অযোধ্যাকে আন্তর্জাতিক পর্যটন স্থল, স্মার্ট সিটি হিসেবে গড়ে তোলা হবে: মোদী

বছর ঘুরলেই ৫ রাজ্যের বিধানসভা ভোট। তালিকায় সবার উপরে রয়েছে নাম উত্তরপ্রদেশের নাম। গেরুয়া শিবিরের শক্ত ঘাটি। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে কেন্দ্রে ক্ষমতা ধরে রাখতে উত্তরপ্রদেশ বড় ফ্যাক্টর। এই আবহে অযোধ্যা এবং রাম মন্দির, আগামি বিধানসভা ভোটে বিজেপির তুরুপের তাস। শনিবার ভার্চুয়াল বৈঠকে তেমনটাই ইঙ্গিত দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অযোধ্যা যেন আমাদের সেরা ঐতিহ্য এবং আমাদের সেরা উন্নয়নমূলক পরিবর্তনের বার্তা বহন করে। এই শহর প্রত্যেক ভারতীয়র সাংস্কৃতিক চেতনার অঙ্গ। শহরের মানবিকতার সঙ্গে ভবিষ্যতের পরিকাঠামোর মেলবন্ধন করতে হবে। আমাদের ঐতিহ্যের খুঁটিনাটি এবং উন্নয়নমূলক পরিবর্তনের প্রতিফলন অযোধ্যার মাধ্যমে ঘটবে। এই শহরের মানব তত্ত্বের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে অত্যাধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। পর্যটক, তীর্থযাত্রী থেকে সকলেই এর সুফল ভোগ করবেন।

অযোধ্যাকে একটি আধ্যাত্মিক কেন্দ্র, আন্তর্জাতিক পর্যটন স্থল এবং স্থিতিশীল স্মার্ট সিটির মধ্যে দিয়ে উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। অযোধ্যার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে বিভিন্ন পরিকাঠামোগত প্রকল্পের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অবগত করা হয়। বিমানবন্দর, রেল স্টেশনের সম্প্রসারণ, বাসস্ট্যান্ড, সড়ক ও মহাসড়কের মতো বিভিন্ন পরিকাঠামো প্রকল্প উন্নত করতে হবে।

তীর্থযাত্রীদের থাকার ব্যবস্থা, আশ্রম, মঠ, হোটেল এবং বিভিন্ন রাজ্যের ভবন তৈরির জন্য স্থান নির্বাচন সহ একটি গ্রীনফিল্ড টাউনশিপ গড়ে তুলতে হবে। এছাড়াও পর্যটকদের সুবিধার জন্য পর্যটন কেন্দ্র, আন্তর্জাতিক মানের সংগ্রহশালাও অযোধ্যায় গড়ে তোলা হবে।

সরযু নদী এবং তার ঘাটগুলির উন্নয়নের জন্য বিশেষ পরিকাঠামো নির্মাণের বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। সরযু নদীতে নিয়মিত নৌকা বিহারের ব্যবস্থা করা হবে। সাইকেল চালক এবং পথচারিদের জন্য যথেষ্ট জায়গার ব্যবস্থা করা হবে। স্মার্ট সিটি পরিকাঠামো ব্যবহার করে অত্যাধুনিক যানবাহন ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই শহরকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মনে করে জীবনে অন্তত একবার অযোধ্যা যাওয়া প্রয়োজন। অদূর ভবিষ্যতে অযোধ্যার উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডকে বজায় রাখতে হবে। অযোধ্যায় যে কর্মতৎপতা শুরু হয়েছে তার মধ্য দিয়ে পরবর্তী উন্নয়নমূলক উদ্যোগ এখনই শুরু করতে হবে। অযোধ্যার পরিচয় তুলে ধরার জন্য আমাদের সমষ্টিগতভাবে উদ্যোগী হতে হবে। এই স্থানের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে উদ্ভাবনমূলক উপায়ে প্রকাশ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভগবান রামের সব মানুষকে একজোট করার ক্ষমতা ছিল। অযোধ্যার উন্নয়নমূলক কাজে স্বাস্থ্যকর জন অংশীদারিত্বের প্রয়োজন, বিশেষ করে যুব সম্প্রদায়কে একাজে যুক্ত করতে হবে। শহরের উন্নয়নে আমাদের মেধাবী যুব সম্প্রদায়ের দক্ষতাকে কাজে লাগাতে হবে।

এদিনের বৈঠকে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, দুই উপ-মুখ্যমন্ত্রী শ্রী কেশব প্রসাদ মৌর্য এবং শ্রী দীনেশ শর্মা-সহ উত্তপ্রদেশের বিভিন্ন দপ্তের মুখ্যমন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।