অতি ক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা খারাপ অবস্থায় আছেন, তাদের জন্য প্রণোদনা প্যাকেজ চাই

প্রস্তাবিত বাজেটে ২০ শতাংশ পর্যন্ত সর্বোচ্চ অগ্রিম আয়কর বা এআইটি আরোপ করায় ব্যবসা-বাণিজ্যে অচলাবস্থার সৃষ্টি হবে বলে মনে করেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন।

তিনি বলেন, এটা অত্যন্ত বেআইনি। আমরা শতভাগ মওকুফ চাই। কারণ, অগ্রিম আয়কর ব্যবসায়িক খরচ বাড়িয়ে দেয়। তাই প্রচলিত ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার চেয়েছি। অথচ বাজেটে ২০ শতাংশ পর্যন্ত অগ্রিম আয়কর আরোপ করা হয়েছে। তারমতে, সকল প্রকার উৎস কর ও অগ্রীম কর চূড়ান্ত কর হিসেবে সমন্বয় করা জরুরি।

আজ শনিবার মতিঝিলের ফেডারেশন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দেয়া লিখিত বক্তব্যে এ সব কথা বলেন তিনি। এসময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু, সহ-সভাপতি এম এ মোমেন, আমিন হেলালী, হাবিব উল্লাহ ডন, সালাউদ্দিন আলমগীর, এম.এ. রাজ্জাক খান, ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান, মেট্টোপলিটন চেম্বারের সভাপতি ব্যারিস্টার নিহাদ কবির প্রমুখ।

এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বলেন, অপ্রদর্শিত অর্থের বিনিয়োগ উৎপাদনশীল খাতে চাই। তবে ঢালাওভাবে সারাজীবনের জন্য নয়। এই ধরনের অর্থ মূলস্রোতে আনতে একটা নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা প্রয়োজন। তারমতে, সরকার ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনার প্যাকেজ দিলেও, এখন পর্যন্ত ২৮ শতাংশ বিতরণ হয়নি। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা যাতে ব্যাংকের কাছে ঋণ পান, সেজন্যে সরকারও তাদের পাশে দাঁড়াতে চায়। কিন্ত ক্ষুদ্র ও অতি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য দেওয়া প্রণোদনা সারাদেশের ব্যবসায়ীদের কছে পৌঁছায়নি। এফবিসিসিআই সারাদেশের চেম্বারগুলোকে ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ঋণ প্রদানে কাজ করবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও অতি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য আরেকটি প্রণোদনা প্যাকেজ চাই। কারণ- অতি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা খারাপ অবস্থায় আছে।

প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি দেশীয় শিল্প সুরক্ষার ওপর জোর দিয়ে বলেন, করোনা মহামারিতে আমরা এখন বাঁচা-মরার লড়াইয়ে আছি। এমন সময় রাজস্ব আদায়ে কোন চাপ দেওয়া যাবে না। ভ্যাট আদায়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড- এনবিআর যে ইলেক্ট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস- ইএফডি দিচ্ছে, তা সকলকে দিতে হবে। এখানে সরকারের বিনিয়োগ লাগবে। ব্যবসাযীরা সহজভাবে কর দিতে চান।

এফবিসিসিআই সভাপতি লিখিত বক্তব্যে বলেন, এখন সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন ধরনের কাজে করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর- টিআইএন ব্যবহার করা হয়। এর পাশাপাশি ট্যাক্স পেমেন্টের প্রমাণ বা ডকুমেন্ট বাধ্যতামূলক করতে হবে। যাতে করে সক্ষম কর প্রদানকারীরা রাজস্ব প্রদানে এগিয়ে আসেন এবং নিয়মিত কর প্রদানকারীদের উপর চাপ কমে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি মেটাতে সরকারকে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকার অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে নিতে হবে। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নিতে হবে ৭৬ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা এবং সেভিংস সার্টিফিকেট থেকে ৩২ হাজার কোটি টাকা। তবে ঘাটতি মেটাতে স্থানীয় ব্যাংক ব্যবস্থার পরিবর্তে যথাসম্ভব স্বল্প সুদে বিশেষ স্থানীয় বন্ড এবং  বৈদেশিক উৎস হতে অর্থায়নের প্রচেষ্টা নেয়ার অনুরোধ করছি।

জসিম উদ্দিন বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানী, যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে বাজেটে যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তা বিনিয়োগ, শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থান প্রক্রিয়াকে গতিশীল করবে। এ সকল অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপ (পিপিপি) আরও ভূমিকা রাখবে। পিপিপি’র উপর বিশেষ নজর দেয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। কারণ- পিপিপিতে ভালো কিছু হয়নি। এখানে ভালো কাজ করতে নজর দিতে হবে।

বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় বাজেটে বেশকিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসএমই খাতের নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বার্ষিক টার্নওভার ৫০ লাখ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত করমুক্ত রাখা হয়েছে। দেশীয় মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প এবং গবাদি পশু খামারীদের প্রতিরক্ষণে প্রক্রিয়াজাত মাংস আমদানিতে নতুন করে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। এ উদ্যোগ স্থানীয় গবাদি পশু খামারিদের সুরক্ষা দিবে। এখানে কর আরও বাড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে।

এফসিসিআই সভাপতি বলেন, নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি এবং নৌ-পরিবহন সহজলভ্য করতে এবং সরকারের ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে ড্রেজিং-এর জন্য ব্যবহৃত কাটার সেকশন ড্রেজার-কে ক্যাপিটাল মেশিনারী হিসেবে ১ শতাংশ শুল্কে আমদানির সুযোগ দেয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। এতে সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজ হবে। কারণ- এটা মূলধনী যন্ত্রপাতি। তাই মূলধনী যন্ত্রপাতির শুল্ক-কর ৩১ শতাংশ হতে পারে না।