যাওয়ার এই পরামর্শের কথা লেখেন। খালেদা জিয়ার ওই ছাড়পত্র কালের কণ্ঠ’র হাতে এসেছে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৫৩ দিন চিকিৎসা শেষে গত ১৯ জুন বাসায় ফিরেছেন খালেদা জিয়া।

তবে বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো জানাচ্ছে, কয়েকবার চেষ্টা করা সত্ত্বেও চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি। বিষয়টি এখনো ঝুলে আছে। সরকারের দিক থেকে কোনো সংকেত না পাওয়া গেলে এ বিষয়ে কার্যকর কোনো ফলের আশা বিএনপিও আপাতত ছেড়ে দিয়েছে। তবে আড়ালে এ বিষয়ে এখনো কিছুটা তৎপরতা রয়েছে বলে ওই সূত্র থেকে দাবি করা হয়েছে। গত ২২ জুন বিএনপির স্থায়ী কমিটির পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য দাবি জানিয়ে রাখা হয়েছে।

তবে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক গত শুক্রবার জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যাপারে কোনো অগ্রগতির কথা তাঁর জানা নেই।

জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘চিকিৎসার জন্য ম্যাডামকে বিদেশে নেওয়ার ব্যাপারে কোনো অগ্রগতির কথা আমার জানা নেই। তবে আমরা তো চাই ওনার মতো একজন নেত্রীর চিকিৎসা বিদেশে হোক।’

খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম জানান, আসলে এখন আর কোনো উদ্যোগ নেই। চিঠি তো দেওয়াই আছে। তিনি বলেন, ‘কভিড পরিস্থিতি ছাড়াও সরকারও এ বিষয়ে আগ্রহী নয়। তাই এখন আমরা চেষ্টাও করছি না। ধরে নিচ্ছি সরকার আর দেবে না।’

বিএনপির সিনিয়র কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, তাঁরাও ধরে নিয়েছেন সরকার আর অনুমতি দেবে না। তা ছাড়া খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থাও আগের তুলনায় কিছুটা ভালো বলে তাঁরা মনে করেন। আবার খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যাপারে বাংলাদেশের চিকিৎসকরা যতটা গুরুত্ব দেবেন বিদেশে সেটি দেওয়া হবে কি না তা নিয়েও অনেকের সংশয় রয়েছে। তবে সব কিছুর পরও খালেদা জিয়ার পরিবার এখনো হাল ছাড়েনি বলে মনে করা হয়।

খালেদা জিয়ার ভাই শামীম এস্কান্দার বিদেশে থাকায় এ বিষয়ে তাঁর মতামত জানা সম্ভব হয়নি। চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে এর আগে গত মে মাসে শামীম এস্কান্দারই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিলেন, যা সরকার প্রত্যাখ্যান করেছে। করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় ওই সময় খালেদা জিয়া রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। ৫৩ দিন চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরলেও করোনা-পরবর্তী নানা জটিলতায় তিনি ভুগছেন বলে চিকিৎসকরা  জানিয়েছেন।

হাসপাতাল থেকে দেওয়া ছাড়পত্রে খালেদা জিয়ার কিডনি, লিভার ও হার্টের সমস্যার কথা উল্লেখ করার পাশাপাশি তাঁর আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস ও প্রেসারের (হাইপারটেনশন) কথা বলা হয়েছে। ১৯ জুন এক ব্রিফিংয়ে তাঁর চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার বিশেষ করে কিডনি ও লিভার বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এই চিকিৎসার টেকনোলজি বা ব্যবস্থা পুরোপুরি বাংলাদেশে নেই। পরে হাসপাতাল থেকে দেওয়া ছাড়পত্রে বলা হয়, বিদেশে এবং এমন একটি উচ্চতর কেন্দ্রে রোগীকে স্থানান্তর করা উচিত, যেখানে মাল্টিসিস্টেম ডিজিজ ম্যানেজমেন্টের জন্য অগ্রিম সুবিধা পাওয়া যায়।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের অন্যতম সদস্য, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কভিড-পরবর্তী জটিলতা ছাড়াও আগের যেসব রোগ রয়েছে, সব কিছু বিবেচনা করেই মেডিক্যাল বোর্ড ম্যাডামকে উন্নততর চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিয়ে যাওয়ার সুপারিশ করেছে।’