করোনায় মৃতের সংখ্যা ৬ হাজার ছাড়িয়েছে, সুস্থ ৩,৩১৬৯৭ জন

দেশে করোনাভাইরাস শনাক্তের ২৪০তম দিনে এই ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ৬ হাজার ছাড়িয়েছে।
গত ২৪ ঘন্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২১ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। গতকালের চেয়ে আজ ৪ জন বেশি মৃত্যুবরণ করেছেন। গতকাল মৃত্যুবরণ করেছেন ১৭ জন। এখন পর্যন্ত দেশে এ ভাইরাসে মৃত্যুবরণ করেছেন ৬ হাজার ৪ জন। করোনা শনাক্তের বিবেচনায় আজ মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৫ শতাংশ। গত ২৬ অক্টোবর থেকে মৃত্যুর একই হার বিদ্যমান রয়েছে।
আজ স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘন্টায় ১৩ হাজার ৯১৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১ হাজার ৫১৭ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। গতকালের চেয়ে আজ ১৪২ জন কম শনাক্ত হয়েছেন। গতকাল ১৪ হাজার ৬১ জনের নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছিলেন ১ হাজার ৬৫৯ জন। গত ২৪ ঘন্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১১ দশমিক ৯০ শতাংশ। আগের দিন এ হার ছিল ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ। আগের দিনের চেয়ে আজ শনাক্তের হার দশমিক ৯ শতাংশ কম।
দেশে এ পর্র্যন্ত মোট ২৩ লাখ ৮৯ হাজার ৬৭৭ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৪ লাখ ১৪ হাজার ১৬৪ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। মোট পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৭ দশমিক ৩৩ শতাংশ। গতকাল পর্যন্ত এই হার ছিল ১৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘন্টায় হাসপাতাল এবং বাসায় মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৯১০ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৩ লাখ ৩১ হাজার ৬৯৭ জন। আজ শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮০ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। আগের দিন এই হার ছিল ৭৯ দশমিক ৯২ শতাংশ। আগের দিনের চেয়ে আজ সুস্থতার হার শূন্য দশমিক ১৭ শতাংশ বেশি।
‘করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘন্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৪ হাজার ৩২৮ জনের। আগের দিন সংগ্রহ করা হয়েছিল ১৪ হাজার ৭৩২ জনের। গতকালের চেয়ে আজ ৪০৪টি নমুনা কম সংগ্রহ হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় দেশের ১১৪টি পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৩ হাজার ৯১৪ জনের। আগের দিন নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল ১৪ হাজার ৬১ জনের। গত ২৪ ঘন্টায় আগের দিনের চেয়ে ১৪৭টি কম নমুনা পরীক্ষা হয়েছে।
বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ভিত্তিতে প্রতি ১০ লাখে এ পর্যন্ত শনাক্ত ২৪৩১ দশমিক ৮৭ জন। সুস্থ হয়েছেন প্রতি ১০ লাখে এ পর্যন্ত ১৯৪৭ দশমিক ৬৫ জন এবং প্রতি ১০ লাখে মারা গেছেন এ পর্যন্ত ৩৫ দশমিক ২৫ জন।
২৪ ঘন্টায় মৃত্যুবরণকারী ২১ জনের মধ্যে পুরুষ ১৭ জন, আর নারী ৪ জন। এ পর্যন্ত পুরুষ মৃত্যুবরণ করেছেন ৪ হাজার ৬২১ জন, আর নারী মৃত্যুবরণ করেছেন ১ হাজার ৩৮৩ জন। শতকরা হিসেবে পুরুষ ৭৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ; নারী ২৩ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। ২৪ ঘন্টায় ২১ জনই হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন ।
গত ২৪ ঘন্টায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ২১ থেকে ৩০ বছরের ১ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের ৪ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের বছরের ২ জন এবং ষাটোর্ধ্ব রয়েছেন ১৪ জন। এখন পর্যন্ত মৃত্যুবরণকারীদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, শূন্য থেকে ১০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ২৯ জন; যা দশমিক ৪৮ শতাংশ। ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ৪৭ জন; যা দশমিক ৭৮ শতাংশ। ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ১৩৭ জন; যা ২ দশমিক ২৮ শতাংশ। ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ৩৩০ জন; যা ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ; ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ৭৪৬ জন; যা ১২ দশমিক ৪৩ শতাংশ। ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ১ হাজার ৫৮৩ জন; যা ২৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং ৬০ বছরের বেশি বয়সের রয়েছেন ৩ হাজার ১৩২ জন; যা ৫২ দশমিক ১৭ শতাংশ।
মৃত্যুবরণকারীদের বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২৪ ঘন্টায় ঢাকা বিভাগে ১২ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫ জন এবং খুলনা, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জন করে মৃত্যুবরণ করেছেন। এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণকারীদের বিশ্লেষণে ঢাকা বিভাগে মারা গেছেন ৩ হাজার ১৩১ জন; যা ৫২ দশমিক ১৫ শতাংশ। চট্টগ্রাম বিভাগে ১ হাজার ১৮৮ জন; যা ১৯ দশমিক ৭৯ শতাংশ। রাজশাহী বিভাগে ৩৭২ জন; যা ৬ দশমিক ২০ শতাংশ। খুলনা বিভাগে ৪৭৩ জন; যা ৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ। বরিশাল বিভাগে ২০১ জন; যা ৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ। সিলেট বিভাগে ২৫০ জন; যা ৪ দশমিক ১৬ শতাংশ। রংপুর বিভাগে ২৬৪ জন; যা ৪ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১২৫ জন; যা ২ দশমিক ০৮ শতাংশ।
ঢাকা মহানগরীতে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ৩ হাজার ৫১৯টি, সাধারণ শয্যায় ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৭৫৫ জন ও শয্যা খালি আছে ১ হাজার ৭৬৪টি। আইসিইউ শয্যা সংখ্যা ৩১৪টি, আইসিইউ শয্যায় ভর্তি রোগী আছে ১৮৮ জন ও শয্যা খালি আছে ১২৬টি। চট্টগ্রাম মহানগরীতে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ৮২৫টি, ভর্তিকৃত রোগী ১৪১ জন ও শয্যা খালি আছে ৬৮৪টি। আইসিইউ শয্যা সংখ্যা ৩৯টি, আইসিইউ শয্যায় ভর্তি আছে ১০ জন ও শয্যা খালি আছে ২৯টি। সারাদেশে অন্যান্য হাসপাতালে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ৭ হাজার ২৬৪টি, সাধারণ শয্যায় ভর্তিকৃত রোগী ৪৮৩ জন ও শয্যা খালি আছে ৬ হাজার ৭৮১টি এবং আইসিইউ শয্যা রয়েছে ২১১টি ও আইসিইউ শয্যায় ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ৬৫ জন ও শয্যা খালি আছে ১৪৬টি । সারাদেশে হাসপাতালে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ১১ হাজার ৬০৮টি, রোগী ভর্তি আছে ২ হাজার ৩৭৯ জন এবং শয্যা খালি আছে ৯ হাজার ২২৯টি। সারাদেশে আইসিইউ শয্যা সংখ্যা ৫৬৪টি, রোগী ভর্তি আছে ২৬৩ জন এবং খালি আছে ৩০১টি। সারাদেশে অক্সিজেন সিলিন্ডারের সংখ্যা ১৩ হাজার ৯৫টি। সারাদেশে হাই ফ্লো নেজাল ক্যানেলা সংখ্যা ৫৭৪টি এবং অক্সিজেন কনসেনট্রেটর ৩৬৩টি।
০১৩১৩-৭৯১১৩০, ০১৩১৩-৭৯১১৩৮, ০১৩১৩৭৯১১৩৯ এবং ০১৩১৩৭৯১১৪০ এই নম্বরগুলো থেকে হাসপাতালের সকল তথ্য পাওয়া যাবে। কোন হাসপাতালে কতটি শয্যা খালি আছে। কত রোগী ভর্তি ও কতজন ছাড় পেয়েছেন এবং আইসিইউ শয্যা খালি আছে কি না এই ফোন নম্বরগুলোতে ফোন করে জানা যাবে। এছাড়া িি.িফমযং.মড়া.নফ এর ঈঙজঙঘঅ কর্ণারে ‘করোনা বিষয়ক অভিযোগ প্রেরণ’ লিঙ্ক অথবা যঃঃঢ়:/ধঢ়ঢ়.ফমযং.মড়া.নফ/পড়ারফ১৯-পড়সঢ়ষধরহ লিঙ্ক ব্যবহার করে করোনা বিষয়ক যেকোন অভিযোগ পাঠানো যাবে।
গত ২৪ ঘন্টায় সুস্থ হওয়া ১ হাজার ৯১০ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে রয়েছেন ১ হাজার ৩২৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৬৯ জন, রংপুর বিভাগে ১৮ জন, খুলনা বিভাগে ৭৬ জন, বরিশাল বিভাগে ২১ জন, রাজশাহী বিভাগে ৩৬ জন, সিলেট বিভাগে ৬০ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ২ জন সুস্থ হয়েছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘন্টায় আইসোলেশনে যুক্ত হয়েছেন ১৬২ জন, আর ছাড় পেয়েছেন ১৫২ জন। এখন পর্যন্ত আইসোলেশনে যুক্ত হয়েছেন ৮৬ হাজার ৭২২ জন, আর ছাড় পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৬৬৭ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১২ হাজার ৫৫ জন।
গত ২৪ ঘন্টায় কোয়ারেন্টিনে যুক্ত হয়েছেন ৬৭২ জন, আর কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৭১৩ জন। এখন পর্যন্ত কোয়ারেন্টিনে যুক্ত হয়েছেন ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৩১৮ জন, আর এখন পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন ৫ লাখ ১৭ হাজার ৮৩৫ জন। বর্তমানে কোয়ারেন্টিনে আছেন ৩৯ হাজার ৪৮৩ জন।
দেশের বিমানবন্দর, নৌ, সমুদ্রবন্দর ও স্থলবন্দর দিয়ে গত ২৪ ঘন্টায় ৫ হাজার ৬২৯ জনসহ সর্বমোট বাংলাদেশে আগত ১১ লাখ ৩১ হাজার ৯০৭ জনকে স্কিনিং করা হয়েছে।
গত ২৪ ঘন্টায় স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ হটলাইন নম্বরে ফোনকল গ্রহণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৩৩৭টি এবং আইইডিসিআর’র হটলাইন ১০৬৫৫, এই নম্বরে ফোন এসেছে গত ২৪ ঘন্টায় ৩০৭টি। সব মিলিয়ে ২৪ ঘন্টায় ফোনকল গ্রহণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৬৪৪টি। এ পর্যন্ত হটলাইনে ফোনকল এসেছে ২ কোটি ২৩ লাখ ৭৮ হাজার ২৩৮টি।
কোভিড বিষয়ে হটলাইনে ২৪ ঘন্টায় ফোন করে স্বাস্থ্যসেবা নিয়েছেন ২ হাজার ৫৬১ জন, এবং এ পর্যন্ত ৫ লাখ ২১ হাজার ৪৬৯ জন।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পরিস্থিতি তুলে ধরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ৩ নভেম্বর পর্যন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৯৩ লাখ ৫২ হাজার ৩৭৫ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১ লাখ ৪৫ হাজার ৪৯১ জন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ৩ নভেম্বর পর্যন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী সারাবিশ্বে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৪ কোটি ৬৮ লাখ ৪০ হাজার ৭৮৩ জন এবং ১২ লাখ ৪ হাজার ২৮ জন মৃত্যুবরণ করেছেন।